বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির হার যতটা না চর্চায়, তার চেয়েও বেশি বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে অতিরিক্ত সময়ে জোনাথন তাহের বাতিল হওয়া গোলটি। ভিএআরের হস্তক্ষেপে সেই গোল খারিজ হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জার্মানির অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড থমাস মুলার। তাঁর অভিযোগ, জার্মানিকে ‘ঠকানো’ হয়েছে।
অতিরিক্ত সময়ে, ১০১তম মিনিটে কর্নার থেকে জোনাথন তাহের হেড করা গোলে জার্মানি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে বলেই মনে হয়েছিল। সতীর্থরা তাঁকে নিয়ে হইচইও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক তখনই ভিএআরের নির্দেশে মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদ সাইডলাইন মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখেন। রিপ্লে দেখার পর তিনি গোলটি বাতিল করে দেন। তাঁর মতে, গোল হওয়ার আগে জার্মান ডিফেন্ডার ভাল্ডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে বাধা দিয়েছিলেন।
এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না মুলার। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে এখন আর বুঝতেই পারছি না, ভিএআর ঠিক কী দেখছে। এটা কেমন সিদ্ধান্ত? গোলরক্ষকই বুঝি এখন মাঠের সবচেয়ে সুরক্ষিত খেলোয়াড়! আমি যা দেখেছি, তাতে জার্মানি সম্পূর্ণ বৈধ একটি গোল করেছে। জোনাথন তাহ দুর্দান্তভাবে বলের জন্য লড়েছে, ন্যায্যভাবেই অসাধারণ একটি গোল করেছে। এটাই তো ফুটবল। এই গোল কোনওভাবেই বাতিল হওয়া উচিত ছিল না।’
ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ব্যবহৃত এবং প্রতারিত মনে করছি। এটা সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দিনের আলোয় ডাকাতি হলো। যদি এটাকে ফাউল বলা হয়, তা হলে ফুটবলে ধারাবাহিকতা বলে আর কিছুই রইল না। এই বিশ্বকাপে এর চেয়ে অনেক বেশি শারীরিক সংঘর্ষকে বৈধ ধরা হয়েছে। কিন্তু এখানে রেফারি আর ভিএআর এমন কিছু খুঁজে বের করল, যা আদৌ হয়নি।’
ভিএআরের প্রভাব নিয়ে নিজের হতাশাও লুকিয়ে রাখেননি জার্মান তারকা। তাঁর কথায়, ‘একজন ফুটবলারের সারাজীবনের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলার। একজন প্রতিটি বলের জন্য লড়বে, এমন একটি গোল করবে, যা ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে, আর তার পর কয়েক শো মিটার দূরে একটি ঘরে বসে থাকা কেউ এমন একটা সিদ্ধান্ত নেবে, যার সঙ্গে কোটি কোটি মানুষ একমত হবে না। মাঠে থাকা একজন ফুটবলারের কাছে এর চেয়ে হৃদয়বিদারক আর কিছু হতে পারে না।’
হার মেনে নেওয়ার মানসিকতা তাঁর আছে বলেই জানিয়েছেন মুলার। তবে এই সিদ্ধান্ত নয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ যদি ভালো খেলেও জেতে, সেটা মেনে নিতে পারি। নিজেরা সুযোগ নষ্ট করে হারলেও কোনও অভিযোগ থাকে না। কিন্তু সম্পূর্ণ বৈধ একটি গোল এমন এক ব্যাখ্যায় বাতিল হয়ে যাবে, যা কেউই বুঝতে পারে না—এটা আমি মেনে নিতে পারছি না। জার্মানির এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার ছিল। ফুটবলেরও এর চেয়ে ভালো কিছু প্রাপ্য। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, প্রযুক্তি আমাদের রক্ষা করার বদলে আমাদের শাস্তিই দিল।’
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। আর বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত, বাতিল হওয়া গোল এবং জার্মানির অকাল বিদায়—সব মিলিয়ে এই ম্যাচই এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির একটি।