বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে প্রথমবারের মতো থাকছে সুপার বোলের আদলে হাফটাইম শো। সেই ঘোষণার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে জোর জল্পনা ছিল— তা হলে কি ১৫ মিনিটের বদলে প্রায় আধঘণ্টা বন্ধ থাকবে ম্যাচ? সেই বিতর্কেরই অবসান ঘটল ফাইনালের আগের দিন।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিরতির সময় অবশ্যই স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বাড়বে। তবে তা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গড়াবে না। বিভিন্ন সম্প্রচার-সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাফটাইমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ মিনিট। মঞ্চ তৈরি ও পরে তা সরাতে আরও প্রায় ১৪ মিনিট লাগবে। ফলে মোট বিরতির সময় হবে প্রায় ২২ মিনিটের কাছাকাছি, ৩০ মিনিট নয়।
এই প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে সুপার বোলের ধাঁচে হাফটাইম শোর আয়োজন করছে ফিফা। নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালের দুই অর্ধের মাঝে ক্রিস মার্টিন, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, বিটিএস, শাকিরার মতো বিশ্বের একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী মঞ্চে পারফর্ম করবেন। এই আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে গ্লোবাল সিটিজেন এবং কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিনের পরিকল্পনা।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ফুটবলের ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বহু প্রাক্তন ফুটবলার, কোচ এবং সমর্থক। তাঁদের মতে, দীর্ঘ বিরতি ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করতে পারে, ফুটবলারদের শারীরিক ছন্দেও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই একে ফুটবলের ‘মার্কিনিকরণ’-এর একটি উদাহরণ বলেও কটাক্ষ করেছেন।
যদিও ফিফার যুক্তি আলাদা। বিশ্বকাপকে আরও বড় আন্তর্জাতিক বিনোদনমঞ্চে পরিণত করতেই এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের কাছে ফুটবলকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে ম্যাচের বিরতির সময় যতটা সম্ভব সীমিত রাখার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। তাই ৩০ মিনিটের বিরতির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ফিফা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছে, অনুষ্ঠান হবে ঠিকই, কিন্তু তার জন্য ম্যাচ অযথা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকবে না।