রাত তখন ১২টা ৪৬ মিনিট। আচমকাই সমাজমাধ্যমে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামিকে ট্যাগ করে সাহায্যের আবেদন করেন ক্রিকেট তারকা ঋষভ পন্থ। দিল্লি ছেড়ে নিজের রাজ্য উত্তরাখণ্ডে পাকাপাকি ভাবে ফিরতে চান ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। কিন্তু তিন বছর ধরে চেষ্টা করেও পছন্দসই জমি খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন ঋষভ। তাঁর আবেদনে সাড়া দিতে দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী ধামি।
শনিবার মাঝরাতে ঋষভ ভাঙা ভাঙা ইংলিশে লেখেন, ‘হ্যালো স্যার, কেমন আছেন? উত্তরাখণ্ডের স্থানীয় মানুষ হিসেবে অনেক দিন ধরেই একটা বিষয় নিয়ে ভাবছি। আমি উত্তরাখণ্ডে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে চাই। এখানে জমি কেনার চেষ্টা করছি, কিন্তু থাকার মতো উপযুক্ত এবং বড় জায়গা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি আমার উত্তরাখণ্ডকে ভালবাসি।’
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি আবেদন জানান, ‘আমার বিনীত অনুরোধ, জমি কেনার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন। কারণ, এখন জমি কেনার বিষয়টি দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছে। আগে রাজ্যের প্রচারের সময় যে জমি পাওয়ার কথা ছিল, সেই বিষয়টিও এখনও পরিষ্কার হয়নি। সব কিছু ভুলে আমি আমার নিজের জায়গায় ফিরে আসতে চাই। উত্তরাখণ্ডের উন্নয়নে সাহায্য করতে এবং এখানকার মানুষদের জন্য কিছু তৈরি করতে চাই। আমি আমার পাহাড়ি মানুষদের কাছে ফিরে যেতে চাই। দয়া করে বিষয়টি দেখুন। আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি।’
ঋষভের এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। রাতের এমন সময়ে তাঁর এই পোস্ট এবং ইংরাজি লেখায় একাধিক ব্যাকরণগত ভুল নিয়ে সমাজমাধ্যমে আলোচনাও শুরু হয়। কেউ কেউ আবার ঋষভ ঠিক আছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে তাঁর জমি চাওয়ার বিষয়টি যে নিছক রসিকতা নয়, তা স্পষ্ট করে দেয় তাঁর আবেদনের বিষয়বস্তু।
ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারের পোস্টের পরে বেশি দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী ধামি। তিনি জবাবে লেখেন, ‘প্রিয় ঋষভ, তুমি উত্তরাখণ্ডের গর্ব। তোমার দুর্দান্ত খেলা এবং সাফল্য দেশ ও বিশ্বে দেবভূমির নাম উজ্জ্বল করেছে। নিজের মাতৃভূমির প্রতি তোমার ভালবাসা এবং এখানে ফিরে এসে কিছু করতে চাওয়ার ইচ্ছা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’
এর পরেই ঋষভকে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘তুমি যে বিষয়টি তুলেছ, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা খুব শীঘ্রই তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং নিয়ম মেনে সমস্ত রকম সহযোগিতা করবেন।’
অর্থাৎ, ঋষভ পন্থের তিন বছরের জমি-খোঁজার অপেক্ষায় এ বার সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হল। দিল্লি থেকে নিজের রাজ্যে পাকাপাকি ভাবে ফেরার ইচ্ছা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। এ বার সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ হয়ে উঠল মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাস।
ক্রিকেটের ময়দানেও ঋষভের জীবনে বড় পরিবর্তন হয়েছে। জুনে আইপিএল ২০২৭-এর নিলামের আগে লখনউ সুপার জায়ান্টস থেকে তাঁকে তাঁর পুরনো দল দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ১৫ কোটি টাকায় দেওয়া হয়। বদলে লখনউ পায় কুলদীপ যাদবকে এবং ১৩.৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, আগামী মরসুমে ঋষভ আইপিএলে খেলবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও যুবরাজ সিংয়ের তত্ত্বাধানে। এই দুই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি ব্যাটিংয়ে অনেক উন্নতি করবেন এমনই আশা করছেন তাঁর ভক্তরা।
সৌরভও ঋষভের দিল্লিতে ফেরা নিয়ে খুশি। বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তটা আমাদের দু’পক্ষের জন্যই ভাল হয়েছে। ঋষভ তার আইপিএলের সেরা সময়টা কাটিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসেই। তাই ও দিল্লির দলে ফিরে এলে তার ফল ভালই হবে। আমাদেরও ঋষভের মতো একজন আগ্রাসী ব্যাটসম্যান প্রয়োজন। যুবরাজের প্রশিক্ষণে ও আরো নিখুঁত হয়ে উঠবে বলেই আমার মনে হয়’।
ক্রিকেটের পাশাপাশি এ বার নিজের শিকড়ের কাছেও ফিরতে চাইছেন ঋষভ পন্থ। উত্তরাখণ্ডে নিজের বাড়ি তৈরির সেই ইচ্ছার কথাই মধ্যরাতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দিলেন তিনি এবং তাঁর সম্মতিও পেয়ে গেলেন। তাঁর কাছে এর চেয়ে ভাল খবর আর কীই বা হতে পারে?