সমালোচনা, র্যাঙ্কিং কিংবা বাইরে কী আলোচনা হচ্ছে— কোনও কিছুতেই তাঁর বিশেষ আগ্রহ নেই। তাঁর লক্ষ্য একটাই— ভারতকে সাফল্যে এনে দেওয়া। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে ভারতের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিউজ়িল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ হেরেছে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে ২-২ সিরিজ ড্র ছিল গম্ভীরের আমলে টেস্টে ভারতের একমাত্র ইতিবাচক ফল।
এই নিয়ে তাঁর সমালোচনাও কম হয়নি। এত সমালোচনা হলেও অবশ্য তাতে কান দেন না শুভমান গিল-দের কোচ। শনিবার দ্বিতীয় টেস্টের আগে সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে গম্ভীরের জবাব ছিল বেশ সোজাসাপ্টা। তিনি বলেন, ‘সমালোচনা? আমার কাজ দলকে ট্রফি জেতানো। আমি শুধু এটাই বিশ্বাস করি এবং এই নিয়েই ভাবি। এটাই আমার সঙ্গে বাকিদের পার্থক্য। কে কী বলল, তার কত লাইক বা কত ভিউজ হল, ওসব নিয়ে আমি ভাবি না’।
ভারতের টেস্ট র্যাঙ্কিং (অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের পরে পাঁচ নম্বরে) নিয়েও গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়। তাঁর দাবি, র্যাঙ্কিং দিয়ে দলের বর্তমান অবস্থা বিচার করা ঠিক নয়। ভারত এখন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গম্ভীর বলেন, ‘র্যাঙ্কিং গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের দলে কোনো সমস্যা নেই। ইংল্যান্ড সফরের পর থেকে টেস্ট ক্রিকেটে আমরা যথেষ্ট ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলেছি। আমার কাজ ট্রফি জেতানো। সেটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য এবং বিশ্বাস’।
বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর নতুন মুখদের নিয়ে দল গড়ছে ভারত। গম্ভীরের মতে, এই পরিবর্তনের সময়ে ওঠানামা থাকবেই। ক্রিকেটারদের আরও সময় দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।
তাঁর কথায়, ‘ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকবেই। আমাদের ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাঁদের আরও সময় দিতে হবে। দু-একটা ম্যাচের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়’।
প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ এগিয়ে রয়েছে ভারত। সেই ম্যাচে তরুণ ব্যাটার দেবদত্ত পাড়িক্কল ১৬৭ রান করেন এবং অভিষেক টেস্টে মানব সুথার ১০ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের এমন পারফরম্যান্সেই ভবিষ্যতের ভারতীয় টেস্ট দলের ভিত তৈরি হচ্ছে।
গল-এ প্রথম টেস্টের জয়ী দলই ভারত কলম্বোয় নামাবে কি না, সে বিষয়ে গৌতম গম্ভীর পুরোপুরি মুখ খোলেননি। তবে চাপে থাকা বাঁহাতি চায়নাম্যান স্পিনার কুলদীপ যাদবের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ।
প্রথম টেস্টে ২৫ ওভার বল করে ১০০-রও বেশি রান দিয়েছিলেন কুলদীপ। পেয়েছিলেন মাত্র একটি উইকেট। তবে গম্ভীর মনে করেন, ‘আমরা জানি কুলদীপ কতটা ভাল বোলার। আর আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অনেক সময় সিদ্ধান্তটা অধিনায়কের উপরেও থাকে (দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে)। কে কত বল করছে, বিষয়টা তা নয়। আসল কথা হল ফলাফল পাওয়া। আমার কাছে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যখন পাঁচ জন নিয়মিত বোলার নিয়ে খেলবেন, তখন শেষ পর্যন্ত কারও না কারও ওভার কম পড়বেই। কিন্তু বিষয়টা এমন নয় যে কেউ ভাল বল করতে পারছে না বলেই তাকে কম বল করানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে, সেটা অধিনায়ক বা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত’।
কুলদীপের উপর তাঁর আস্থার কথা জানিয়ে গম্ভীর বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরেই আমরা দেখেছি কুলদীপ সঠিক কাজগুলো করে আসছে। আমরা জানি, অনুকূল পরিবেশে ও কতটা সফল এবং কার্যকর হতে পারে’।
তবে ভারতের প্রাক্তন ওপেনার গৌতম গম্ভীরের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে, দ্বিতীয় টেস্টেও পাঁচ জন নিয়মিত বোলার নিয়ে নামার নীতিতেই আস্থা রাখবে ভারত।
গম্ভীর বলেন, ‘উইকেট যদি খুব ফ্ল্যাট হয়, তা হলে বোলারদের কঠিন পরিশ্রম করতে হবে, হয়তো আরও অনেক বেশি পরিশ্রম। কারণ, যেমনটা আমি বলেছি, আপনাকে ২০টি উইকেট নিতেই হবে। উইকেট যদি ফ্ল্যাট হয়, তা হলে শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছে একটাই সমাধান— পাঁচ জন নিয়মিত বোলার’।
তাঁর মতে, পাঁচ জন বোলার থাকলে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের আরও ভাল ভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করতে পারেন অধিনায়ক। গম্ভীর বলেন, ‘আপনার হাতে পাঁচ জন নিয়মিত বোলার থাকলে তাঁদের আরও ভাল ভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বল করানো যায়। শেষ টেস্টেও আমরা সেটা দেখেছি। কুলদীপ বেশি বল না করলেও আমাদের পাঁচ জন নিয়মিত বোলার ছিল, যারা ম্যাচের যে কোনও সময়ে উইকেট তুলে নিতে পারে।‘
পাঁচ জন বোলার না থাকলে দলের অভিজ্ঞ বোলারদের উপরও বেশি চাপ পড়ে বলে মনে করেন গম্ভীর। তাঁর কথায়, ‘কিন্তু পাঁচ জন নিয়মিত বোলার না থাকলে আপনি অভিজ্ঞ বোলারদেরও ঠিক ভাবে ঘুরিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁদের আরও দ্রুত বোলিংয়ে ফিরতে হবে’।
এর পরেই পাঁচ বোলারের গুরুত্ব বোঝাতে গম্ভীর বলেন, ‘আমি সব সময় বলি, যে দলের পাঁচ জন নিয়মিত বোলার থাকে, তাদের কাছে সেটা কোনও বিলাসিতা নয়। বরং টেস্ট ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা সব সময়ই সেই দলের বেশি’।