শেষ মুহূর্তে রায়ানের গোলে বাঁচলেন ভিনিসিয়াসরা, ইরানকুন্ডার দুরন্ত গোলের পরও অস্ট্রেলিয়ার জয় অধরা

Ryan Goal Photo-SNS

শেষ মুহূর্তের গোলে মান বাঁচাল ব্রাজিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করল তারা। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে ছিল কার্লো আনসেলোত্তির দল। কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাঙ্ক স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকেরা যখন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাদের জয়ের সেলিব্রেশনের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই, সংযুক্ত সময়ের শেষ মিনিটে রায়ানের হেডে গোল হয়ে যায় এবং ১-১-এ ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

শুক্রবার টাউনসভিলে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আগাগোড়া দাপুটে ফুটবল খেলে শেষে ম্যাচ ড্র রেখে ম্যাচ শেষ করে সকারুজরা। বিশ্বকাপের পর প্রথম ম্যাচেই চমক দেখাল তারা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুরন্ত ফ্রি-কিকে গোল করেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা।

ব্রাজিলের এই ফুটবলের সঙ্গে বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্সের তেমন মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক।একেবারে নতুন কম্বিনেশনে দল নামান তাদের ইতালীয় কোচ কার্লো আনসেলোত্তি। তাঁর দলের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব দেখা গিয়েছে এই ম্যাচে। তুলনামুলক ভাবে অনেক গোছানো ফুটবল খেলে অস্ট্রেলিয়া। ব্রাজিলের জন্য যে তারা বেশ ভালমতোই তৈরি হয়ে ছিল, তা এই ম্যাচেই বুঝিয়ে দেয় অজি ফুটবলাররা।


এ দিন শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। বাঁ দিক থেকে বার বার উঠে আসছিলেন ইরানকুন্ডা। তাঁর একটি জোরালো শট শুরুতেই বিপদ তৈরি করেছিল, কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুগো সুজা ফিস্ট করে সেটি ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। প্রথমার্ধে ব্রাজিল বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়াও গোলের সুযোগ তৈরি করছিল। বিরতির আগে ব্রাজিলের সাতটি শটের মধ্যে তিনটি ছিল লক্ষ্যে। অথচ অস্ট্রেলিয়ার ছ’টি শটের একটি ছিল লক্ষ্যে এবং একটি গোলও পায় তারা।

বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পরে নতুন করে দল গড়ার লক্ষ্যে এই ম্যাচে নেমেছিল ব্রাজিল। গত বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। তার পরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন নেইমার। আনসেলোত্তিও দল বদলের ইঙ্গিত দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বিশ্বকাপের দল থেকে মাত্র কয়েক জনকে রেখেছিলেন।

ম্যাচের শুরু থেকে ব্রাজিল বলের দখল রাখলেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এস্তেভাও বল জালে পাঠালেও ভার-এর সাহায্য নিয়ে সেই গোল বাতিল করা হয়। ৪৫ মিনিটে দুরন্ত আক্রমণের পর এস্তেভাও বল জালে জড়িয়ে দেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হ্যারি সাউতারকে ফাউল করা হয়েছিল কি না, তা দেখতে ভার-এর সাহায্য নেন রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, ব্রুনো গিমারায়েস সাউতারের পা ধরে ফেলেছিলেন। ফলে গোল বাতিল হয়। ০-০ অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

 

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ব্রাজিলের আক্রমণের চাপ বাড়তে থাকে। ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রাফিনিয়া মিলে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণকে বার বার পরীক্ষা করছিলেন। ৬৩ মিনিটে ভিনিসিয়াসের বাড়ানো বলে রাফিনিয়ার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। কয়েক মিনিট পরেই অবশ্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইরানকুন্ডা। ৬৬ মিনিটে আনসেলোত্তি একসঙ্গে ভিনিসিয়াস, ব্রুনো গিমারায়েস ও এন্দ্রিককে তুলে নেন। কিন্তু তার পরেই বড় ধাক্কা খায় ব্রাজিল।

৬৮ মিনিটের মাথায় বাজিমাত করে অস্ট্রেলিয়া। বক্সের বেশ কিছুটা বাইরে থেকে নেওয়া ইরানকুন্ডার ফ্রি-কিক সোজা চলে যায় ব্রাজিলের গোলের বাঁদিকের উপরের কোণে। গোলের পর তাঁর উদ্‌যাপনও ছিল নজরকাড়া— ব্যাকফ্লিপ করে সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দে মাতেন তিনি। এই গোলটি অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাদের দ্বিতীয় গোল। ২০০১-এ শন মার্ফির গোলের পর দীর্ঘ ২৫ বছর অপেক্ষা করতে হল সকারুদের।

গোল খাওয়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। কার্লো আনসেলোত্তি একের পর এক পরিবর্তন করেন। ভিনিসিয়াস, এন্দ্রিক, এস্তেভাও, ব্রুনো গিমারায়েসরা মাঠ ছাড়েন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ব্রাজিল। শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের বক্সের সামনে রক্ষণ জমিয়ে রেখে ব্রাজিলকে বল নিয়ে ঘুরতে বাধ্য করে। অনেক চেষ্টার পর সংযুক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে রায়ানের হেড ক্রসবারের নীচের অংশে লেগে গোললাইনের ওপারে ড্রপ পড়ে এবং সেই মুহূর্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ব্রাজিলের কোচ ও খেলোয়াড়রা।

এর আগে ম্যাচের গুরুত্ব নিয়ে আনসেলোত্তি বলেছিলেন, ‘একে বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ বলা কঠিন। ব্রাজিলের কাছে কোনও ম্যাচই বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ’। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট ছিল, বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে নতুন দল গড়ার পথে এই ম্যাচকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

দুই দলের এই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনের ল্যাং পার্কে।

তার পরেই ব্রাজিলের বিমান উড়ে আসবে ভারতে, কলকাতায়।