বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিণত হল শোকে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফুটবলের বিশ্বসেরা হওয়ার উল্লাসে যখন মেতে উঠেছিল গোটা স্পেন, তখনই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উল্লাসে মেতে ওঠার পর একটি ঐতিহাসিক ফোয়ারা ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল ১৩ বছরের এক কিশোরের। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। মুহূর্তে উৎসবের আবহ বদলে যায় শোকের পরিবেশে।
ঘটনাটি ঘটেছে স্পেনের সালামাঙ্কা প্রদেশের সিউদাদ রদ্রিগো শহরে। রবিবার রাতে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো সিউদাদ রদ্রিগোতেও হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে উৎসব শুরু করেন। সেই সময় কয়েক জন সমর্থক একটি ঐতিহাসিক পাথরের ফোয়ারার উপরে উঠে সেলিব্রেশন করছিলেন। হঠাৎই অতিরিক্ত ওজনের চাপে ফোয়ারার একটি অংশ ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় ১৩ বছরের কিশোর। আরও দু’জন আহত হন।
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসাকর্মীরা। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কিশোরটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সিউদাদ রদ্রিগো পুরসভা শোকপ্রকাশ করে বিবৃতি দেয়, ‘সিউদাদ রদ্রিগো পুরসভা ১৩ বছরের ওই শিশুর মৃত্যুতে গভীর শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানায়। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের যে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, তা গোটা শহরের কাছে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি’। একই সঙ্গে ২০ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শহরে তিন দিনের শোক পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময় পুরসভার সব পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, একসঙ্গে অনেক মানুষ ফোয়ারার উপরে উঠে পড়ায় অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে সেটির অংশ ভেঙে যায়। যে রাতে গোটা স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছিল, সেই রাতই সিউদাদ রদ্রিগোর মানুষের কাছে চিরকাল থেকে যাবে এক গভীর শোকের স্মৃতি হয়ে।