রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচের আগে নেটে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিরাট কোহলি। সাইড লাইনের পাশে টেলিভিশনের পর্দায় হঠাৎই নজর যায় বিরাট কোহলির। থমকে যান তিনি। গত রবিবার চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে চিপকে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ব্যাট হাতে উর্বিল প্যাটেল ঝড় তুলছিলেন। সেই খেলা দেখার জন্য নিজেকে অনুশীলন থেকে সরিয়ে রেখে উর্বিলের খেলা দেখতে টিভির পর্দায় চোখ রাখলেন বিরাট কোহলি। তিনি লখনউ দলের বিরুদ্ধে দুরন্ত ম্যাচ খেললেন। শুধু তাই নয়, ২৩ বলে ৬৫ রান করে সবার নজর কেড়ে নেন। পাশাপাশি বলতে হয়, মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতরান করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন। প্রথম আট বলে ছ’টি ছক্কা মারেন উর্বিল। আট বলের শেষে তাঁর রান গিয়ে দাঁড়ায় ৪১। যা আইপিএল ক্রিকেটের ইতিহাসে নজির। আর উর্বিলের ব্যাটে ভর করে চেন্নাই এই ম্যাচটা জিতে নেয়।
চিপক থেকে ১১০০ কিলোমিটার দূরে ছত্তীসগড়ের রায়পুরে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল বেঙ্গালুরুর। উর্বিল যখন একের পর এক ছক্কা মারছেন, তখন অনুশীলন করছিলেন কোহলি। হঠাৎ দেখা যায়, একটি জলের বোতল হাতে নিয়ে টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। বেশ কিছু ক্ষণ সেখানেই থাকেন কোহলি। উর্বিলের ইনিংস দেখেন। কোহলিকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, যে ভাবে অবলীলায় উর্বিল ছক্কা মারছিলেন, তা দেখে অবাক হচ্ছেন তিনি।
অর্ধশতরানের পর পকেট থেকে একটি চিরকুট বার করেন উর্বিল। তাতে লেখা, ‘বাবা, এটা তোমার জন্য।’ পেশায় স্কুলশিক্ষক মুকেশ পটেলের স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হবেন। হতে পারেননি। স্কুল শারীরবিদ্যার শিক্ষক ছিলেন। ছোট থেকেই উর্বিলের খেলার দিকে তাঁর নজর ছিল। ছেলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন মুকেশ। সেই কারণেই আইপিএলে রেকর্ড গড়ে সেই বাবাকেই তা উৎসর্গ করেছেন উর্বিল।
গুজরাতের পালানপুরে জন্ম নেওয়া উর্বিল ছোট থেকেই বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নজর কাড়তে শুরু করেন। এই শহর বিখ্যাত হিরের জন্য। সেখান থেকে ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন হিরে উঠে এল। উর্বিলের ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু বরোদার হয়ে। ২০১৬-১৭ সালে আঞ্চলিক টি-টোয়েন্টি লিগ খেলে শুরু তাঁর। ২০১৭-১৮ সালে বরোদার হয়েই বিজয় হজারে ট্রফি খেলেন তিনি।
২০১৮-১৯ মরসুমে বরোদা থেকে গুজরাতে চলে যান উর্বিল। ২০২৪ সালে গুজরাতের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। অবশ্য তার আগের বছর ২০২৩ সালে লিস্ট এ ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম শতরান করেন তিনি।