সিরিজে ২-০ করার হাতছানি ভারতের, চাপে নিউজিল্যান্ড! ইশান ছিটকে যাওয়ায় বৈভবের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়তে পারে

Photo: X

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২২৬ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর এ বার লক্ষ্য সিরিজে ব্যবধান বাড়ানো। তবে ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন ইশান কিষাণ। তাঁর পরিবর্তে কি বিস্ময় কিশোর বৈভব সূর্যবংশীকে খেলানো হতে পারে? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এক দিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের আত্মবিশ্বাস, অন্য দিকে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিউজিল্যান্ডের। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে চার উইকেটে জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারত। শনিবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে দুই দল। এই ম্যাচ জিতলেই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ শ্রেয়স আইয়ারের দলের সামনে। অন্য দিকে, সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া মিচেল স্যান্টনারের নিউজিল্যান্ড। তাই তাঁরা জেতার জন্য ঝাঁপাবে, এমন ধরে নেওয়াই যায়।

প্রথম ম্যাচে ২২৫ রান তুলেও ভারতকে আটকাতে পারেনি কিউয়িরা। উল্টে ১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৩০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে নামার আগে ব্যাটিং নিয়ে খুব বেশি চিন্তা থাকার কথা নয় ভারতীয় শিবিরে। কিন্তু বোলিং নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


ব্যাটিংয়ে স্বস্তি, বোলিংয়ে চিন্তা

প্রথম ম্যাচে সঞ্জু স্যামসন ৩৩ বলে ৬৭ রান করে ভারতকে দুরন্ত শুরু এনে দেন। অভিষেক শর্মার সঙ্গে প্রথম উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। পরে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের ২৮ বলে ৪২ এবং শেষ দিকে নমন ধীরের মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংস ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

তবে বোলারদের পারফরম্যান্স চিন্তা বাড়িয়েছে। গ্লেন ফিলিপস ৪০ বলে অপরাজিত ৮২ রান করেন। ফিন অ্যালেনের ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ৪৫। শেষ পাঁচ ওভারে ৬৭ রান দেয় ভারত। শিশিরের কারণে বল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হলেও ডেথ ওভারে আরও ভাল বোলিং করতে হবে ভারতকে।

প্রথম ম্যাচে প্রায় চার বছর পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে বোলিং করেন ভুবনেশ্বর কুমার। কিন্তু ৪৯ রান দিয়েও উইকেট পাননি তিনি। অক্ষর পটেলও ৫১ রান খরচ করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিংয়ের পরিকল্পনায় বদল আনা হবে কি না, সেটাই দেখার।

তিন নম্বরে নামতে পারেন সঞ্জু স্যামসন

প্রত্যাশা অনুযায়ী ইশান কিষাণের পরিবর্তে বৈভব সূর্যবংশী দলে সুযোগ পেলে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে পারেন তিনি। সে ক্ষেত্রে সঞ্জু স্যামসন নেমে আসতে পারেন তিন নম্বরে। এই তিন ক্রিকেটার একসঙ্গে খেললে সাধারণত এ ভাবেই সাজানো হয়েছে ভারতের ব্যাটিং অর্ডার।

তবে এই পরিকল্পনায় কৌশলগত একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাওয়ার প্লে-র শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েল বা গ্লেন ফিলিপসকে দিয়ে অফস্পিন করাতে পারে। অতীতে এই ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়েছে ভারত। বিশেষ করে এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে এই দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছিল।

ভারতের বাকি প্রথম একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। মাঝের ওভারগুলিতে স্পিনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন হলে অক্ষর পটেলকে উপরের দিকে তুলে আনা হতে পারে। অর্থাৎ, ব্যাটিং অর্ডারে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনের স্বাধীনতা রাখা হবে।

পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই নিউজিল্যান্ডের

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২২৫ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। ভারতের বিধ্বংসী শুরুর পরেও ম্যাচটিকে শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পেরেছিল তারা। রান তাড়া করার সময় শিশিরের কারণে ব্যাটিং সহজ হয়ে গেলেও লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল কিউয়িরা। সিরিজের শুরুতেই তাই নিউজিল্যান্ডের প্রথম একাদশে জোর করে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রথম ম্যাচে যে দল খেলেছিল, তাদের উপরেই আস্থা রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

প্রথম টি-টোয়েন্টির উইকেটেই দ্বিতীয় ম্যাচও

শনিবারের ম্যাচে শিশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। রাত ৮টায় খেলা শুরু হওয়ায় সিরিজের বাকি ম্যাচগুলিতেও শিশিরের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই টসে জেতা অধিনায়ক প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে প্রথমে ব্যাট করা দলের জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গা রয়েছে। শনিবারের ম্যাচটি বৃহস্পতিবারের প্রথম টি-টোয়েন্টির পিচেই খেলা হবে। ফলে উইকেটে কিছুটা ক্ষয় বা ভাঙন দেখা দিতে পারে, যা প্রথমে ব্যাট করা দলকে সুবিধা দিতে পারে।

ক্রাইস্টচার্চে পরিষ্কার আকাশ এবং রোদ ঝলমলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ম্যাচ শুরুর সময় তাপমাত্রা কমে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসতে পারে।