আইএফএ-র সহ সভাপতি গুরুতর অভিযোগ আনলেন

প্রতীকী চিত্র

আইএফএ’র সহসভাপতি সৌরভ পাল বেঙ্গল সুপার লিগে বেটিং নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ।সরাসরি তিনি বেঙ্গল সুপার লিগের অফিশিয়াল পার্টনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন ।আর,বেঙ্গল সুপার লিগের প্রধান স্বত্ব আইএফএ’র হাতে আছে। কিছুদিন আগেই, ‘লিওনেল মেসি কান্ডে’ বাংলায় তোলপাড় হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এখন ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্বে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলার ফুটবল ঘিরে আইএফএ’র সহ সভাপতি স্বয়ং সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ আনছেন।

শুধু তাই নয়,কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের বেটিং কান্ড নিয়ে তথ্য সরবরাহ করে এক ফুটবলপ্রেমী সকলের নজর কেড়েছিলেন, তাঁকে আইএফএ সন্মান জানিয়ে প্রচারমাধ্যমের সামনে আনা হয়েছিল সেই ব্যক্তিও সামাজিক মাধ্যমে একই অভিযোগ এনেছেন। সাধারন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে। প্রসঙ্গতঃ কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষ হতেই ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে ধরপাকড় শুরু হয়। এমন আবহে এই অভিযোগ প্রমান করে আসল অপরাধীরা এখনও বাইরেই আছে।

ছদ্মবেশে বেশ কিছু নিউজ পোর্টাল আসলে বেটিং সাইট পরিচালনা করে। এমন এক বেটিং সাইটের দিকে তিনি দৃষ্টিপাত করেছেন। তাদের লোগো বা ব্র্যান্ডিং নিয়ে মূলতঃ অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস এই সাইটের বিষয়ে আইএফএ’কে সর্তক থাকতে বলেছিলেন।


স্পনসরশিপের অর্থের চেয়ে ফুটবলের স্বচ্ছতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে আইএফএ’র উচিত স্পষ্ট ঘোষনা, কোনও বেটিং-সংশ্লিষ্ট সংস্হার টাকা তারা গ্রহণ করবে না। ক্লাবগুলোকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা উচিত।

যেহেতু ক্রীড়া দপ্তর এখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, তাই আইএফ-র একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে সরকারের কাছে ‘অ্যান্টি-করাপশন সেল’ গঠনের অনুরোধ করা যায়। যা সরাসরি লিগের প্রতিটি ম্যাচে নজরদারি চালাবে। কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের বেটিং নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে। আইএফএ-র কাজের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আইএফএ পরিচালনার কাজ যেহেতু বন্ধ করে দেওয়া যায়না, আইএফএ বেঙ্গল সুপার লিগ নিয়ে ‘স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন’ গঠন করুক। সেই কমিটি অবিলম্বে দেখুক, এই বেঙ্গল সুপার লিগের নিয়মাবলি কোথায় মানা হচ্ছে না ।

বেঙ্গল সুপার লিগে জেলার নাম জড়িয়ে আছে। কলকাতা লিগের ম্যাচ থেকে খেলোয়াড় বেছে “প্লেয়ার ড্রাফট” তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকে প্লেয়ার বেছে বেঙ্গল সুপার লিগের টিম তৈরি হয়েছে।

বেঙ্গল সুপার লিগের দল গঠনের পর মনে হচ্ছে,জেলার দলগুলো ছদ্মবেশে কলকাতা লিগের কিছু ক্লাব ও তার কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রন করছেন। খেলোয়াড় বাছাই শেষে এমনভাবে বিভিন্ন দল হয়েছে–কলকাতা লিগের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা চাইলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরাসরি বিভিন্ন দলকে প্রভাবিত করতে পারেন।

কলকাতা লিগ নিয়ে যেখানে বেটিং চক্রের যোগাযোগ প্রমানিত হয়েছে,সেখানে উদ্বোধনী বেঙ্গল সুপার লিগে, কলকাতা লিগের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রন দেওয়া হলো কেন?আইএফএ’র গুরুত্বপূর্ণ পদের আধিকারিকদের দলের ফুটবলার ও কোচদের যদি প্রাধান্য দেওয়া হলো–তবে এই লিগকে জেলা লিগের ‘নবজাগরন’ অ্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে কেন?এরপরেও আইএফএ প্রভাবশালী ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে সত্যিই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে?

কলকাতা লিগের মতন বেঙ্গল সুপার লিগেও তরুন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা অনেক সময় ভুল করেই এই চক্রে পড়ে যায়। খেলোয়াড়রা পরিচয় গোপন রেখে কোথায় ও কিভাবে অভিযোগ জানাবে? খেলোয়াড়দের নিয়ে এমন কোনও কাউন্সিলিং হয়েছে, যার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা সচেতন হবেন ? ময়দানের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবের নাম এই বেটিং ও ফিক্সিং কান্ডে জড়িয়ে গেল। ময়দানের পোড়খাওয়া কর্মকর্তারা এই ক্লাবের শুভানুধ্যায়ী হিসেবে নিজেদের জাহির করেন। বদনাম যা হওয়ার ঐ ক্লাবের হলো। কলকাতার ক্লাবের যদি বদনাম হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে জেলার দলকে ঘিরে বদনাম হবেনা–এই নিশ্চয়তা কে বা কারা দিতে পারবে? তাই,আইএফএ’র সহ সভাপতি বেঙ্গল সুপার লিগ নিয়ে যে অভিযোগ এনেছেন, আইএফএ এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দেবে? বাংলার ফুটবলমহল সেদিকে তাকিয়ে থাকবে।

কলাকতা ​লিগ ফুটবলে ​বেটিং ​চক্রের প্রভাব দেখতে পাওয়া গিয়েছিল৷ তাহলে কী বেঙ্গল সকার লিগে সেই ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে৷