শুরুতেই সেনেগালের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই, স্বীকার করে নিচ্ছে ফরাসি শিবির

ভারতীয় সময়ে মঙ্গলবার মাঝরাতে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করতে চলেছে প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে মঙ্গলবার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল সেনেগালের মুখোমুখি হবে দিদিয়ের দেশঁর দল। ম্যাচটিকে শুধু গ্রুপ পর্বের লড়াই নয়, ২০০২ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক স্মৃতির পুনরাবৃত্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

২০০২ বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০-য় হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিল সেনেগাল। তবে সেই প্রসঙ্গ টেনে ‘প্রতিশোধ’-এর কথা উড়িয়ে দিয়েছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশঁ বলেছেন, ‘বর্তমান দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় তখন জন্মই নেয়নি, তাই অতীতের সেই ফলাফলের সঙ্গে এই ম্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই’।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। যদিও বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে গোল পাননি তিনি, তবুও তাঁকেই দলের আক্রমণের মূল অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ১২ গোল করা এমবাপে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে ওঠার সুযোগ পাবেন এ বারের আসরে।


এদিকে ফ্রান্স শিবিরে আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় ওসুমানে দেম্বেলে। চোট সারিয়ে ফেরার পর তাঁকে নিয়ে সতর্ক দেশঁ। ম্যাচের আগে কোচ জানিয়েছেন, দেম্বেলের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বিবেচনা করেই তাঁকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কিন্তু আজকের ম্যাচে ফ্রান্সের সম্ভাব্য একাদশে থাকবেন কারা?

গোলে থাকতে পারেন মাইক মেইগনান। রক্ষণভাগে উইলিয়াম সালিবা, ইব্রাহিম কোনাতে, জুল কুন্দে এবং থিও হার্নান্দেজদের দেখা যেতে পারে। মাঝমাঠে থাকবেন এনগোলো কঁতে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও আদ্রিয়েঁ রবিয়ো।
অন্যদিকে সেনেগালও নিজেদের হালকাভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে না। আফ্রিকান দলটি শারীরিক শক্তি, গতি এবং সংগঠিত ফুটবলের জন্য পরিচিত। ফরাসি মিডফিল্ডার কঁতেও স্বীকার করে নিয়েছেন যে সেনেগালের মাঝমাঠ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের পক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না।

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্টে এসেছে ফ্রান্স। তবে প্রথম ম্যাচেই তাদের সামনে এমন এক প্রতিপক্ষ, যারা অতীতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাঁদিয়েছে। ফলে এমবাপে-দেম্বেলেদের জন্য এটি শুধু বিশ্বকাপের সূচনা নয়, বরং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণেরও বড় পরীক্ষা।