হালান্ডের জোড়া গোলে শেষ ৩২-এ নরওয়ে, লড়াইয়ে টিকে রইল আলজেরিয়া

বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও জোড়া গোল করলেন এরলিং হালান্ড। এর আগে ইরাকের বিরুদ্ধে ৪-১-এ জয়ের ম্যাচেও দুটি গোল করেছিলেন তিনি। সোমবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হালান্ডের দুরন্ত ফর্মে ভর করে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করল নরওয়ে। গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২-এ হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে পৌঁছে গেল তারা। ফলে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল চার। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তিনি এখন প্রথম সারিতে রয়েছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪৩ মিনিটে সেনেগাল অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির ভুলের সুযোগ নিয়ে বদলি খেলোয়াড় মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেন গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার।

৫৩ মিনিটে ইসমাইলা সার গোল করে সেনেগালকে ম্যাচে ফেরানোর আশা জাগান। কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। কুলিবালির আরেকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্যাট্রিক বার্গের ক্রস থেকে ভলি করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন হালান্ড। বল ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায়। ম্যাচের শেষদিকে আবারও গোল করেন সার। তবে তাঁর জোড়া গোলও সেনেগালকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।


এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে নরওয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। একই গ্রুপ থেকে ফ্রান্সও ইতিমধ্যে শেষ ৩২-এ উঠে গেছে। এখন গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণের জন্য আগামী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও নরওয়ে। প্রায় ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা নরওয়ে যে শুধুই অংশ নিতে আসেনি, বরং বড় কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই এসেছে, তা আবারও প্রমাণ করলেন হালান্ড ও তাঁর সতীর্থরা। অন্যদিকে ভারতীয় সময়ে মঙ্গলবার সকালে সান ফ্রান্সিসকোয় পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারায় আলজেরিয়া। এই জয়ের ফলে পরের পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখল আলজেরিয়া। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা জর্ডানের অভিযান মাত্র দুই ম্যাচের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল। এদিন আলজেরিয়াই তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। শেষ পর্যন্ত ৩৬তম মিনিটে জর্ডানের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যায় জামাল সেল্লামির দল আলজেরিয়া। ৬৯তম মিনিটে একটি কর্নার থেকে নাধির বেনবুয়ালি হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এর পর ম্যাচের আট মিনিট বাকি থাকতে কর্নার থেকে সৃষ্ট সুযোগে বল তাঁর সামনে এসে পড়লে কাছ থেকে জালে জড়িয়ে আলজেরিয়াকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন আমিন গুইরি। তাঁর সেই গোলেই পূর্ণ হয় আলজেরিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন।