ইতিহাস গড়লেন পি ভি সিন্ধু। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম বার জাপান ওপেনের সুপার ৭৫০ খেতাব জিতলেন ভারতের দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী ব্যাডমিন্টন তারকা। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি।
রবিবার টোকিওয় মহিলাদের সিঙ্গলস ফাইনালে সিন্ধু সোজা গেমে হারিয়ে দেন জাপানের তারকা এবং তিন বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আকানে ইয়ামাগুচিকে। আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ব্যাডমিন্টন খেলে তিনি ২১-১৭, ২১-১৭ ব্যবধানে জয় তুলে নেন। এর ফলে কেরিয়ারের প্রথম সুপার ৭৫০ ট্রফি জেতার পাশাপাশি তিনিই প্রথম ভারতীয় হিসেবে জাপান ওপেনের খেতাব জয়ের নজির গড়লেন।
সিন্ধুর এই সাফল্যের পর সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। তিনি বলেছেন, ‘কেরিয়ারের প্রথম সুপার ৭৫০ খেতাব জয় ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য গর্বের বিষয়। সিন্ধুর এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে’।
এই জয় সিন্ধুর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, প্রায় দু’বছর পর তিনি আবার কোনও বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতলেন। ২০২৪ সালের সৈয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনালের পর এটাই তাঁর প্রথম ট্রফি। একই সঙ্গে ২০১৯-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এটিই তাঁর সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক খেতাব।
দীর্ঘদিন পর এই সাফল্যের পুরস্কার নিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভারতের সেরা ব্যাডমিন্টন তারকা। বলেন, ‘আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল। কারণ এই জয়টা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছিলাম। শেষ বার শিরোপা জিতেছিলাম ১৯ মাস আগে। আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম যে আমি এটা পারব। যদিও অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন, ‘কী হচ্ছে? ওর কি সব শেষ?’ বা এ ধরনের নানা কথা। কিন্তু আমি নিজের উপর বিশ্বাস হারাইনি। আমি আমার পরিবার, আমার কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফকে ধন্যবাদ জানাতে চাই’।
জাপান ওপেনে এই সাফল্যের সময়টা যে একেবারে উপযুক্ত, তাও জানিয়েছেন সিন্ধু। বলেন, ‘আমাকে একই ছন্দ বজায় রাখতে হবে, একই রকম শান্ত থাকতে হবে। আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। সেটাই আমার লক্ষ্য। আর এই সময়ে জয় পাওয়াটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেই ধারাবাহিকতাও বজায় রাখতে হবে’।
খেলায় কী পরিবর্তন করে সাফল্য অর্জন করলেন, সে প্রশ্নের উত্তরে সিন্ধু বলেন, শান্ত থাকা এবং অযথা ভুল কমিয়ে আনাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বলেন, ‘সেমিফাইনাল, ফাইনাল, প্রথম রাউন্ড বা দ্বিতীয় রাউন্ড— যে ম্যাচই হোক না কেন, শান্ত থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেক সময় এগিয়ে থাকলে দ্রুত র্যালি শেষ করার চেষ্টা করি। তখনই সহজ কিছু ভুল হয়ে যায়। দ্বিতীয় গেমে আমার ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছিল। কিন্তু আমার কোচ বলেছিলেন, ‘কোনও সমস্যা নেই, পরের পয়েন্টে মন দাও। তাই যা হয়ে গিয়েছে, সেটা ভুলে গিয়ে আমি শুধু পরের পয়েন্টে মন দিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে’।
৩১ বছর বয়সি সিন্ধু আরও বলেন, নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক খেলায় ফিরে আসা এবং কোর্টে সাবলীলভাবে মুভ করতে পারাও সাফল্যের অন্যতম কারণ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আক্রমণাত্মক খেলা। আমি যেহেতু ভালোভাবে মুভ করতে পারছি এবং আক্রমণও ভালো করছি, তাই অযথা ভুলগুলো কমিয়ে আনা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল’।
ফাইনাল ম্যাচের প্রসঙ্গে সিন্ধু বলেন, এগিয়ে থাকলেও তিনি জানতেন যে এক মুহূর্তের জন্যও ঢিলেমি দেওয়ার সুযোগ নেই। বলেন, ‘সব সময় ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথম গেমে আমি এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু ইয়ামাগুচি ব্যবধান কমিয়ে ফেলেছিল। কারণ বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খেললে এগিয়ে থাকলেও কখনও নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। তাই এগিয়ে থাকলেও প্রতিটি পয়েন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি একই রকম আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রেখেছিলাম। দ্বিতীয় গেমেও সেটাই করেছি’।
শেষে নিজের কোচ আদি প্রতামা, স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ ওয়েন লোমবার্ড, সাপোর্ট স্টাফের অন্যান্য সদস্য, বাবা-মা, স্বামী ভেঙ্কটা দত্ত সাই এবং শ্বশুরবাড়ির সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিন্ধু।