‘বিশ্বের যে কোনও দলের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা আছে ব্রাজিলের’, বিশ্বকাপে নামার আগে হুঁশিয়ারি কোচ আনসেলোত্তি

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল মানেই খেতাবের অন্যতম দাবিদার। তবে গত ২৪ বছরে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে দলের দায়িত্ব নিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের আশার আলো দেখিয়েছেন কোচ কার্লোস আনসেলোত্তি। মরক্কোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে ব্রাজিলের শক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসের সুরই শোনা গেল ইতালীয় কিংবদন্তি কোচের গলায়।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আনসেলোত্তি বলেন, ‘আমাদের হাতে এমন দল আছে, যারা বিশ্বের যে কোনও দলের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিতে পারে। এ ব্যাপারে আমরা পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। এটি এমন একটি দল, যার মধ্যে যেমন উঁচু মানের খেলোয়াড় রয়েছে, তেমনই রয়েছে অভিজ্ঞতা। সবচেয়ে বড় কথা, যে কোনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতা এই দলের আছে’।

তবে বিশ্বকাপে কোনও দলকেই হালকাভাবে নিতে নারাজ তিনি। আনসেলোত্তির মতে, এবারের টুর্নামেন্টে শক্তির ভারসাম্য অনেক বেশি। তাঁর কথায়, ‘এবারের বিশ্বকাপ অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও ভারসাম্যযুক্ত হবে।’ ব্রাজিলের প্রথম প্রতিপক্ষ মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। তাই প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করছেন ব্রাজিল কোচ। আনসেলোত্তি বলেন, ‘ আধুনিক ফুটবলে কোনও ছোট দল বলে কিছু নেই। মরক্কো আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল। তাদের বিরুদ্ধে সফল হতে হলে আমাদের প্রতিটি বিভাগে সেরা পারফরম্যান্স দিতে হবে।’


ম্যাচের আগে চাপ ও প্রত্যাশার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি একটু অন্য ধরনের ব্যাখ্যা দেন। তাঁর মতে, চাপ সব সময় নেতিবাচক নয়। ‘একটু ভয় বা চাপ দলকে সব সময় সতর্ক ও মনোযোগী থাকতে সাহায্য করবে,’ মন্তব্য করেন ব্রাজিল কোচ। তাঁর মতে, ‘ভয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।কারও মধ্যে যদি ভয় না থাকে এবং কেউ যদি অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়ে, তাহলে সে হয়তো একটি সিংহকে দেখে তাকে বিড়াল বলে মনে করবে। ভয় আপনার জীবন বাঁচাতে পারে। তাই সব সময় সতর্ক ও মনোযোগী থাকা ভালো, যাতে আপনার দল একটি দুর্দান্ত ম্যাচ খেলতে পারে এবং অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা না পড়ে।’

একইসঙ্গে দলের প্রস্তুতি নিয়েও আশাবাদী তিনি। আনসেলোত্তির দাবি, ‘আমি স্বভাবগতভাবেই আশাবাদী মানুষ এবং আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। আগামীকালের ম্যাচে ভালো খেলার জন্য এবং একটি সফল বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার জন্য আমরা যথেষ্ট প্রস্তুত।’

ব্রাজিলের কোচ হতে পেরে খুশি আনসেলোত্তি বলেন, ‘ফুটবলের আঁতুড়ঘর এবং বিশ্বের সবচেয়ে সফল জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব ও সম্মান পাওয়ায় আমি খুশি। দুটি বিষয় এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— দায়িত্ব এবং সম্মান। এটি আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা, তবে নিঃসন্দেহে খুবই বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা। আমি এই মুহূর্তগুলো আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করতে চাই, কারণ এটি আমার জীবনের এক অসাধারণ অধ্যায়’।

গ্রুপ পর্বে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতির সঙ্গে রয়েছে ব্রাজিল। গ্রুপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে অভিযান শুরু করলেও আনসেলোত্তির কথায় স্পষ্ট, আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সতর্কতাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সেলিসাও শিবির। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলকে আবারও খেতাবের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।