হারারে-তে আজ বৈভবের রানে ফেরা ও ভারতের জয়ে ফেরা একসঙ্গে হবে? আগ্রহ বেশি এই দুই বিষয়েই

Photo: Representational Image

আয়ারল্যান্ডের কাছে টানা দুই ম্যাচে হার, ইংল্যান্ডের কাছেও টানা চার ম্যাচে হার, মাঝে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া—সব মিলিয়ে ভারতীয় টি-২০ দলের সাম্প্রতিক সময় একেবারেই ভাল যাচ্ছে না। বিশেষ করে যে দল মাস চারেক আগে টি-২০-র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেই দলের এমন ফর্ম বেশ অবাক করার মতো।

টানা সাত ম্যাচে ব্যর্থতার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে এখন ভারতের একমাত্র রাস্তা জিম্বাবোয়ের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজ জেতা। তাও যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট জানিয়েই দিয়েছেন জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। পাকিস্তান-জাত এই ক্রিকেটার এখন জিম্বাবোয়ের এক সফল অধিনায়ক। যে দল টি-২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়ে এসেছে, তাদের যে আত্মবিশ্বাস ও সাহসের অভাব নেই, এটুকু বলাই যায়। নিজেদের ঘরের মাঠে যে এই দুটো জিনিস তারা ভরপুর পাবে, এটাও ঠিক।

প্রতিপক্ষের এই আত্মবিশ্বাস ও অদম্য সাহসের দেওয়ালে শ্রেয়স আইয়ারের দল ফাটল ধরাতে পারবে কি না, এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটে থেকে হারারে স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে যে ম্যাচ শুরু হচ্ছে, তাতে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ এতটুকুই—ভারত জয়ে ফিরতে পারবে কি না।


জিম্বাবোয়ে সফরে ভারতের ব্যাটিং বিভাগে বড় কোনও পরিবর্তন নেই। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে যে ব্যাটিং ইউনিট খেলেছিল, মূলত সেই দলই রয়েছে—শুধু সঞ্জু স্যামসন নেই। সেই দল এবার জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া। তবে আইয়ার সম্ভবত সবার আগে সতীর্থদের মনে করিয়ে দেবেন, বর্তমান ফর্মের বিচারে জিম্বাবোয়েকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

চলতি বছরের টি-২০ বিশ্বকাপে সুপার এইটে ওঠার পর সেই সাফল্যের ধারাই বজায় রেখেছে জিম্বাবোয়ে। এরপর তারা একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশকে হারিয়েছে, পাশাপাশি জিতেছে একদিনের সিরিজও। যদিও টি-২০ সিরিজে ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি, তবু দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক হয়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এটাই তাদের বড় প্রাপ্তি। ২৪ বছর পর আফ্রিকার মাটিতে ফিরছে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ, আর সেই মঞ্চের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো যথেষ্ট ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছে জিম্বাবোয়ে। এই অবস্থাতেই ভারতের এ বারের সফর যেন তাদের কাছে অন্যান্যবারের তুলনায় কঠিন।

ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ আরো একটা জায়গায়। তাই বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে যথেষ্ট আলোচনা চলছে। চলতি বছরেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ক্যাসল কর্নারের (হারারের মাঠের) নিয়মিত দর্শকরা তাঁর প্রতিভার ঝলক দেখেছেন। যদিও ইংল্যান্ড সফরে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক মোটেই প্রত্যাশামাফিক হয়নি, তবু ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং তাঁর সাপোর্ট স্টাফের তত্ত্বাবধানে এই সফর বৈভবের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর আদর্শ সুযোগ হতে পারে। এখান থেকেই হয়তো তাঁর উড়ান শুরু হবে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার, এই সফরে গৌতম গম্ভীর ও তাঁর সাপোর্ট স্টাফের কয়েকজনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই হেডস্যার গম্ভীরের অভিভাবকত্বের চাপ নেই দলে। বরং সদাহাস্য লক্ষ্মণ তাদের আরো উৎসাহিত করতে পারেন।

এই ম্যাচে ফের সুযোগ পেতে পারেন রিঙ্কু সিং। ছয় নম্বরে নামতে পারেন তিনি। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের অর্ডার তো ঠিকই আছে। অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, ঈশান কিষাণ, শ্রেয়স আইয়ার ও তিলক বর্মা। অলরাউন্ডার হিসেবে দলে জায়গা হতে পারে হর্ষ দুবের। দুবে খেললে সম্ভবত তিনিই হবেন ভারতের একমাত্র স্পিনার। তবে ভারত যদি একজন পেসার কম খেলায়, সে ক্ষেত্রে শিবম দুবেকে তৃতীয় পেসার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। পেস-নির্ভর একাদশ নামালে প্রিন্স যাদব, ময়াঙ্ক যাদব, যশ ঠাকুর এবং অশোক শর্মার মধ্যে তিনজনের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে সামান্য চোটের কারণে খেলতে না পারা জিম্বাবোয়ের বাঁহাতি পেসার নিউম্যান নিয়ামহুরি এবার দলে ফিরতে চলেছেন। টপ অর্ডারে জায়গার জন্য ডিয়ন মায়ার্সের সঙ্গে লড়াই হবে ওয়েসলি মাধেভেরের। অন্যদিকে, লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং আরও শক্তিশালী করতে ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে খেলানো হতে পারে। ফলে তারাওয়া সিগাকে সুযোগের জন্য আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশ্বকাপ ও আইপিএলে বিখ্যাত হয়ে ওঠা ব্লেসিং মুজারাবানি নিজের দেশের উইকেটে কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন, সেটাও আগ্রহের বিষয় হয়ে থাকবে এই ম্যাচে।

দুই অধিনায়কই জানিয়েছেন, উইকেটে ভালো গতি এবং বাউন্স থাকবে। হারারের শীতকালীন আবহাওয়া পেসারদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে সম্প্রতি শেষ হওয়া সিরিজের ছ’টি ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল বাংলাদেশের ১৮৬ রান। ফলে এবার তুলনামূলকভাবে আরও বেশি রানের ম্যাচ দেখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও স্বস্তিদায়ক—আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং রোদ ঝলমলে দিন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।