এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এ তাদের প্রথম ম্যাচ পাঁচ দিন পরেই। সে জন্য শনিবারই জর্ডানে উড়ে যাচ্ছেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সে দেশের অন্যতম সেরা দল আল হুসেইনের বিরুদ্ধে নামবে তারা।
প্রতিপক্ষ হিসেবে বেশ কঠিন আল হুসেইন। জর্ডানের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন দলটি তাদের দেশের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব। টানা তিন বার জর্ডানের প্রথম ডিভিশনের খেতাব জিতেছে তারা।
২০২৪-২৫ মরসুমে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এর শেষ ষোলোয় উঠেছিল আল হুসেইন। পরের মরসুমে আরও এক ধাপ এগিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছয় তারা।
আল হুসেইনের খেলার ধরনও বেশ আক্রমণাত্মক। সাধারণত হাই লাইন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে তারা। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দলের একাধিক ফুটবলারের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জর্ডানের দলে আল হুসেইনের পাঁচ জন ফুটবলার ছিলেন। ফলে ইস্টবেঙ্গলের সামনে যে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে, তা বলাই যায়।
প্রতিপক্ষকে নিয়ে যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করেছেন ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। দল নিয়ে জর্ডানে উড়ে যাওয়ার আগে শুক্রবার তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জানি। নতুন দুজন স্ট্রাইকার এনেছে ওরা। ম্যাচটা বেশ কঠিন হতে চলেছে। আমাদের দীর্ঘ সফর করতে হবে। তার পরে মাঠে নামতে হবে’।
ম্যাচটা কঠিন ঠিকই। কিন্তু তাঁরা যে জেতার কথা ভেবেই মাঠে নামবেন, তা সাফ জানিয়ে দেন হাবাস। বলেন, ‘আমি কখনও ড্রয়ের জন্য খেলি না। আমি জিততেই দল নামাই। প্রতিপক্ষকে কখনও ছোট বা বড় মনে করি না। আমাদের নিজেদের খেলায় ফোকাস করতে হবে। নিজেদের ভালো খেলাটাই আমার কাছে আসল’।
প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সকেই যে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাও জানাতে ভুললেন না ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ। বলেন, ‘খেলার ফল ৭০ শতাংশ আমাদের পারফরম্যান্স ও কৌশলের ওপর নির্ভর করবে। বাকি ২৫ শতাংশ নির্ভর করবে প্রতিপক্ষের ওপর। সেভাবেই আমাদের কৌশল তৈরি করতে হবে এবং তা বাস্তবায়িত করতে হবে’।
নিজের দল ও খেলোয়াড়দের নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তিনি। বলেন, ‘আমাদের একশো শতাংশ তৈরি হয়ে যেতে হবে। কারণ, প্রতিপক্ষের খুব ভাল ভাল খেলোয়াড় রয়েছে। ম্যাচে তীব্রতা থাকবে। আমাদের দায়িত্ব হল ম্যাচটা ভাল খেলে জিতে আসা’।
তাঁর দলে যে কোনো বিশেষজ্ঞ স্ট্রাইকার নেই, এ কথা মানতে রাজি নন হাবাস। বলেন, ‘জেসিন, ডেভিড, এডমুন্ডদের ওপর আমার যথেষ্ট আস্থা আছে। ডেভিড আমাদের দলের সবচেয়ে ভাল স্ট্রাইকার। আমার কাছে এখন ও-ই সেরা। জেসিনও আছে। ওরাই আমার দলের স্ট্রাইকার। দলে যারা রয়েছে, তাদেরই আমি সেরা বলে মনে করি’।
পিভি বিষ্ণু ও জেসিন টিকে-ও যে এই ম্যাচে খেলতে পারেন, তা জানিয়ে দিলেন হাবাস। ক্রিস ইকোনোমিডিস যে এখন অনেক উন্নতি করেছেন, তাও জানিয়ে দেন তিনি বলেন, ‘ক্রিস ৯০ মিনিট খেলার জন্য তৈরি। ও খুব ভালো খেলোয়াড়। মহম্মদ রশিদও এখন সুস্থ আছে, দলের সঙ্গে যাবে, খেলতেও পারে। ওর সমস্যাটা এমন কিছু বড় মাপের নয়’।
ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করার পর সমর্থকদের নয়নের মণি এখন এডমন্ড লালরিন্ডিকা। কোচ হাবাস অবশ্য এ ভাবে কাউকে আলাদা চোখে দেখেন না। তবু এডমন্ডের ওপর তাঁর একটা আলাদা আবেগ রয়েছে। তাঁকে নিয়ে হাবাস বলেন, ‘ওকে আমি ইন্টার কাশীর সময় থেকে দেখছি। ও এখন অনেক উন্নতি করেছে। ও যে তীব্রতার সঙ্গে খেলে, সেই তীব্রতা নিয়েই অনুশীলন করে, এটা ওর একটা দারুন গুণ’।
সব মিলিয়ে হাবাস দল সম্পর্কে যথেষ্ট উচ্চ ধারণা নিয়েই জর্ডানে উড়ে যাচ্ছেন এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বের অভিযান শুরু করতে। দল নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার মতো অবস্থায় রয়েছে বলেই আমি মনে করি। ভারতের ক্লাব বলে যে ভাল খেলতে পারব না আমরা, তার কোনো মানে নেই। খেলাটা ১১ বনাম ১১ হয়। ম্যাচের ৯০ মিনিটে যারা ভাল খেলবে, যাদের কৌশল ভাল হবে ও তাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবে, তারাই সফল হবে। আমার কাছে ফুটবল এ রকমই। এই ম্যাচেও সেই মানসিকতা নিয়েই দল নামাব’।
এ দিন পুরো দল নিয়ে অনুশীলন করেন হাবাস। শুরুর দিকে কিছুক্ষণ সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের সামনে অনুশীলন করলেও সবাইকে গ্যালারি থেকে সরিয়ে দিয়ে গোপনে আসল প্রস্তুতি সারেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ, ফুটবলাররা। প্রায় ৩০ ঘণ্টা সফর করে জর্ডানে পৌঁছনোর আগে এটাই ঘরের মাঠে তাদের শেষ অনুশীলন। ম্যাচে কী ফল হবে, তা তো কারও হাতে নেই। কিন্তু নিজেদের সেরাটা দেওয়া যে নিজেদেরই হাতে, তা তাঁর দলের ছেলেদের মাথায় পুরোপুরি ঢুকিয়ে দিতে মরিয়া স্প্যানিশ ফুটবলগুরু।