গতবছর থেকেই আইপিএল ক্রিকেটে বিস্ময় কিশোর ক্রিকেট বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। এবারেও সেই বৈভবকে নিয়েই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা আলোচনা শেষ করেননি। বরঞ্চ চলতি বছরে বেশ কয়েকটি ম্যাচে তাঁর অসাধারণ ভূমিকাকে প্রশংসা করা ছাড়া অন্য কোনও কথা নেই। এমনকি রাজস্থান রয়্যালসের সবচেয়ে ভরসা ক্রিকেটার বলতেই সেই বৈভব। বৈভবকে নিয়ে বিসিসিআইয়ের নির্বাচকমণ্ডলী আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন তাঁকে জাতীয় দলে কীভাবে খেলানো যায়। হয়তো অনেকেই বলবেন জাতীয় দলে এখনই বৈভবকে খেলানো হলে কিছু বিপদ দেখা দিতেই পারে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে জুনিয়র লেভেলে খেলা আর সিনিয়র দলের হয়ে লড়াই করার মধ্যে তফাত রয়েছে। তাহলে বলতে দ্বিধা নেই আইপিএল ক্রিকেট তো সিনিয়রদের নিয়েই দল গঠন করা হয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোনও কোনও দলের তরুণ ক্রিকেটাররা খেলছেন। এটা মনে রাখতে হবে, পেশাদারী ক্রিকেটার হিসেবে একটা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আর জাতীয় স্তরে খেলায় লড়াই করাটা বেশ কঠিন। তবুও বলতে দ্বিধা নেই শচীন তেণ্ডুলকর যে বয়সে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন, তার কাছাকাছি ওই বয়সেই বৈভব সূর্যবংশী ভারতীয় দলে জায়গা পেলে অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই।
সত্যিই যদি বৈভব জাতীয় দলের জার্সিটা গায়ে তুলে নিতে পারে, তাহলে এটাও একটা রেকর্ড হবে। রেকর্ড মাস্টার হিসেবে বিহারের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীকে চিহ্নিত করাই যায়।
ভারতীয় ক্রিকেটে এখন বৈভব আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। তারই সংকেত দিচ্ছে আইপিএল ক্রিকেটে। এই কিশোর বৈভব রাজস্থানের হয়ে যখন খেলতে নেমেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বিরুদ্ধে, তখন বিরাট কোহলির কাছে দাঁড়াতেই একটা অবাক কাণ্ড ঘটে গিয়েছিল। বিরাট কাছে ডেকে নিয়ে বৈভবের হাতে একটা অটোগ্রাফ করা টুপি তাকে পরিয়ে দেন। বৈভব অবাক বিস্ময়ে কোহলির দিকে তাকিয়ে ছিল অনেকক্ষণ। তারপরেই বেশ কিছুটা সময় কোহলির সঙ্গে আলাপচারিতায় বৈভব বলেছিল আমার জীবনে এটা সবচেয়ে বড় উপহার। বৈভব নিজেও ওই টুপিটা অত্যন্ত যত্ন সহকারে রেখে দিয়েছে। এমনকি সে যখন কোথাও খেলতে যায়, তখন তার ব্যাগে ওই টুপিটা দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি, কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ইডেনে বৈভবকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল সেই টুপিটা পরে মাঠে থাকতে। দর্শকরা যখন চিৎকার করে উঠেছিলেন বৈভবকে দেখে, সেই মুহূর্তে ওই টুপিটা মাথা থেকে খুলে হাতে দিয়ে দর্শকদের অভিনন্দন জানায়।
পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ কিশোর ক্রিকেটার বৈভবকে নিয়ে। শ্রেয়স বিশ্লেষণ করে বলেন, বৈভবের মধ্যে একটা ঐশ্বরিক প্রতিভা রয়েছে। যার ফলে তার বিচ্ছুরণ ঘটেছে। বৈভব উইকেটে খুব শান্ত। তার ব্যাটিং কৌশলও অন্যদের তুলনায় আলাদা। হয়তো সেই কারণেই অন্যান্য ক্রিকেটারের থেকে বৈভব একেবারে আলাদা। তার সাবলীল ব্যাটিং দক্ষতা এবং শৈলী অবশ্যই সবাইকে মোহিত করে। বৈভবের পাশে চলতি আইপিএলে আরও কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যা আগামী দিনে ভারতীয় দলে তাঁদের জায়গা পাকা হয়ে যাবে। বৈভবের ব্যাট থেকে এসেছে ছ’টি ম্যাচে ২৪৬ রান। সপ্তম ম্যাচে বুধবার রাজস্থান রয়্যালস মুখোমুখি হয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে। সবাই অপেক্ষা করছিলেন হয়তো এই খেলায় বৈভব সূর্যবংশী দুরন্ত ব্যাটিং করে দলকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু সেই আশা পূর্ণ হল না। বৈভব মাত্র ৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যায়। তারপরেই গ্যালারিতে হতাশায় ভেঙে পড়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।