নরম হল ট্রাম্প-সরকার, গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে স্বস্তির খবর এল ইরান শিবিরে

ইরানের ফুটবল দলকে সম্ভবত এই প্রথম কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার মতো খবর দিল মার্কিন সরকার। এ বার থেকে আর ম্যাচের ঠিক আগেই মার্কিন মুলুকে প্রবেশ করতে হবে না ইরান দলকে। তবে ম্যাচ খেলেই সঙ্গে সঙ্গে সে দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। সেই নির্দেশে কোনও বদল আনা হয়নি।

বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে। চার মাস ধরে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাঝেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-র এক মুখপাত্র মঙ্গলবার জানান, “ইরান দলকে শুক্রবার সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচের দু’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, “ম্যাচ শেষ হওয়ার দিনই ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে।”

এর আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের ক্ষেত্রে ইরানি ফুটবলারদের ম্যাচের ২৪ ঘণ্টার বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের প্রস্তুতির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।


গত সপ্তাহে ইরানের কোচ আমির গালেনোয়ি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে লস অ্যাঞ্জেলিসে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে দলের অনুশীলনের জন্য যথেষ্ট সময় পায়নি তারা। ইরান ফুটবল ফেডারেশনও এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার কাছে অভিযোগ জানায়।

গালেনোয়ি সাংবাদিকদের বলেন, “মার্কিন কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে যে, শুক্রবার সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে আমাদের তৃতীয় ম্যাচের জন্য এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে।কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হল, প্রথম দুই ম্যাচের ক্ষেত্রেও কেন আমাদের আগে আসতে দেওয়া হলো না?”
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই এই টুর্নামেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছিল।

মার্চের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, “ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হচ্ছে, কিন্তু আমি সত্যিই মনে করি না যে তাদের এ দেশে থাকা তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত হবে।”

সেই মাসেই ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীও বলেছিলেন যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খোমেইনিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ কঠিন। পরে অবশ্য তাদের সুর নরম হয়। প্রথমে অ্যারিজোনায় শিবির করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানায় শিবির করেছে ইরান।

তবে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জোর দিয়ে জানিয়েছে, ভ্রমণ-সংক্রান্ত কিছু নিয়ম শিথিল করা হলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। তাদের মুখপাত্র বলেন, “সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রোটোকল আগের মতোই রয়েছে। খেলোয়াড়, কর্মকর্তারা এবং সমর্থকদের জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে নিরাপদ টুর্নামেন্ট নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

মিশরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ইরান শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, গালেনোয়ির মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে শুরু থেকে একই সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ এখনও পুরোপুরি যায়নি।