পিছিয়ে পড়েও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের গর্বিত করে অসাধারণ জয় দিয়ে শুরু করল দক্ষিণ কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও ২-১ জয় ছিনিয়ে নিল তারা। অন্য দিকে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল আয়োজক মেক্সিকো। তবে এই ম্যাচে তিন-তিনটি লাল কার্ড বের করতে হয় রেফারিকে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এশিয়ার সবচেয়ে সফল দল দক্ষিণ কোরিয়া এ বারের বিশ্বকাপ শুরু করল সাফল্য দিয়েই।ভারতীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার গ্রুপ ‘এ’-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চেকিয়া বা চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১-এ হারিয়ে পুরো তিন পয়েন্ট তুলে নিল সন হিউং-মিনের দল। গুয়াদালাহারার এস্তাদিও অ্যাকরনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এশিয়ার লাল-বাহিনী।

প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি কোনও দল। বিরতির পর ম্যাচের ৫৩ মিনিটে কর্নার থেকে আসা লম্বা থ্রো-ইনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে হেডে চেকিয়াকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার লাদিস্লাভ ক্রেইচি। ম্যাচের গতির বিপরীতে আসা এই গোল কোরিয়ানদের চাপে ফেলে দেয়।


তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র কয়েক মিনিট পরই মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বম দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় সমতা ফেরান। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে এসে একাধিক ডিফেন্ডার ও গোলকিপারকে ছিটকে ফেলে দিয়ে তাঁর নিখুঁত চিপে ফিনিশিং ম্যাচে ফেরায় কোরিয়ানদের।

সমতা ফেরানোর পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। তার ফল মেলে ৮০তম মিনিটে। পরিবর্ত স্ট্রাইকার ওহ হিউন-গিউ ডানপ্রান্ত থেকে আসা ক্রস জালে জড়িয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই গোলই ম্যাচের ফল গড়ে দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অধিনায়ক সন হিউং-মিন, যদিও তিনি গোল পাননি। মাঝমাঠে হোয়াং ইন-বমের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে কিম মিন-জায়ের দৃঢ়তা দলের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল। ম্যাচের শেষ দিকে গোলরক্ষক কিম সিউং-গিউ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে চেকিয়ার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেন।

দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা চেকিয়া শারীরিক ফুটবল ও সেট-পিসের উপর নির্ভর করলেও শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার গতিময় ও সংগঠিত ফুটবলের সামনে পিছিয়ে পড়ে। এই হারে তাদের পরের ম্যাচ কার্যত ‘করো বা মরো’ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’-তে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল এশিয়ার প্রতিনিধিরা।