আইপিএল ক্রিকেটে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দল এই মুহূর্তে খুবই খারাপ জায়গায় রয়েছে। একটা সময় মুম্বাই দল ১৬ ওভার হিসাব করে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিত। আর এই চার ওভার রেখে দেওয়া হত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোলার যশপ্রীত বুমরার জন্য। কিন্তু এবারে যশপ্রীত বুমরা একেবারে ছন্দহীন। তাঁর বলে যেভাবে প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানরা চার বা ছক্কা মারছেন, তা খুবই কষ্টদায়ক। চোখ বন্ধ করে তাঁর বলে বড় শর্ট মারছেন তাঁরা। বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার বুমরাকে এইভাবে দেখতে হবে, তা কেউই ভাবতে পারছেন না। বুধবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে চার ওভারে ৫২ রান দিয়েছেন বুমরা। একটিও উইকেট পাননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিষেক শর্মার রেকর্ড ভাল ছিল না।
প্রসঙ্গত, এর আগে পাঁচ বারের সাক্ষাতে দু’বার অভিষেককে আউট করেছেন বুমরা। অভিষেক ৭৫ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৭ রান। কিন্তু বুধবার বুমরাহের মন্থর বল মিড অনের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিলেন অভিষেক। তার পরেই ট্রেভিস হেড সোজা বুমরার মাথার উপর দিয়ে মারলেন ৯৯ মিটার লম্বা ছক্কা। পাওয়ার প্লে-তে দু’ওভারে ৩২ রান দেন বুমরা। আইপিএলে পাওয়ার প্লে-তে এর আগে কোনও দিন এত রান দেননি তিনি।
পাওয়ার প্লে-র পরেও ছবিটা বদলায়নি। এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে বুমরাহের বল উড়িয়ে দেন হাইনরিখ ক্লাসেন। তার পরেই আসে মুম্বই সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত। ঘরোয়া ক্রিকেটার সলিল অরোরাও মিড অফের দিয়ে বুমরাহকে ছক্কা মারেন। শট মারার পর তিনি বলের দিকে তাকাননি পর্যন্ত। বুধবারের ম্যাচে পাঁচটি ছক্কা খেয়েছেন বুমরাহ। এই ছবি খুব একটা দেখা যায় না।
এ বারের আইপিএলে আট ম্যাচে ৩০ ওভার বল করেছেন বুমরাহ। দিয়েছেন ২৬৪ রান। অর্থাৎ, ওভার প্রতি ৮.৮০ রান। টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারে বুমরার ইকোনমি রেটের (৭.৩৩) থেকে তা অনেকটাই বেশি। কেরিয়ারে বুমরার বোলিং গড় ২৩.২১। এ বারের আইপিএলে তিনি মাত্র ২টি উইকেট পেয়েছেন। তাঁর বোলিং গড় ১৩২। আইপিএলে বুমরাহের বলের গড় গতি কমে হয়েছে ঘণ্টায় ১৩২.১ কিলোমিটার।
বুমরার বোলিংয়ের বিশ্লেষণ করেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁর মতে, উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মুম্বাইয়ের পেসার। অশ্বিন বলেন, “বুমরার আসল শক্তি ইয়র্কার বল করে ব্যাটসম্যানকে আটকে রাখা। রান না এলে ব্যাটার ঝুঁকি নিতে গিয়ে উইকেট দেয়। ওয়ানখেডের মতো মাঠে সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ বার বুমরাহ অনেক বেশি চেষ্টা করছে। তাতেই সমস্যা হচ্ছে।”
ইরফান পাঠানের মতে, বলের গতি বেশি কমিয়ে ভুল করেছেন বুমরা। ইরফান বলেন, “এ বার ৪৪ শতাংশ বল মন্থর করেছে বুমরাহ। অর্থাৎ, প্রতি দুই বলে একটা। ওর ফর্ম নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ওর গড় গতি কমে ১৩০ কিলোমিটারে চলে গিয়েছে। যদি ও আরও গতিতে বল করত, তা হলে ভাল করত। বুমরার মতো বোলারকে কিছু শেখানোর নেই। কিন্তু এই পরিসংখ্যান ওকে খেয়াল রাখতে হবে।”
এই পরিস্থিতিতে মুম্বইয়ের সহকারী কোচ কাইরন পোলার্ড ইঙ্গিত দিয়েছেন, বুমরাকে বসিয়ে দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের দেখতে হবে কেন বুমরা ভাল বল করতে পারছে না। ও তো বছরের পর বছর ধরে এটা করেছে। ও মানুষ। তাই ওর ভুল হতেই পারে। কয়েকটা ম্যাচ, বা একটা মরসুম খারাপ যেতেই পারে। এই সময় প্রত্যেক ক্রিকেটারের প্রয়োজন সময়, বিশ্রাম ও বিরতি। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ও বছরের পর বছর ধরে মুম্বই ও ভারতের হয়ে কী করেছে।” পোলার্ডের এই কথা থেকে মনে হচ্ছে, কয়েকটি ম্যাচে বুমরাকে বসানো হতে পারে। তাতে হয়তো পুরনো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন তিনি। সেই আশায় বুক বেঁধেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দল।