একই দিনে ১৮ উইকেট পড়ল তিরুবনন্তপুরমের অদূরে মঙ্গলাপুরমে। কেরলের প্রথম ইনিংসে শেষ চার উইকেট পড়ার পর বাংলার দ্বিতীয় ইনিংসে দশ উইকেট এবং কেরলের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম চার উইকেট—সবই পড়ল বুধবার রঞ্জি ট্রফির ম্যাচের তৃতীয় দিনে। আর তাতেই বাংলার টানা তৃতীয় জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে কেরলের ছয় উইকেট ফেলতে পারলেই ফের ছ’পয়েন্ট হাতের মুঠোয় চলে আসবে তাদের। দিল্লি, সার্ভিসেসের পর এ বার কেরলও জয় করতে চলেছে বাংলা।
এ দিন কেরলকে ১৪১ রানে অল আউট করে দেওয়ার পর বাংলা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলে অভিমন্যু ঈশ্বরণের ৪৭ ও সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের ৩৪ রানের ইনিংস ছাড়া কেউই উইকেটে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। কেরলের দুই স্পিনার আদিত্য সরওয়াটে ও জলজ সাক্সেনার ঘূর্ণিতে একের পর এক প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বাংলার ব্যাটাররা। বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস ১৯৮ রানেই শেষ হয়ে যায়।
তবে তাতে খুব একটা চাপে পড়তে হয়নি তাদের। বরং কেরলের সামনে জয়ের জন্য চারশোর লক্ষ্য স্থীর করে দেয় বাংলা। জয়ের জন্য কেরলের চাই ৪০৮ রান। কিন্তু বুধবার দিনের শেষে প্রদীপ্ত প্রামানিক তাদের চারটি উইকেট তুলে নেওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোটাই বাংলার হাতে চলে এসেছে। ফলে লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের লক্ষ্মীলাভ প্রায় অবধারিত। একমাত্র বৃষ্টিই তাদের এই জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করতে পারে।
বুধবার তিবনন্তপুরমের অদূরে মঙ্গলাপূরমে স্কোরবোর্ডে ১০১-৬ নিয়ে ব্যাট করতে নেমে কেরল আর ৪০ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি। গত দিনের অপরাজিত ব্যাটার মহম্মদ আজহারউদ্দিন শেষ পর্যন্ত ৩০ রানে অপরাজিত থাকলেও অন্যদিক থেকে তাদের শেষ চার উইকেট মাত্র কুড়ি রানের মধ্যে ফেলে দেন বাংলার বোলাররা। বাঁহাতি স্পিনার প্রদীপ্ত প্রামানিক এ দিন প্রথম ইনিংসেও চার উইকেট নেন। শেষ দিকে কেরলের ইনিংসে তিনিই ধস নামান। আগের দিনই শামির শিকার ছিল তিন উইকেট ও শাহবাজের দুই।
২০৯ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মঙ্গলাপুরমের ঘূর্ণি উইকেটে জলজ, আদিত্যদের সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয় বাংলার ব্যাটারদের। অভিমন্যু তাও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অনেকক্ষণ উইকেটে টিকে থাকেন। কিন্তু চারটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছনোর তিন রান আগেই জলজের বলে পরিবর্ত ফিল্ডার নয়নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। তখন দলের রান ৯১।
সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ৩৪ রান করে ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করলেও জলজ তাঁর স্টাম্প ছিটকে দেন। তিনি ফিরে যাওয়ার সময় বাংলার স্কোরবোর্ডে ১০৬-৪। এর পর অভিষেক পোড়েল (২১), শাহবাজ আহমেদরা (২০) বেশিক্ষণ ব্যাট করতে পারেননি। শেষ দিকে মহম্মদ শামি তিনটি ছয় হাঁকিয়ে ১৯ বলে ২৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে চারশোর বেশি রানের লিড এনে দেন।
জলজ এ দিন বাংলার ইনিংসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে যান। ইনিংসের মোট ৪৬ ওভারের মধ্যে ৩৬-ই করেন জলজ ও আদিত্য। দুজনেই ১৮ ওভার করে করেন। জলজ ৭০ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন ও আদিত্য ৭২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন।
কেরলের স্পিনারদের মতো বাংলার স্পিনাররাও এর পর ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। বিশেষ করে প্রদীপ্ত। দুই অভিষেক নায়ার, জলজকে তিনি ৩০ রানের মধ্যেই ফেরৎ পাঠিয়ে দেন। দিনের শেষে শচীন বেবিকে স্টাম্পড করেন অভিষেক পোড়েল। তাও শাহবাজ আহমেদ এখনও খাতা খোলেননি। বৃহস্পতিবার হয়তো তাঁর ঘূর্ণিতেই লক্ষ্মীলাভ হবে বাংলার।