ক্যামিংস-স্টার্ক-হেজলউডদের বাইরে রেখে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া দল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছে। আর এই সফরে অস্ট্রেলিয়া দলের মিচেল স্টার্ক, প্যাট ক্যামিংস ও জস হেজেলউডকে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। এই দুই দেশের সফরে দু’টি আলাদা দলের কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। আইপিএল ও আন্তর্জাতিক সূচির ধকল মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

৩০ মে থেকে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ। কিন্তু ওই একই সময় আইপিএল ক্রিকেটে প্লে-অফ ও ফাইনাল খেলা চলবে। সেই কারণে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট ক্যামিংসদের দলে রাখা হয়নি। অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্বে মিচেল মার্শ। লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে আইপিএল খেললেও তিনি পাকিস্তান সফরে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। নজর কাড়ছে নতুন ও প্রত্যাবর্তনকারী কয়েকটি নাম ।

পাকিস্তান সফরে ফিরেছেন বিলি স্ট্যানলেক এবং রাইলি মেরেডিথ। রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে গতি কাজে লাগানোর কথা ভেবে তাঁদের দলে রাখা হয়েছে।


প্রথমবার জাতীয় শিবিরে ডাক পেয়েছেন সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার লিয়াম স্কট এবং ভিক্টোরিয়ার তরুণ ব্যাটার অলিভার পিক। নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ বেইলি স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘পাকিস্তান সিরিজ আমাদের উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য বড় পরীক্ষা। বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন সফরগুলোর একটায় ওরা চাপ কীভাবে সামলায়, সেটাই দেখার!’ অজিদের ওয়ান ডে স্কোয়াডে রয়েছেন মিচেল মার্শ, অ্যালেক্স কেরি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, অ্যাডাম জাম্পাদের মতো পরিচিত মুখ।

আগামী জুন মাসে বাংলাদেশ সিরিজে ছবিটার অবশ্য বদল হচ্ছে। তখন দলে ফিরবেন ট্র্যাভিস হেড। সঙ্গে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে আইপিএল খেলা কুপার কনোলি, জেভিয়ার বার্টলেট এবং বেন ডোয়ারশুইস।

বাংলাদেশের মন্থর উইকেটের কথা মাথায় রেখে স্পিন বিভাগেও ধারাবাহিকতা রাখা হয়েছে। ম্যাথু কুনেম্যান এবং তানভির সাংহা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ, দুই সিরিজে থাকছেন। বাংলাদেশ সফরের টি-২০ দলে নতুন চমক অ্যারন হার্ডি, স্পেনসার জনসন এবং জোয়েল ডেভিসকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। ডেভিস প্রথমবার সিনিয়র দলে সুযোগ পেলেন। ফিরেছেন জশ ফিলিপও। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, আগামী বিশ্ব টুর্নামেন্ট মাথায় রেখে টি-২০ স্কোয়াড তৈরি করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বহুমুখী ক্রিকেটার, স্পিন সহায়ক পরিবেশে কার্যকর অপশন—এই ফর্মুলাই অজি বোর্ডের প্রধান পছন্দ।

৩০ মে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ক্রিকেট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ লাহোরে, ২ এবং ৪ জুন। বাংলাদেশে তিনটি একদিনের ম্যাচ হবে ঢাকায়—৯, ১১ এবং ১৪ জুন। এরপর ১৭, ১৯ ও ২১ জুন চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, এই দুই দেশ সফরে শুধু সিরিজ জেতা নয়, আগামী প্রজন্মকে তৈরি করার ক্ষেত্রে নজর দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। আইপিএল ক্রিকেট যতই জনপ্রিয় থাকুক না কেন, নিজের দেশের প্রতি তাঁদের অন্য আন্তরিকতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই নিজেদের ক্রিকেট ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।