জয়ের কাছাকাছি যাওয়া সত্ত্বেও ভারতকে থামিয়ে দিলেন তিনি। পঞ্চম দিনে টেল এন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে লড়াই করে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনলেন সোনাল দিনুশা। তাঁর অপরাজিত সেঞ্চুরির সৌজন্যে কলম্বো টেস্ট ড্র করে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ এড়াল শ্রীলঙ্কা। দুই টেস্টের সিরিজে তিনটি শতরান করে নজিরও গড়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে ব্যক্তিগত কীর্তির চেয়ে দলের বিপদের সময় রান করাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের বিরুদ্ধে দুই টেস্টে তিনটি শতরান—শ্রীলঙ্কার হয়ে মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসাবে এই কীর্তি গড়েছেন দিনুশা। ব্যক্তিগত নজিরে খুশি তিনি। কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যা আরও সরল। ‘ব্যক্তিগত ভাবে আমি খুব খুশি। কিন্তু দলের যখন খারাপ সময় যাচ্ছিল, তখন আমি দলের জন্য রান করতে চেয়েছিলাম। এটাই আমি করার চেষ্টা করেছি। দিনের শেষে খুব ভাল লাগছে।’
কলম্বো টেস্টে ভারতের জয় কার্যত নিশ্চিত মনে হলেও দিনুশার ব্যাটেই বদলে যায় ছবিটা। ফলো-অন করেও ম্যাচ বাঁচায় শ্রীলঙ্কা। আর সেই লড়াইয়ে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন দিনুশা। বুঝিয়ে দেন—ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়েও দলের কঠিন সময়ে দাঁড়ানোই তাঁর কাছে আসল সাফল্য।
ভারতের বিরুদ্ধে দুই টেস্টে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মোট ৪২০ রান। এমন পারফরম্যান্সকে কী ভাবে দেখছেন? এই প্রশ্নে দিনুশার উত্তর, ‘হ্যাঁ, দুর্দান্ত অনুভূতি। আমি মনে করি এটা সৌভাগ্যের বিষয়। ভারতের বিরুদ্ধে রান করতে পারা একজন ক্রিকেটার হিসাবে আনন্দের।’
কলম্বোর উইকেট যে ঘুরতে পারে, তা আগে থেকেই আঁচ করেছিলেন দিনুশা। সেই মতো প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। বললেন, ‘এখানে উইকেট ঘুরবে, সেটা আমার মাথায় ছিল। তাই মাঠে কিছু ভাল মানের প্র্যাকটিস সেশনও করেছি। এটাই আমাকে রান করতে সাহায্য করেছে।’
পঞ্চম দিনে তাঁর লড়াইটা সহজ ছিল না। এক দিকে ভারতের বোলারদের চাপ, অন্য দিকে টেল এন্ডারদের নিয়ে ইনিংস টেনে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেই টেল এন্ডারদেরই কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না দিনুশা। তাঁর কথায়, ‘বিশেষ করে টেল এন্ডারদের কথা বলতে চাই। ওরা সত্যিই খুব ভাল ব্যাট করেছে। ওদের সাহায্যেই আমি রান করতে পেরেছি। আমি পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা করেছি এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
তাঁর প্রস্তুতির নেপথ্যে থাকা মানুষগুলিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ২৫ বছর বয়সি ব্যাটার বলেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই, এখানে রান করতে আমাকে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদের কথা। আমাদের কোচিং স্টাফকে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতেই হবে। ওঁরা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। আমার স্কুলের কোচ, আঞ্চলিক দলের কোচ, পরিবার এবং বন্ধুরাও আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছেন।’