বিরতিতে টাচেলের ভাষণেই বদলে গেল ইংল্যান্ড, ৪-২ জয়ের পর জানিয়ে দিলেন হ্যারি কেন

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২-এ রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন জানিয়েছেন, ম্যাচের বিরতিতে কোচ থমাস টাচেলের ভোকাল টনিকই দলের চেহারা বদলে দিয়েছিল।
ডালাসে এই ম্যাচে প্রথমার্ধ ছিল নাটকীয়। কেন দু’টি গোল করেন, যার মধ্যে একটি ছিল পেনাল্টির রি-টেক থেকে। কিন্তু ২০১৮-র রানার্স-আপ ক্রোয়েশিয়াও সমানে লড়াই করে দুই গোলই শোধ করে দেয় এবং বিরতিতে ২-২ অবস্থায় ড্রেসিংরুমে ফেরে তারা। এই সময় ইংল্যান্ড শিবির বেশ কিছুটা উদ্বেগের মধ্যেই ছিল।

ম্যাচের পর কেন জানান, বিরতির সময়ই টাচেলের গা গরম করা বক্তব্যে দলের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বলেন, “কোচ আমাদের বলেছিলেন, ‘আমরা কতদূর যেতে পারি, সারা দুনিয়াকে তা দেখাও।’”
কেন আরও বলেন, “প্রথমার্ধে আমরা কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু বিরতির সময় কোচ আমাদের শান্ত থাকতে, সাহসী হতে এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে বলেছিলেন। সেই কথাগুলোই আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”

বিরতির পরেই ইংল্যান্ডের খেলার রূপ বদলে যায়। জুড বেলিংহাম একক প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এর পর একের পর এক সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। শেষদিকে বদলি হিসেবে নেমে মার্কাস রাশফোর্ড গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন বলেন, “কোচ বিরতিতে আমাদের বলেছিলেন খেলার গতি বাড়াতে, একে একে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এবং পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে। ঠিক সেটাই ঘটেছিল। বল পায়ে থাকুক বা না থাকুক, আমাদের সেরা ফুটবলটা দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ওই ২০ মিনিটের সময়ে আমরা আরও তিন বা চারটে গোলও করতে পারতাম।”


ম্যাচ শেষে টাচেলও স্বীকার করেন যে, প্রথমার্ধে তাঁর দল কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগছিল। ইংল্যান্ড কোচ বলেন, “প্রথমার্ধে আমরা খুব বেশি রক্ষণাত্মক ছিলাম এবং নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারিনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ছেলেরা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।”
কিন্তু বিরতিতে কী এমন বলেন টাচেল? “আমি শুধু ওদের সাহস করে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছি।আমি ওদের বলি, আমরা হারলেও গত ১৭ দিনে দল সম্পর্কে আমার ধারণা বদলাবে না। কিন্তু চল, আমরা আমাদের নিজেদের মতো করে খেলি। এর পরেই ওরা মানসিক ভাবে চাঙ্গা হয়ে যায়”, বলেন হ্যারি কেনদের কোচ।

দলের খেলা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা ফলাফল রক্ষা করার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলাম। আমরা কার্যত সাতজনকে পিছনে রেখে খেলছিলাম, অথচ ঠিকমতো রক্ষণও করতে পারছিলাম না। ফলাফল যদি আমাদের পক্ষে না-ও যায়, তবুও আমরা চাই আমাদের নিজস্ব স্টাইলে খেলতে”।
ইংল্যান্ডের কোচ আরও যোগ করেন, “আমি তাদের বলেছিলাম সাহসী হতে, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে এবং আরও স্বাধীনভাবে খেলতে। দ্বিতীয়ার্ধে তারা সেটাই করেছে।”

অন্যতম গোলদাতা জুড বেলিংহ্যাম বলেন, “আজ কোনও নাটকীয় পরিস্থিতি ছিল না, যেখানে কোচ দাঁড়িয়ে চিৎকার করছিলেন। দল ঠিক যা শুনতে চেয়েছিল, তিনি সেটাই বলেছেন। আমাদের দলে অনেক পরিণত মানসিকতার ফুটবলার এবং দুর্দান্ত নেতারা রয়েছে। সবাই জানত, আমাদের কোন স্তরে পৌঁছতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা আমাদের জন্য দারুণ একটা ভিত তৈরি করে দিয়েছিল।”
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসের শিখরে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। তবে টাচেল সতর্ক করে দিয়েছেন যে, টুর্নামেন্ট এখনও অনেক বাকি এবং দলকে আরও উন্নতি করতে হবে। তাঁর মতে, প্রথম ম্যাচে জয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিশ্বকাপ জিততে হলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।