স্নাতক ডিগ্রির টানে আয়ারল্যান্ডে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বপ্নপূরণ, অভিষেকেই উইকেট! টঙ্কের জয় মূন্দ্রার অনন্য লড়াই

Jai Moondra Photo-SNS

পড়াশোনার জন্য দেশ ছেড়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন। কিন্তু সেই বিদেশযাত্রাই খুলে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা। রাজস্থানের টঙ্কের ছেলে জয় মূন্দ্রা আজ আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি অদম্য ভালোবাসাই তাঁকে এনে দিয়েছে এই সাফল্য।

২০২১ সালে আয়ারল্যান্ডে পাড়ি দেন জয়। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ— সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ের মধ্যেও ক্রিকেট ছাড়েননি। স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নজর কেড়ে নেন নির্বাচকদের। বিশেষ করে লেইনস্টার ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। সেই পারফরম্যান্সই জাতীয় দলের দরজা খুলে দেয় তাঁর সামনে।

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের জন্য ঘোষিত আয়ারল্যান্ড দলে প্রথম বার জায়গা পেয়েছেন বাঁ-হাতি পেসার জয়। সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। অভিষেক সিরিজেই পাঁচ উইকেট নিয়ে ক্রিকেটমহলে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠেন। শুধু তা-ই নয়, সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই ওয়ান ডে দলে ডাক আসে তাঁর। শুক্রবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ান ডে অভিষেক হয় তাঁর। ম্যাচের প্রথম উইকেটটিও নেন তিনিই। ফেরান আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে।


 

জয়ের ক্রিকেটজীবনের শুরুও কম চড়াই-উতরাইয়ে ভরা ছিল না। ছোটবেলায় পেস বোলার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে ব্যাটিং ও স্পিন বোলিংয়েও নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর ক্রিকেটীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এক পাকিস্তানি কোচের। সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে সেই কোচের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণই তাঁকে নিজের দক্ষতায় আরও ধার বাড়াতে সাহায্য করে। পরে আবার নিজের স্বাভাবিক শক্তি, অর্থাৎ পেস বোলিংয়েই ফিরে আসেন জয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার পরও তাঁর লক্ষ্য থেমে নেই। নিজের জায়গা আরও শক্ত করা এবং আয়ারল্যান্ডের হয়ে দীর্ঘদিন খেলাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। জয় মনে করেন, বিদেশে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করা সহজ ছিল না। কিন্তু ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং ক্রিকেটের প্রতি অটুট বিশ্বাসই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

টঙ্কের ছোট শহর থেকে ডাবলিন— জয়ের এই পথচলা শুধু এক ক্রিকেটারের সাফল্যের গল্প নয়। এটি প্রমাণ করে, সুযোগের সন্ধানে ঘর ছাড়লেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে রাখলে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেকে মেলে ধরা সম্ভব।