দাদা সূর্যকুমারের ক্যাচের স্মৃতি ফেরালেন বৈভব সূর্যবংশী

সেই অর্থে দুজনেই সূর্য। একজনের নাম সূর্যকুমার যাদব। আরেকজন বৈভব সূর্যবংশী। যুব বিশ্বকাপের মঞ্চে অনবদ্য ক্যাচ নিয়ে দাদা সূর্যের স্মৃতি ফেরাল ভাই সূর্য। একটা ক্যাচ ম্যাচের রং যে বদলে দিতে পারে, তা প্রমাণিত হল আবার। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৮ রানে জয় পেয়েছে ।
তবে ম্যাচ শেষে আলোচনায় শুধু বৈভব সূর্যবংশীর অসাধারণ ক্যাচের কথা।

ব্যাটে ৭২ রানের ঝকঝকে ইনিংসের পর দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে সূর্যকুমার যাদবের স্মৃতি ফিরিয়েছে ১৪ বছর বয়সি কিশোর প্রতিভা। বাংলাদেশের ইনিংসের ২৬তম ওভার। বিহান মালহোত্রার বলে তুলে মারেন মহম্মদ সামিউন বসির রাতুল। একটা সময় মনে হচ্ছিল বল বাউন্ডারি লাইনের সীমা পেরিয়ে যাবে। তখন ডিপ লং অফে ফিল্ডিং করছিল বৈভব। হাওয়ায় থাকা বল অসাধারণ জাজ করে ক্যাচ ধরে বৈভব। তবে প্রথমে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি।

তৎক্ষণাৎ বলটি হাওয়ায় ছুড়ে দিয়ে নিজে চলে যায় বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। এরপর অতি দ্রুত মাঠে ফিরে তালুবন্দি করে বল। ক্যাচটি নিশ্চিত কিনা বুঝতে তৃতীয় আম্পায়ারের সহায়তা চাওয়া হয়। তিনি সামিউনকে আউট ঘোষণা করেন।২০২৪ সালের ২৯ জুন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল। বিশ্বজয় আর ভারতের মাঝে সেদিন দাঁড়িয়েছিলেন ডেভিড মিলার। এক ওভারে মাত্র ১৬ রান পুঁজি।


মিলারের মতো ব্যাটসম্যানের পক্ষে যা মোটেই অসম্ভব ছিল না। হার্দিক পাণ্ডিয়ার প্রথম বলই শূন্যে ভাসিয়ে দিলেন বাঁ-হাতি প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। বল ছুটল বাউন্ডারির দিকে। ছুটলেন ভারতের সূর্যকুমার যাদব। লং অন থেকে বাউন্ডারির দিকে। বল লুফে নিলেন বটে, কিন্তু নিজের গতি নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে! একচুল এদিক-ওদিক হলেই তো উইকেটের বদলে স্কোরবোর্ডে লেখা হবে ছক্কা। সেই সঙ্গে সম্ভবত ট্রফিতেও লিখে ফেলা হবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম। কিন্তু সূর্য এদিক-ওদিক হলেন না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলেন।

বাউন্ডারির বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বল উড়িয়ে দিলেন। সীমানার ভিতরে প্রত্যাবর্তন করে ফের লুফে নিলেন সেই বল। মুহূর্ত যেন থেমে গেল। ওই মুহূর্তেই যেন ট্রফিতে লেখা হল ভারতের নাম। সূর্যের সেই অবিস্মরণীয় ক্যাচের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন বৈভবের ক্যাচের। তাঁরা বিহারের তারকা ক্রিকেটারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। গর্বে প্রত্যেকেই উল্লসিত।