ম্যাচটা ছিল ইস্টবেঙ্গলের হোম ম্যাচ। কিন্তু, বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তা গোয়ায় স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেডরেশন। সেইমতো আজ মঙ্গলবার গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে আইএসএলের নবম ম্যাচে ওড়িশা এফসি’র বিপক্ষে মাঠে নামছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে টিকে থাকতে গেলে এই ম্যাচ জিততেই হবে ইস্টবেঙ্গলকে। প্রতিপক্ষ ওড়িশা এবারের আইএসএলে একেবারেই নিজের চেনা ছন্দে নেই। এখনও অবধি আট ম্যাচ খেলে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় একেবারে শেষের দিকে রয়েছে টি.জি. পুরুষোত্তমনের দল। ফলে, মুম্বাইয়ের বিপক্ষে নামার আগে এই ম্যাচ জিতে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে চাইছেন লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজো। তবে, ম্যাচ জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রতিপক্ষকে বেশ সমীহ করছেন তিনি। জানালেন, ওড়িশা পয়েন্ট তালিকায় শেষের দিকে থাকলেও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। শেষ ম্যাচে মহমেডানের সঙ্গে বেশ ভালো খেলেছে তারা। তাই, কোনোভাবেই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন অস্কার।
এদিকে, নির্বাসনের কারণে নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার মিগুয়েল ফিগুয়েরা’কে ওড়িশা ম্যাচে পাচ্ছে না ইস্টবেঙ্গল। তার উপর ডিফেন্ডার আনোয়ার আলী এবং প্যালেস্তাইন মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদও পুরোপুরি ফিট নন। যদিও, ওড়িশার বিপক্ষে এই দুই তারকাকে খেলাতে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে জানা গিয়েছে, আনোয়ারের কুঁচকিতে এখনও একটা ব্যথা রয়েছে। ফলে, তিনি একান্তই ওড়িশার বিপক্ষে খেলতে না পারলে সেই জায়গায় দীর্ঘদিন বাদে প্রথম একাদশে ফিরতে পারেন লালচুংনুঙ্গা। পাশাপাশি, এই ম্যাচে আক্রমণভাগে শুরু থেকে খেলতে পারেন অ্যাণ্টন সজবার্গ। বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচে শেষমুহূর্তে গোল করে দলকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট এনে দিয়েছিলেন তিনি। সম্ভবত, তারই পুরস্কার পেতে চলেছেন অ্যাণ্টন। ওড়িশা ম্যাচে বাকি দলে খুব বেশি বদলের সম্ভাবনা হয়তো নেই।
তবে ওড়িশার বিপক্ষে ম্যাচ যে এবারের আইএসএলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে চলেছে, তা মানছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দলের জন্য ওড়িশা ম্যাচটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ম্যাচ জিতলে পারলে যে তারা পরের বড় ম্যাচগুলোর জন্য ভালো অবস্থানে থাকবেন, সেকথা জানাতেও ভুললেন না তিনি। সবমিলিয়ে, তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ ওড়িশার বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে আইএসএলের চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে টিকে থাকাই আপাতত ইস্টবেঙ্গলের প্রধান লক্ষ্য।