খেলোয়াড় হিসেবে ভারতীয় টেনিসে তাঁর কৃতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন নেই। এ বার প্রশাসনের ময়দানেও বড় লড়াইয়ের সামনে লিয়েন্ডার পেজ। সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থা (এআইটিএ)-র সভাপতি পদে লড়তে চলেছেন ভারতের কিংবদন্তি টেনিস তারকা। আর সেই লড়াইয়ে তাঁর পাশে দাঁড়াল বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। সোমবার লিয়েন্ডারের প্রার্থীপদের আবেদনকে সমর্থন করেছে বাংলার টেনিস সংস্থা।
এআইটিএ সভাপতি হওয়ার দৌড়ে লিয়েন্ডারের সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় ডেভিস কাপ দলের অধিনায়ক রোহিত রাজপাল। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সভাপতি চিন্তন পারিখও লড়াইয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তবে তার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরোতে হবে লিয়েন্ডারকে। এআইটিএ-র ‘স্পোর্টসপার্সন অফ আউটস্ট্যান্ডিং মেরিট’ বা SOM নির্বাচনে তাঁকে জিততে হবে। তার পরেই সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার রাস্তা খুলবে।
লিয়েন্ডার বর্তমানে বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তাঁকে সমর্থন করে বিটিএ জানিয়েছে, ‘বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের কাউন্সিলের সদস্যেরা চান, ভারতের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ লিয়েন্ডার পেজ সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব নিন’।
কেন লিয়েন্ডারের পাশে বাংলা? বিটিএ-র বক্তব্য, ভারতীয় টেনিস এখন গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দরকার এমন নেতৃত্ব, যা খেলোয়াড়কেন্দ্রিক, স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ। খেলোয়াড়, কোচ, রাজ্য সংস্থা, প্রশাসক, স্পনসর-সহ টেনিসের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে এক ছাতার তলায় আনার মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেই মনে করছে তারা।
বিটিএ আরও বলেছে, ‘লিয়েন্ডারের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক পরিচিতি, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এবং চ্যাম্পিয়ন তৈরি করতে কী প্রয়োজন, সেই সম্পর্কে তাঁর গভীর ধারণা থাকার জন্যই তিনি এআইটিএ-র সর্বোচ্চ পদে বসার যোগ্য’।
১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী লিয়েন্ডার ভারতীয় টেনিসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। ১৯৯৬ আটলান্টা অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। অবসরের পর এ বার প্রশাসনে নতুন ইনিংস শুরু করেছেন। এআইটিএ-র SOM তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্প্রতি আবেদন করেন তিনি। সেই পদক্ষেপের পর থেকেই তাঁর এআইটিএ সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।
অন্য দিকে, রোহিত রাজপালও গত সপ্তাহে সভাপতি পদে লড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা, ডেভিস কাপ অধিনায়ক হিসেবে কাজ, এআইটিএ-র প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং ক্রীড়া প্রশাসনের অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই লড়াইয়ে নামতে উৎসাহিত করেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নতুন সংবিধান অনুযায়ী এবং জাতীয় ক্রীড়া আইন মেনে নির্বাচন হবে। আদালত নিযুক্ত প্রশাসক বিচারপতি গীতা মিত্তলের (অবসরপ্রাপ্ত) তত্ত্বাবধানে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
অর্থাৎ, লিয়েন্ডারের সামনে এখন প্রথম লড়াই SOM নির্বাচন। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে এবং নির্বাচিত SOM সদস্যদের মনোনয়ন পেলে তবেই এআইটিএ সভাপতি পদে তাঁর প্রার্থীপদ পাকা হবে। কিন্তু তার আগেই বাংলার সমর্থন চলে এল তাঁর পাশে। ভারতীয় টেনিস প্রশাসনের মসনদে এ বার যে লড়াই বেশ জমজমাট হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত পাওয়াই যাচ্ছে।