একদিকে শুভমান গিলের দশ নম্বর ওয়ান ডে সেঞ্চুরি, অন্য দিকে বিরাট কোহলির সেঞ্চুরি এবং ১৫ হাজার রানের ক্লাবে ঢুকে পড়া। রবিবারের গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়াম জমজমাট হয়ে উঠল এই দুই তারকার তাণ্ডবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে-তে ২৯৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে এই দুই তারকা ব্যাটারের তোলা ঝড়েই চাপে পড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রবিবার তিরুবনন্তপুরনের গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়ামে অসাধারণ ব্যাটিং করেন শুভমান ও বিরাট। তাঁদের দাপটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রায় তিনশোর কাছাকাছি রান তুলেও হার বাঁচানোর লড়াই করতে বাধ্য হয় ক্যারিবিয়ানরা।
এ দিন ৫৯ রান করলেই একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজার ওয়ানডে রানের ক্লাবে ঢুকে পড়ার সুযোগ ছিল কোহলির সামনে। সেই সুযোগ ভরপুর কাজে লাগান প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। এ দিন ভারতের ইনিংসের ২৯তম ওভারে আলজারি জোসেফের বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে ১৫ হাজার ওয়ান ডে রানের ক্লাবে ঢুকে পড়েন কোহলি। এই ক্লাবে শচীন তেন্ডুলকরের পর মাত্র দ্বিতীয় সদস্য তিনি। সেই মাইলফলক স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুততম ১৫ হাজার ওয়ানডে রানের রেকর্ডও তাঁর দখলে চলে এল। এরপরে ৩৭ তম ওভারে ৬ হাঁকিয়ে গুডাকেশ মোতির বল সোজা গ্যালারিতে পাঠিয়ে শতরান পূর্ণ করেন।
এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত ৩১৪টি ওয়ানডেতে কোহলির রান ছিল ১৪,৯৪১। ছিল ৫৪টি শতরান এবং ৭৯টি অর্ধশতরান। এ বার মোট ওয়ান ডে রানের সংখ্যা ১৫ হাজারের গণ্ডীও পেরিয়ে গেল।
এর এক ওভার পরেই জেইডেন সিলসকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শুভমান গিল। ১১ রানের মাথায় তাঁর ক্যাচ ফেলেন কিমো। সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই নিয়ে দশ নম্বর সেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০৮ বলে ১১০ রান করে চেজের বলেই অ্যান্ড্রু জুয়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ভারত অধিনায়ক ১৩টি চার ও একটি ছয় হাঁকান এই ইনিংসে। কোহলির সঙ্গে দেড়শো রানের পার্টনারশিপও গড়েন তিনি। যখন আউট হন শুভমান, তখন ভারত জয় থেকে আর ৭১ রান দূরে এবং কোহলি তাঁর সেঞ্চুরি থেকে আর ১৯ রান দূরে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া জয়ের জন্য ২৯৬ রানের লক্ষ্য পূরণের দিকে অনায়াসে এগোয় ভারত। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা দেখে মনে হয়েছিল, তিনশো পেরিয়ে আরও বড় রান তুলবে তারা। ১৯.২ ওভারে ১৩৫ রানের ওপেনিং জুটি। তার পর জাস্টিন গ্রিভসের দুরন্ত সেঞ্চুরি। কিন্তু মাঝের ওভারগুলিতে কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণিই বদলে দেয় ম্যাচের ছবি। তিরুবনন্তপুরমে প্রথম এক দিনের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৯৫/৭ রানে আটকে রাখে ভারত।
জয়ের জন্য ২৯৬ রানের লক্ষ্যে নেমে ভারত প্রথমে দশ ওভারে ৭০ রান তোলে কোনো উইকেট না হারিয়ে। কিন্তু ১২ নম্বর ওভারে রোহিত শর্মা আলজারি জোসেফের বলে ডিপ মিড উইকেটে জুয়েল অ্যান্ড্রুকে ক্যাচ দিয়ে যখন ফিরে যান, তখন তাঁর রান ৩২। দুটি চার ও তিনটি ছয় হাঁকিয়ে এই রান তোলেন তিনি। রোহিতকে ফেরানোর ওভারে কোনো রান দেননি জোসেফ।
শুভমানের সঙ্গে উইকেটে যোগ দেন বিরাট কোহলি এবং ভারত একশোয় পৌঁছয় ১৬ ওভারে। পরের ওভারেই হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শুভমান। উইনস্টন চেজের একটি গুডলেংথ বলে ফ্লিক করে রান নিয়ে ২১তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে পৌঁছন ভারত অধিনায়ক। এই খবর লেখার সময় ভারত জয়ের অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
এ দিন টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম ওয়ান ডে সেঞ্চুরি করেন গ্রিভস। ১০৮ বলে ১০১ রান করেন তিনি, হাঁকিয়েছেন ১২টি চার। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন জন ক্যাম্পবেল। ৬০ বলে ৬২ রান করে প্রথম উইকেটে ১৩৫ রান যোগ করেন তিনি। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই জুটিই ভারতের কাজ কঠিন করে তুলবে।
কিন্তু সেই জায়গা থেকেই ম্যাচে ফেরে ভারত। অসাধারণ বোলিং করেন কুলদীপ। ১০ ওভারে মাত্র ৪০ রান দিয়ে তুলে নেন চার উইকেট।প্রথমে ক্যাম্পবেলকে ভুল শট খেলতে বাধ্য করেন এবং মিড-অনে প্রসিধ কৃষ্ণার হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপকেও ফিরিয়ে দেন কুলদীপ। সেঞ্চুরিয়ান গ্রিভস এবং জুয়েল অ্যান্ড্রুকে পর পর দু’বলে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি চায়নাম্যান বোলার। মাত্র ৩৪ বলের ব্যবধানে ১৭৬/১ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়ে যায় ১৯৮/৫।
মিডল অর্ডার ভেঙে পড়লেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনশোর কাছাকাছি নিয়ে যান আমির জাঙ্গু। মাত্র ৪৩ বলে তিনি ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার এবং দু’টি ছয়। রস্টন চেজের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৪৮ এবং ম্যাথিউ ফোর্ডের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৩৮ রান যোগ করেন জাঙ্গু।
৩৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জাঙ্গু। গুরনুর ব্রারের বলে তাঁর ওভার বাউন্ডারি ছিল চোখে পড়ার মতো। কাউ কর্নারের উপর দিয়ে কব্জির মোচড়ে বল পাঠিয়ে দেন গ্যালারিতে। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের হয়ে কুলদীপের চার উইকেটের পাশাপাশি প্রসিধ কৃষ্ণা নেন দু’টি। নীতীশ কুমার রেড্ডি পান একটি উইকেট। বুমরাহ ও অর্শদীপ এশিয়ান গেমসে থাকায় ভারতের বোলিং আক্রমণে অভিজ্ঞতার ঘাটতিও চোখে পড়ে।