বিশ্বকাপে গ্রুপ এল-এর শেষ ম্যাচে পানামাকে ২-০-য় হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষে দলের পারফরম্যান্সে স্বাভাবিক ভাবেই সন্তুষ্ট কোচ থমাস টুখেল। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়ে দেন, তাঁর দল ঠিক যেটা প্রয়োজন ছিল, সেটাই করেছে।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে টুখেল বলেন, “যা করার ছিল, আমরা সেটাই করেছি। ম্যাচটা যেমন হবে বলে আশা করেছিলাম, ঠিক তেমনই হয়েছে। শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই ছিল। ওদের বিরুদ্ধে গোল করা সহজ নয়। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে আমরাই একমাত্র দল, যারা এতগুলো সুযোগ তৈরি করে দু’টি গোল করতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা খুবই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছি। একই সঙ্গে ওদের পাল্টা আক্রমণ নিয়েও সতর্ক থাকতে হয়েছে। আমাদেরই জেতার কথা ছিল। তবে এই জয় পেতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।”
রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপে যে পানামাকে ৬-১-এ হারিয়েছিল ইংল্যান্ড, সেই পানামার বিরুদ্ধে এই ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের রং বদলে দেন জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেন। প্রথমে বেলিংহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। ৬২ মিনিটে বুকায়ো সাকার নেওয়া কর্নার থেকে আসা বল পেয়ে প্রথমে নিজের মার্কারকে ধোঁকা দেন এবং দুর্দান্ত এক ভলিতে জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
এর পাঁচ মিনিট পর ইংল্যান্ডের ১০ নম্বর জার্সির মালিক সেই বেলিংহ্যামই নিখুঁত ক্রস বাড়িয়ে দেন হ্যারি কেনের উদ্দেশে। সেই বল হেড করে বিশ্বকাপে নিজের ১১তম গোলটি করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এর ফলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক ১০ গোলের রেকর্ডধারী গ্যারি লিনেকারকে ছাপিয়ে যান কেন।
টুখেল মনে করেন, নকআউট পর্বে উঠলে তাঁর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ম্যাচ যত বড় হবে, আমরাও তত শক্তিশালী হয়ে উঠব।” তবে জয়ের আনন্দের মাঝেও কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে ইংল্যান্ড শিবিরে। ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা গোড়ালিতে চোট পেয়েছেন। নকআউট পর্বের ম্যাচে তাঁর খেলা এখনও অনিশ্চিত।
এই জয়ের ফলে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এল-এর শীর্ষস্থান দখল করল ইংল্যান্ড। নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কঙ্গো। আত্মবিশ্বাসী টুখেলের বিশ্বাস, বিশ্বকাপ যত এগোবে, তাঁর দলের পারফরম্যান্সও তত উন্নত হবে।
অন্যদিকে, পেতার সুচিচ এবং নিকোলা ভ্লাসিচের গোলে ভর করে ঘানাকে হারিয়ে গ্রুপ এল-এ দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ক্রোয়েশিয়া। এর ফলে আগেই নকআউট নিশ্চিত করা ব্ল্যাক স্টারদের টপকে গেল স্লাতকো দালিচের দল। ড্র করলেও সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সুযোগ ছিল ক্রোয়েশিয়ার। কিন্তু তাঁরা জয়ের মেজাজেই পুরো ম্যাচ খেলে এবং জেতেও। দ্বিতীয়ার্ধে ঘানার একমাত্র গোলটি করেন ডেরিক লুকাসেন। নক আউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাদের খেলতে হবে পর্তুগালের বিরুদ্ধে।