প্রথমে ঝড় তুলেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী, যিনি দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দিনেই পূর্বাঞ্চলের নেতৃত্বের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। বল হাতে মুকেশ কুমারও ক্রমশ হয়ে উঠছেন বেশ ধারালো। যার প্রথম ইনিংসে কোনো পক্ষই একে অপরকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি, বরং প্রথম ইনিংসে টাই হয় বলা যায়। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ল পূর্বাঞ্চল। এই বিপর্যয় সামলাতে না পারলে বিপদে পড়তে পারে তারা।
সোমবার বেঙ্গালুরুতে মধ্যাঞ্চল প্রথমে ব্যাট করে যে ২৬৬ রানে অল আউট হয়ে যায়, মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চলেরও সেই ২৬৬ রানেই সব উইকেট পড়ে যায়। ওপেনিং জুটি বৈভব সূর্যবংশী (৯২) ও অভিমন্যু ঈশ্বরণ (৬৯) ১৬১ রানের পার্টনারশিপ গড়ার পর ১০৫ রানের মধ্যে তাদের বাকি সবকটি উইকেট পড়ে যায়। কোয়ার্টার ফাইনালে সেঞ্চুরি পাওয়া সুদীপ কুমার ঘরামি এই ইনিংসে ২৫-এর বেশি তুলতে পারেননি। ইশান কিষাণও ১৬ রানে ফিরে যান।
প্রথম ইনিংসের পর দুই দলই একই জায়গায় থাকার পর মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ধস নামান মুকেশ কুমার ও মহম্মদ শামি। ৩৭ রানের মধ্যেই মধ্যাঞ্চলের তিন উইকেট পড়ে যায়। দিনের শেষে তারা ৪৫-৩। ওপেনার অমন মোখাদে (২৩) ও আরিয়ান পাণ্ডে (৪) ক্রিজে রয়েছেন। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে তাঁদেরই লড়াই করতে হবে। তার পরে আসবেন রিঙ্কু সিং, সারাংশ জৈনরা।
রবিবার নিয়মিত অধিনায়ক ইশান কিষাণ চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর নেতৃত্বের দায়িত্ব এসে পড়েছিল বৈভব সূর্যবংশীর কাঁধে। তবে ব্যাট করতে নেমে নেতৃত্বের চাপের কোনও ছাপ দেখা যায়নি তরুণ ওপেনারের ব্যাটিংয়ে। নিজের পরিচিত আগ্রাসী মেজাজেই খেলেন তিনি।
মাত্র ৪২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন বৈভব। ইনিংসে ছিল তিনটি ছক্কা এবং পাঁচটি চার। সেই সঙ্গে ১৫ বছর ১৫৭ দিন বয়সে দলীপ ট্রফিতে সবচেয়ে কম বয়সে পঞ্চাশ করার রেকর্ড নিজের নামে করে নেন তিনি। এত দিন এই রেকর্ড ছিল লক্ষ্মণ সিং-এর দখলে, যিনি ১৯৬৯-এ ১৬ বছর ২৩ দিন বয়সে দলীপ ট্রফিতে প্রথম অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি। অর্থাৎ ৫৭ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন বিহারের এই বিস্ময়বালক।
শতরানের দোরগোড়াতেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮ রানের জন্য দলীপ ট্রফিতে সবচেয়ে কম বয়সে শতরান করার নজির গড়তে পারেননি। তিনি যখন অভ্যাসবশত ঝড় বওয়াতে শুরু করেন, তখন বাংলার অভিমন্যু ঈশ্বরণ উল্টোদিকটা ধরে রেখেছিলেন। বৈভব যেখানে ৮১ বলে ৯২ রান করেন, সেখানে অভিমন্যু ১০৬ বলে ৬৯ রান করেন আটটি চার মেরে।
দুজনে মিলে পূর্বাঞ্চলকে ১৬১-তে পৌঁছে দেওয়ার পর প্রথমে বৈভব আউট হন হর্ষ দুবের বলে আরশাদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে। তার পরের বলেই তিন নম্বরে আসা কুমার কুশাগ্র ফিরে যান মোখাদের হাতে ধরা পড়ে। দলকে ২০০-য় পৌঁছে দেওয়ার পর অভিমন্যু এলবিডব্লু-র ফাঁদে পড়েন আরিয়ান পাণ্ডের বলে। অভিমন্যু ফিরে যাওয়ার পরই শুরু হয় পূর্বাঞ্চলের ব্যাটারদের যাওয়া আসা এবং তা শেষ হয় ২৬৬-তে।
অর্থাৎ, প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়া সম্ভব হল না পূর্বাঞ্চলের। ফাইনালে উঠতে হলে তাই তাদের সরাসরি ম্যাচ জিততেই হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই নেমে শুরুতেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে ধস নামান পূর্বের দুই পেসার। দলের ছ’রানের মাথাতেই ওপেনার কুণাল চান্ডেলাকে ফেরান মুকেশ। কুশাগ্রর হাতে ধরা পড়েন তিনি। আরিয়ান জুয়াল অভিমন্যুর হাতে ক্যাচ তোলেন আগের দিনই কেরিয়ারে ৯০০ উইকেট পূর্ণ করা মহম্মদ শামির বলে। দলের ৩৭ রানের মাথায় রজত পাটিদারের স্টাম্প ছিটকে দেন মুকেশ।
মঙ্গলবার ম্যাচের তৃতীয় দিনেও মহম্মদ শামিরা এই আগ্রাসী মেজাজ বজায় রাখতে পারলে তাদের ফাইনালে ওঠা সহজ হতে পারে। তবে সেজন্য ব্যাটারদের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ভাল ব্যাট করতে হবে।
তিলক ভার্মার সেঞ্চুরিতে এগিয়ে উত্তরাঞ্চল
দলীপের অপর সেমিফাইনালে উত্তরাঞ্চলের ১৯৫-এর জবাবে দক্ষিণাঞ্চল দিনের শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২৮৫। উত্তরের ওপেনার কামরান ইকবালের ৭৬ রানের ইনিংস ছাড়া আর তেমন উল্লেখযোগ্য ইনিংস কারো নেই। দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক তিলক ভার্মা সাতটি চার হাঁকিয়ে ১০৬ রান করেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন শ্রেয়স গোপাল, যিনি ১১টি চার মেরে ৮৭ রান তোলেন। উত্তরাঞ্চলের গুরনুর ব্রার চার উইকেট নেন। অংশুল খাম্বোজ ও অর্শদীপ সিং দুটি করে উইকেট নেন।