টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। স্বাভাবিকভাবেই সারা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এই ম্যাচটার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তারপরে বিভিন্ন টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান খেলবে না ভারতের মাটিতে, তা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। এমনও বলা হয়েছিল, পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামবে না। কিন্তু আইসিসি-র চাপে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জেদ অস্তমিত হয়। তারপরেই শুরু হয় এই ম্যাচকে ঘিরে নানারকম জল্পনা। আর এই জল্পনা থেকেই জন্ম হয় পাকিস্তান কি ভারতের সঙ্গে লড়াই করে জয় তুলে নিতে পারবে? আবার ভারতীয় দলকে সতর্ক থাকার বার্তা দিতে থাকে তারা। সেই সতর্ক বার্তায় কোনওরকম কর্ণপাত না করে ভারত তাদের রণংদেহী মনোভাবকে আরও মজবুত করতে থাকে। পরপর দুটো ম্যাচে ভারত জয় তুলে নেওয়ায় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবরাও আত্মবিশ্বাসী। সবাই জানেন যে ভারত আর পাকিস্তানের খেলার অর্থই মহারণ। সেই মহারণে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকে মানসিক প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতিতে অবশ্যই ভারত এগিয়ে রয়েছে। সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ডামাডোলের কারণে খেলোয়াড়রা অস্বস্তিতে রয়েছেন। ভারত আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে পাকিস্তানকে ঘায়েল করতে তৈরি। সূর্যকুমার যাদবরা শুধু অপেক্ষায় রয়েছেন, কীভাবে কলম্বোর উইকেটে পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন।
শনিবার দুই শিবিরে অনুশীলনের মেজাজটা ছিল তুঙ্গে। কখনওই ব্যাটসম্যান ও বোলাররা হালকা চালে অনুশীলন করেননি। হয়তো অনেকে বলবেন, পাকিস্তান কলম্বোয় ম্যাচ খেলেছে। তাই তাদের সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে একটা মেলামেশা হয়ে গিয়েছে। সেখানে ভারত হয়তো একটু পিছিয়ে থাকলেও কোনওভাবেই তাদের দক্ষতাকে প্রকাশ করতে পিছিয়ে থাকবে না। ভারত সবসময়ই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার যে তাগিদ, সেটা প্রকাশ করে থাকে। বিশেষ করে সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, তিলক ভার্মা, হার্দিক পাণ্ডিয়া, বরুণ চক্রবর্তী, আর্শদীপ সিং ও অন্যরা লড়াইয়ের জন্য টগবগ করে ফুটছেন। আবার এও বলা হচ্ছে, অভিষেক শর্মা এখনও পুরোপুরি ফিট হননি। তাই এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে অভিষেককে কি পাওয়া যাবে? যদি অভিষেক না খেলেন, সেখানে কোচ গৌতম গম্ভীর আলাদাভাবে ছক কষবেন।
আবার বলছেন, ফিনিশার রিঙ্কু সিং এবার রানের মধ্যে নেই। তাই রিঙ্কুকে নিয়েও চিন্তার বিষয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে রিঙ্কুর পরিবর্তে ওয়াশিংটন সুন্দরকে দলে আনা হতে পারে। ভারতের কাছে একটাই মাইনাস পয়েন্ট মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা সেইভাবে নিজেদের পরিচয়টাকে তুলে ধরতে পারছেন না। এটা অনেক সময় হয়েও থাকে। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোর সময় প্রত্যেকেই তাদের সেরা খেলাটা দেওয়ার জন্য তৈরি থাকে। ভারতের বোলাররা পাকিস্তানের শিবিরে চাপ সৃষ্টি করবে, তা নিয়ে কোনও ভাবনা নেই। পাকিস্তানের উসমান তারিকের বল নিয়ে ভারতীয় শিবিরে কথাবার্তা হয়েছে। সেখানে ভারতের ব্যাটসম্যানরা কীভাবে মোকাবিলা করবেন, সেটাও কিন্তু ছক কষে নিয়েছেন কোচ গৌতম গম্ভীর। সাধারণত কলম্বোর উইকেট স্পিনারদের সহায়ক হয়। সেক্ষেত্রে ভারত এগিয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা আগের থেকেই বিতর্ক জড়িয়ে দিয়েছেন। ভারত পাকিস্তানের ম্যাচে দু-দলের খেলোয়াড়রা করমর্দন করবেন কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে অধিনায়ক সলমন নিজেকে পিছিয়ে রাখলেন। তবে তিনি বলেছেন, আগে ভারতের অধিনায়ক সিদ্ধান্ত নিক তাঁরা কী করবেন? আসলে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং অপারেশন সিঁদুর-এর পর এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই প্রতিবেশী দেশ। কোনও ম্যাচেই দুই দেশের অধিনায়ক করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দেননি। এখন দেখার বিষয়ে রবিবার এই দৃশ্যটা দেখতে পারবেন কিনা দর্শকরা।
ভারতীয় শিবিরে সবচেয়ে বড় চর্চা হচ্ছে স্পিনার উসমান তারিককে নিয়ে। কিন্তু অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এই বিষয়টাকে সেইভাবে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি বলেন, আমাদের দলে অনেক ভালো স্পিনার রয়েছেন। তাঁরা কিন্তু যখন তখন খেলার চরিত্র পরিবর্তন করে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, এটাও বলতে দ্বিধা নেই, শুধু স্পিনারদের জন্যই এই উইকেট তৈরি হয়েছে, তা নয়। ব্যাটসম্যানরাও উইকেটের চরিত্র দেখে তাঁর মতো খেলা খেলে থাকেন। অবশ্য গত ম্যাচে পাকিস্তানের বাবর আজমের ফর্ম দেখে পাকিস্তান বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই প্রতিপক্ষ দল যতই ব্যাটিং পজিশন বদলাক না কেন, তা নিয়ে কোনও ভাবনা নেই। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখনও পর্যন্ত একবারই পাকিস্তান জিতেছে। সেটা ২০২১ সালে।
খেলতে নামার আগেই ভারতকে বিচলিত করার জন্য পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা হুঙ্কার দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ভারতীয় বোলারদের হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন পাক অধিনায়ক। আর এই হুঁশিয়ারিতে সঙ্গী হলেন শাহিবজাদা ফারহান। তাঁদের জবাব দিয়েই সূর্যকুমার যাদব থেকে শুরু করে বরুণ চক্রবর্তীরা যুদ্ধং দেহি মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
কলম্বোতে পৌঁছানোর পরেই সূর্যকুমার যাদবরা রাজকীয় অভ্যর্থনা পেয়েছেন। এই অভ্যর্থনা আরও বেশি ভারতীয় দলকে উজ্জীবিত করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচে বরুণ চক্রবর্তী একটা বড় ভূমিকা নিতে পারেন। অভিষেক শর্মাকে নিয়ে রাতারাতি পাকিস্তান বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছে। দুই দলই দুটো করে ম্যাচ জিতে রয়েছে। তাই আত্মবিশ্বাসের দিক দিয়ে সব খেলোয়াড়রা মনে হয় একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার আমির বলেছেন, ভারতের ব্যাটম্যানদের খেলা দেখেছি। পাওয়ার প্লে-তে ভারত কিন্তু পিছিয়ে আছে। এশিয়া কাপের খেলায় পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল ভারত। ওই খেলায় অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিং সবারই মনে আছে। সেই কারণেই অভিষেক যদি ভারতের হয়ে ব্যাট করতে নামেন, তাহলে পাকিস্তান শিবিরে ভীতির কারণ হতে পারে। আবার এদিকে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে ভয় করার কী আছে, ভারতের জার্সিটাই শেষ কথা বলবে। এর কোনও ব্যতিক্রম হতে পারে না। আরে প্রতিপক্ষ দল বলছে পাকিস্তান বিরাট ধাক্কা দেবে। আর এই কথা শুনে ভারতের খেলোয়াড়রা আরও বেশি মানসিক দিক দিয়ে এগিয়ে চলেছে। হরভজন আরও বলেছেন, ভারতের ব্যাটসম্যানরা যেমন বড় অঙ্কের রান করবেন, ঠিক উল্টো সুবিধাও দেখা যাবে পাকিস্তান শিবিরে। ভারতের বোলাররা কী ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তা কলম্বোর উইকেটে দর্শকরা দেখতে পাবেন।