সামনে ১৫ বছরের কিশোর। ব্যাট হাতে ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছে তাণ্ডব। তখনই কি একটু মজার ছলে ‘স্লেজিং’ করলেন তিলক বর্মা? দলীপ ট্রফির ফাইনালে বৈভব সূর্যবংশীকে উদ্দেশ্য করে দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়কের একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে সেই জল্পনা। কিছু ক্ষণের মধ্যেই অবশ্য দু’জনকে হাসাহাসি করতেও দেখা যায়। কিন্তু তার পরেই আউট হয়ে যান বৈভব।
পূর্বাঞ্চলের হয়ে ওপেন করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন বৈভব। দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক শট খেলছিলেন তিনি। এমনকী, ভারতের তারকা পেসার মহম্মদ সিরাজকেও আক্রমণ করেন কিশোর ব্যাটার। ৩৭ বলে ৪৪ রান করেন বৈভব। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার এবং একটি ছক্কা। পঞ্চাশের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েও তা আর পাওয়া হয়নি।
ঠিক সেই সময়েই স্টাম্পের পিছন থেকে তিলকের গলা শোনা যায়। বৈভবকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কী ব্যাপার, এ-ই নাকি সহ-অধিনায়ক?’— অর্থাৎ, ‘কী রে, এ-ই নাকি ভাইস-ক্যাপ্টেন?’ তিলকের সেই মন্তব্যের পর দু’জনকেই হাসতে দেখা যায়। ফলে বিষয়টি খুব একটা গম্ভীর ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে সেই মুহূর্তের কিছু পরেই বৈভবের উইকেট পড়ে। চামা ভি মিলিন্দের বলে আউট হন তিনি। ফলে তিলকের মন্তব্যের সঙ্গে তাঁর আউট হওয়ার যোগসূত্র নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়ে যায় নানা আলোচনা। যদিও ঘটনাটি নিছক মজার ছলে হওয়ায় তিলকের বিরুদ্ধে সমালোচনাও করেছেন অনেকে।
💯 for Ishan Kishan 👏
He brings it up in style 💥
The East Zone captain leading from the front with a superb knock 🙌
Scorecard ▶️ https://t.co/KQf5Km69nk#DuleepTrophy | #SZvEZ pic.twitter.com/ql9el4G60Q
— BCCI Domestic (@BCCIdomestic) September 6, 2026
দলীপ ট্রফির এই ফাইনালেই এক দিকে বৈভব—ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত কিশোর প্রতিভা। অন্য দিকে তিলক—ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক এবং দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক। ফলে দুই প্রজন্মের ক্রিকেটারের এই ছোট্ট খুনসুটির মুহূর্তই ম্যাচের বাইরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
বৈভবের জন্য অবশ্য ৪৪ রানে থামাটা খানিক আক্ষেপের। আর মাত্র ছয় রান করলেই ফের পঞ্চাশের দেখা পেতেন তিনি। তার বদলে তিলকের সেই ‘ভাইস-ক্যাপ্টেন’ মন্তব্যের পরেই সাজঘরে ফিরতে হল তাঁকে। বোধহয় অন্যমনষ্ক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
বৈভব বেশি রান না পেলেও পূর্বাঞ্চলকে বড় ইনিংসের দিকে নিয়ে যান অধিনায়ক ইশান কিষাণ। অভিমন্যু ঈশ্বরনের ৭২, শিখর মোহনের ৮৫, ইশান কিষাণের অনবদ্য সেঞ্চুরি ও কুমার কুশাগ্রর হাফ সেঞ্চুরি পূর্বাঞ্চলকে রানের পাহাড়ে তুলে দেয়।
দিনের শেষে ইশান ১১১ ও কুমার কুশাগ্র ৬৩ রানে অপরাজিত। পূর্বাঞ্চলের মোট রান চার উইকেটে ৩৮৫। দক্ষিণাঞ্চলের চামা মিলিন্দ দু’টি ও ত্রিপুরানা বিজয় একটি উইকেট নেন। অভিমন্যু রান আউট হন।
দ্বিতীয় দিন দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের কঠিন পরীক্ষা। তারা যদি ইশান বা কুমারকে দিনের শুরুতেই না ফেরাতে পারেন, তা হলে পূর্বাঞ্চল বিশাল রানের পাহাড় গড়ে প্রতিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠাবে এবং সেই রানের পাহাড় টপকাতে সমস্যায় পড়তে হবে তিলক ভার্মাদের।