কবাডির মাঠের প্রবেশদ্বারে তালা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

১৯৫১ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বাংলার জাতীয় খেলা বলতে চিহ্নিত ছিল কবাডি। আর এই কবাডি সংস্থাকে বড় জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিলেন তৎকালীন সচিব প্রয়াত অচিন্ত্য সাহা। তিনিই প্রথম বাংলার কবাডিকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এমনকি জাপান থেকে কবাডি দল এনে কলকাতা ময়দানে প্রদর্শনী ম্যাচ সংগঠিত করেছিলেন। তারপরে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল অচিন্ত্য সাহার কলকাতা ময়দানে প্রথম ক্রীড়া পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করার।

জাপান কবাডি সংস্থা থেকে বিশেষ উপহারও পেয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল কবাডি অ্যাসিসেয়েশন অত্যাধুনিক একটি অ্যাম্বুলেন্স। ধীরে ধীরে পট পরিবর্তন হয়েছে। কর্মকর্তা বদলেছেন। নিজেদের মধ্যে রেষারেষি করতে গিয়ে বাংলার কবাডিকে ধ্বংস করা হয়েছে। সাফ গেমসে বাংলার কবাডি খেলোয়াড়রা চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এমনকি কবাডি থেকে বাংলার চারজন খেলোয়াড় অর্জুন পুরস্কার পেয়েছেন। সেই কবাডি সংস্থার এখন সেই অর্থে ভগ্নদশা। এই অ্যাসোসিয়েশন ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ায় অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে।

এমনকি এই অ্যাসোসিয়েশন তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। যার ফলে খেলোয়াড়রাও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। একটা সময় দেখা গেল এই তাঁবু দখল করে নিয়েছে অ্যামেচার কবাডি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার ওয়েস্ট বেঙ্গল শাখা। আর এই সময় সর্বময় কর্তা ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত সুব্রত মুখার্জি। পরবর্তী সময় এই সংস্থার প্রধান ছিলেন স্বপন ব্যানার্জি। তিনটি অ্যাসোসিয়েশনকে তিনি একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন।


তবে বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থায় অনুমোদিত সংস্থা বলতেই ছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল কবাডি অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি একটা অ্যাডহক কমিটি তৈরি হয়েছিল। সেখানে তিনটি সংস্থার কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি দেখা গেল, অ্যামেচার কবাডি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার ওয়েস্ট বেঙ্গল শাখার সাইনবোর্ড পাল্টে গিয়ে লেখা হয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল কবাডি অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু সাইনবোর্ড পাল্টালেও কবাডি সংস্থার মাঠে প্রবেশ করা কারও পক্ষে এখন সম্ভব হচ্ছে না। ক্যান্টিনও বন্ধ। প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সেনা বিভাগের পক্ষ থেকে।