ভারতীয় ফুটবল এখন ফিফা ক্রমতালিকায় ১৩৩য়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারপরে আইএসএল ফুটবল হবে কিনা, তা নিয়ে বেশকিছু দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ধরেই নেওয়া যেতে পারে, যদি এই ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়, সেক্ষেত্রে ফেডারেশন নিজের দায়িত্ব নিয়ে আয়োজন করার কথা ভাবতে পারে। কিন্তু সেখানেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই আইএসএলে অংশ নেওয়া ১২টি দলের কর্মকর্তারা চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, তাঁরা অর্থ জোগাড় করে এই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। এমনকি ফেডারেশনের অন্যতম কর্মকর্তা সভাপতি কল্যাণ চৌবে প্রথম দিকে কিছুটা সম্মতি জানালেও পরবর্তী ক্ষেত্রে এই জায়গা থেকে পিছিয়ে আসেন।
এমনকি নতুন কমিটি গঠন করে ক্লাবগুলি এগিয়ে আসতে চেয়েছিল এই টুর্নামেন্ট চালু রাখার জন্য। কিন্তু হঠাৎই সারা ভারত ফুটবল ফেডারেশন রাতারাতি সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে এ ব্যাপারে আপত্তি থাকায় কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। যেখানে একটি কমিটি তৈরি করা রয়েছে, সেখানে নতুন করে কমিটি করার আর প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি, ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি কমিটি ইতিমধ্যেই গঠন করেছে। তাই নতুন করে অন্য একটা কমিটি গঠন করে কোনও লাভ হবে না। সেই কারণেই ফেডারেশন ভাবতে শুরু করেছে কীভাবে আইএসএল সংঘটিত করা যায়। যদি এই কমিটির পূর্ণ দায়িত্ব ফেডারেশন নেয়, তাহলে অন্য চিন্তাভাবনা শুরু হবে।
২০০৬ সালে ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া তৈরি হয়েছিল। তারা ২০০৯ সালে ফিফপ্রো-র অনুমোদন পায়। আর এই কমিটি সভাপতি ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক পদ্মশ্রী বাইচুং ভুটিয়া।
তবে এই মুহূর্তে এই সংস্থার সভাপতি প্রাক্তন ফুটবলার মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু। ওয়াডু বলেছেন, বিশ্বের কোথাও ফেডারেশনের অধীনে ফুটবলারদের কমিটি থাকে না। ফুটবলারদের এই কমিটি ফুটবলারদের স্বার্থেই কাজ করে। তাদের হয়ে লড়াইয়ে অংশ নিয়ে থাকে এই কমিটি। যদি সেই কমিটির কোনও অধিকারই না থাকল, সেই কমিটির মূল্য কোথায়? ফিফপ্রো-র আপত্তি জবাব দিয়েছেন ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। সচিব এন সত্যনারায়ণ বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনেই ফেডারেশন কাজ করে থাকে। সেই কারণেই মনে হয় ফেডারেশনের অধীনেই ফুটবলারদের যে কমিটি রয়েছে, তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। তাহলে অন্য একটা কমিটি গঠন করার প্রয়োজন আছে কি? ফেডারেশন অনুমোদিত ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন যেভাবে কাজ করছে, সেইভাবেই চলবে। এখানে ফেডারেশনের কোনও আপত্তি নেই।