আগামী বছরের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় দল। কিন্তু সেই প্রস্তুতির পথেই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কীভাবে সামলানো হবে?
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ শুরুর আগে উঠে এসেছে বড় খবর। গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকরা বিশ্বকাপের আগে নাকি ‘রোটেশন পলিসি’ কার্যকর করতে চাইছে। অর্থাৎ, সব ম্যাচে না খেলিয়ে মাঝেমধ্যে তাঁদের বিশ্রাম দিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্তে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি এবং কেএল রাহুলের মতো সিনিয়রদের রাজি করানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইংল্যান্ডে মঙ্গলবারের প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে অবশ্য দলের রয়েছেন দুজনেই। ম্যাচের আগে দেওয়া টিম লিস্ট অনুযায়ী রোহিতের ওপেন করার কথা শুভমান গিলের সঙ্গে। তার পরে একে একে আসার কথা বিরাট, শ্রেয়স, ওয়াশিংটন, রাহুল, শিবম, অক্ষরের। এ দিন তিন পেসারে নামে ভারত। জশপ্রীত বুমরা, গুরনুর ব্রার ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। সঙ্গে স্পিনার অক্ষর প্যাটেল। তবে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পায়নি ভারত। কারণ, টস জিতে ব্যাটিংয়ের সি্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড।
ভারতের দুই মহাতারকা এখন ভারতের হয়ে শুধু একদিনের ক্রিকেটেই খেলেন। ফলে তাঁদের ম্যাচ প্র্যাকটিসও সীমিত। সেই কারণেই ম্যানেজমেন্টের দোটানা—একদিকে ভবিষ্যতের জন্য রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি বাড়াতে হবে, অন্যদিকে বিশ্বকাপের আগে রোহিত-কোহলিদের পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলিয়ে ছন্দেও রাখতে হবে।
এক সর্বভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে রোহিতকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। উদ্দেশ্য ছিল ওপেনার হিসেবে যশস্বী জয়সওয়ালকে আরও সুযোগ দেওয়া। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। অধিনায়ক শুভমন গিল নিজে তিন নম্বরে নেমে রোহিত ও জয়সওয়াল—দু’জনকেই ওপেন করার সুযোগ করে দেন।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, শেষ তিনটি একদিনের ম্যাচে দুটি শতরান করার পরেও ইংল্যান্ড সফরের দলে জায়গা পাননি জয়সওয়াল। তাতেই পরিষ্কার, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং বর্তমানের ভারসাম্য বজায় রাখা নির্বাচকদের কাছে মোটেই সহজ নয়।
ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় শুধু ওপেনিং নয়, মিডল অর্ডার এবং উইকেটকিপিংও রয়েছে। কোহলির অনুপস্থিতিতে গত সিরিজে ইশান কিষাণ, যশস্বী জয়সওয়াল এবং কেএল রাহুলকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করার ইঙ্গিত মিলেছিল। একই সঙ্গে রাহুলের বিকল্প হিসেবে একজন তৈরি ব্যাক-আপ উইকেটকিপার রাখাও টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় রয়েছে।
আরও একটি বিষয় নিয়ে চিন্তায় ভারতীয় লের কোচিং স্টাফ। সাম্প্রতিক কয়েকটি সিরিজে রোহিতের বড় রান এসেছে অনেক সময় সিরিজের শেষ দিকে। ম্যানেজমেন্ট চাইছে, ইংল্যান্ড সিরিজের শুরু থেকেই প্রাক্তন অধিনায়ক ছন্দে ফিরুন, যাতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি আরও মসৃণ হয়।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলের পরিকল্পনা স্পষ্ট— তরুণদের তৈরি করতে হবে, কিন্তু অভিজ্ঞদেরও ছন্দে রাখতে হবে। আর সেই ভারসাম্য বজায় রাখার পরীক্ষাতেই এখন গৌতম গম্ভীর, নির্বাচক কমিটি এবং ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সবচেয়ে কঠিন কাজ অবশ্য একটাই— রোহিত, কোহলি ও রাহুলের মতো সিনিয়রদের রোটেশন নীতির প্রয়োজনীয়তা বোঝানো।