যুব বিশ্বকাপে নতুন তারকার নাম এখন হেনিল প্যাটেল

১৯ বছর বয়সী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের অভিযান শুরু হয় আমেরিকাকে হারিয়ে। আর এই খেলায় সবারই নজর ছিল ভারতের বিস্ময় ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর দিকে। কিন্তু বৈভব এই ম্যাচে সেই অর্থে কোনও রানই পায়নি। তবুও ভারতীয় দল খুব সহজেই জয় তুলে নিয়েছে। এই জয় তুলে নেওয়ার পিছনে ভারতের আরও এক তরুণ প্রতিভার জন্ম হল। তিনি হলেন হেনিল প্যাটেল। গুজরাতের এই ক্রিকেটার পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন। তিনিই ছিলেন ম্যাচ জেতার অন্যতম কারিগর। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় জয়ের নেপথ্যে তিনি নায়ক হয়ে উঠেছেন। গুজরাতের তাঁর প্রিয় গ্রাম জুজওয়ার উৎসবে চেহারা নিয়েছে হেনিল প্যাটেলের সাফল্যে। তাঁর গ্রামের জনসংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। তবুও তিনি গ্রামে শিরোমণি হয়ে উঠেছেন। গ্রামের সম্মান বড় জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন।

গুজরাত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন শিবিরে তিনি যখন যোগ দেন, তখন থেকেই তিনি সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর হাতে যেভাবে বল দেখতে পাওয়া গেছে, তা নিয়ে প্রত্যেকেই অবাক হয়ে গিয়েছেন। তরুণ তুর্কী এই ক্রিকেটার ট্রেনিং ক্লাব হোক বা ক্রিকেট ক্লাবই হোক, সেখানে তাঁর দুরন্ত ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছে। খুব সহজে হার মানতে রাজি ছিলেন না হেনিল। তাঁর মনের মধ্যে একটা লড়াই করার ইচ্ছা রয়েছে। আর এই লড়াইয়ের পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছেন প্যাটেলের বাবা দিলীপ প্যাটেল। বাবা তাঁকে ছোটবেলা থেকেই হেনিলকে ক্রিকেট খেলতে অনুপ্রাণিত করতে থাকেন। নিজে একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। এমনকি কোনওরকম নামি ক্রিকেটার বা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। আর্থিক সামর্থ্যের দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষটি সবসময় খেলার প্রতি নজর রাখতেন এবং কীভাবে উন্নত জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করতেন।

ক্রিকেটার হেনিলের অনুপ্রেরণা বলতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার ডেল স্টেইন। তাঁর মতো মুভমেন্ট ও বাউন্স করতে চেষ্টা করতেন হেনিল। হেনিল খুব সহজেই বল হাতে দুই প্রান্তই ঘোরাতে পারতেন। স্টান করার মতো ক্ষমতা তাঁর আছে। অল্প কথা বলতে ভালোবাসেন। কিন্তু বল হাতে তিনি মারাত্মক হয়ে ওঠেন। সেখানে কোনওরকম আপস করতেন না। নিজের কাজটি সফল করার জন্য সবসময় তপস্যা করতেন। তারই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে ভারতের দাপট কতটা প্রকাশ করতে পারা যায়, তার উদাহরণ হয়ে রয়েছেন হেনিল প্যাটেল।