বিশ্বকাপে দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে রাতারাতি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। কিন্তু বিশ্বকাপের নায়ক নতুন ক্লাবে যোগ দিয়েই পড়লেন এক অদ্ভুত সমস্যায়। চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলো-তে সই করলেও, নিজের পরিচিত নাম ‘ভোজিনহা’ আর জার্সিতে লিখতে পারবেন না তিনি!
কিন্তু কেন এমন বিপাকে পড়লেন ভোজনহা? আসলে চিলির ফুটবল সংস্থার এক কঠোর নিয়মের ফাঁসে আটকে গিয়েছেন তিনি। কী সেই নিয়ম? তাদের শর্ত, কোনো ফুটবলার জার্সির পিছনে তার ডাকনাম বা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারবে না। সেখানে শুধুমাত্র সরকারি নথিতে থাকা পদবিই ব্যবহার করা যাবে।
ফলে গোটা ফুটবল দুনিয়া যাঁকে ‘ভোজিনহা’ নামে চেনে, তাঁকে এই জনপ্রিয় নাম কার্যত জলাঞ্জলী দিয়েই চিলির ক্লাব ফুটবলে নামতে হবে। এখন তাঁকে নিজের আসল নাম জোসিমার এভোরা ডায়াস-এর কোনও অংশ—’এভোরা’, ‘ডায়াস’ বা ‘এভোরা ডায়াস’—জার্সিতে ব্যবহার করতে হবে।
এই নিয়মে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে কোলো-কোলো। বিশ্বকাপে ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। স্পেনের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য গোলকিপিংয়ের পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ক্লাবের আশা ছিল, ‘VOZINHA’ লেখা জার্সি বাজারে এনে বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য পাবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় আপাতত জল ঢেলে দিয়েছে লিগের এই নিয়ম।
অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে, ৪০ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপে কেপ ভার্দেকে ইতিহাস গড়তে সাহায্য করেছিলেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে সারা দুনিয়ার নজরে চলে আসে আফ্রিকার ছোট দেশটি। পরে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটেও ওঠে তারা। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে হারলেও ভোজিনহার লড়াকু পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নেয়।
কিন্তু মজার বিষয় হল, ‘ভোজিনহা’ তাঁর আসল নাম নয়। ছোটবেলা থেকে এই ডাকনামেই পরিচিত তিনি এবং পুরো পেশাদার কেরিয়ার জুড়েই জার্সিতে এই নাম ব্যবহার করেছেন। কিন্তু চিলির ক্লাব ফুটবলের নিয়মের জেরে এখন সেই পরিচয়ই হারাতে বসেছেন তিনি।
তবে কোলো-কোলো হাল ছাড়েনি। ক্লাব ইতিমধ্যেই চিলির ফুটবল সংস্থার কাছে বিশেষ অনুমতির আবেদন করেছে, যাতে ভোজিনহা তাঁর পরিচিত নামই জার্সিতে রাখতে পারেন। এখন দেখার, নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে বিশ্ব ফুটবলের এই নতুন নায়ক নিজের পরিচিত নাম ফিরে পান কি না।