ফের সেই শ্রীলঙ্কা! এশিয়া কাপ ফাইনালে প্রতিশোধের মঞ্চ হরমনপ্রীতদের

PIC-X

দু’বছর আগের সেই দুঃস্বপ্ন কি আবার ফিরবে? নাকি এ বার হিসাব মেটাবে ভারত? মহিলাদের এশিয়া কাপ ফাইনালে ফের মুখোমুখি ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। ২০২৪-এ ডাম্বুলায় ভারতকে আট উইকেটে হারিয়ে প্রথম বার এশিয়া কাপ জিতেছিল চামারি আতাপাত্তুর দল। এ বার দুবাইয়ে সেই স্মৃতি মুছে নতুন ইতিহাস লিখতে মরিয়া হরমনপ্রীত কৌরের ভারত।

শ্রীলঙ্কা শনিবার পাকিস্তানকে চার উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়ে গিয়েছে। ১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই ৫ রানে দু’উইকেট, পরে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল তারা। কিন্তু হার মানেনি চামারির দল। হারশিতা সমরবিক্রমা এবং কাভিশা দিলহারির ৬৭ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত আট বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় গত বারের চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের পরে চামারি বলেন, ‘হরশিতা এবং কাভিশা যে ভাবে চাপ সামলেছে, তা অসাধারণ। ওরা সিঙ্গলস নিয়েছে, ভাল ক্রিকেট খেলেছে। চাপের মধ্যে ওই জুটিটাই ম্যাচ জিতিয়েছে’।


শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক আরও বলেন, ‘আমাদের দলে হারশিতা, নিলাক্ষিকা, কাভিশার মতো ভাল ফিনিশার রয়েছে। বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ভাল খেলছে, বোলিং বিভাগও দারুণ। ফাইনালে আমরা যদি নিজেদের পরিকল্পনা ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারি, তা হলে যে কোনও দলকেই হারাতে পারি’।

অর্থাৎ ভারতকে নিয়ে কোনও বাড়তি ভয় নেই চামারির। বরং নিজেদের শক্তির উপরই আস্থা শ্রীলঙ্কার অধিনায়কের। দলের তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বোলিং ইউনিট হিসাবে আমরা খুব ভাল করেছি। ফিল্ডিংয়ে দু’-একটি ক্যাচ পড়েছে ঠিকই, কিন্তু সার্বিক ভাবে আমরা ভাল ছিলাম। ব্যাটাররা যে ভাবে খেলেছে, তা দেখতে সত্যিই অসাধারণ। তরুণরা খুব ভাল করছে। এটা দল এবং দেশের জন্য খুব ভাল ব্যাপার’।

 

‘আত্মতুষ্টির জায়গা নেই’, সতর্ক হরমনপ্রীত

 

অন্য দিকে, বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীতও দলের পারফরম্যান্সে খুশি। তবে ফাইনালের আগে কোনও ভাবেই আত্মতুষ্ট হতে চাইছেন না তিনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাটিং কিছুটা মন্থর হলেও বোলাররা ম্যাচে ভারতকে এগিয়ে দেন। হরমনপ্রীত মনে করেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের ক্রিকেটারেরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন।

ভারতীয় অধিনায়কের বক্তব্য, ‘পিচটা ব্যাটারদের জন্য সহজ ছিল না। স্পিনাররাও ভাল সাহায্য পায়। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছি। ছোট ছোট জুটিগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। রিচা কয়েকটা দারুণ শট খেলেছে, যা দলের রান বাড়িয়ে দেয়’।

দলের বোলারদের প্রশংসায় হরমনপ্রীত বলেন, ‘আমাদের বোলাররা অসাধারণ বল করেছে। ওরা নিজেদের পরিকল্পনায় অটুট থেকেছে এবং পিচ বুঝে সেই অনুযায়ী বল করেছে। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’।

ভারত এ বার এখনও পর্যন্ত অপরাজিত। শেফালি বর্মা ১৬৮ রান করে দলের অন্যতম প্রধান ব্যাটিং ভরসা। স্মৃতি মন্ধানার ব্যাট থেকেও এসেছে ১৫৪ রান। বল হাতে দীপ্তি শর্মা এবং শ্রী চারনী ধারাবাহিক। তবে ফিল্ডিং নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে— সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ম্যাচেই চারটি ক্যাচ ফেলেছিল ভারত।

আর শ্রীলঙ্কার বড় অস্ত্র চামারি নিজেই। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে বড় রান না পেলেও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত ১১ উইকেট নিয়ে দীপ্তির সঙ্গে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় রয়েছেন তিনি।

২০২৪-এর ফাইনালে হারশিতা ও চামারির অর্ধশতরান ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এ বারও সেই দু’জনের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার তরুণ ব্যাটারদের সামলানোই ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

এক দিকে গত বারের হার মুছে চতুর্থ এশিয়া কাপের লক্ষ্যে ভারত, অন্য দিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে চামারির শ্রীলঙ্কা। দুবাইয়ে তাই শুধু ফাইনাল নয়—দুই বছরের পুরনো হিসাবেরও লড়াই।