সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নামছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচে খেলতে নামার আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় দল। গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচ জিতেই সুপার এইটের ছাড়পত্র আদায় করে নিয়েছেন যশপ্রীত বুমরা, হার্দিক পান্ডিয়া’রা। তবে, পিছিয়ে নেই দক্ষিণ আফ্রিকাও। গ্রুপ-ডি থেকে সবকটি ম্যাচ জিতেই বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠেছে তারা। ফলে, এই ম্যাচে দু’দলের জন্যই একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অপেক্ষা করে রয়েছে।
এদিকে, সুপার এইটে নামার আগে ভারতীয় শিবিরের চিন্তা কিছুটা বাড়িয়েছেন পেসার মহম্মদ সিরাজের চোট। শুত্রুবার অনুশীলন চলাকালীন হার্দিক পান্ডিয়ার বলে সিরাজের পায়ে লাগে। এরপরেই খোঁড়াতে শুরু করেন তিনি। ফিজিও এসে তাঁকে কিছুক্ষণ চিকিৎসা করার পর যদিও ফের একবার মাঠে নামেন তিনি। তবে, সেইসময় তাঁর চোখে-মুখে অস্বস্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট।
পাশাপাশি, শেষ আটের লড়াইয়ে নামার আগে ভারতের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ অবশ্যই ওপেনার অভিষেক শর্মার চূড়ান্ত অফ ফর্ম। বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে এখনও কোনও রান পাননি তিনি। তিন ম্যাচ খেলে প্রতিবারই শুন্য রানে আউট হয়েছেন। তাঁকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন ভারতীয় শিবির। ম্যাচের দু’দিন আগে ভারতের সহকারী কোচ রায়ান দুশখাতেও বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছিলেন। সেজন্য ম্যাচের আগেরদিন তরুণ এই বাঁহাতি ওপেনারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা গেল প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে। যদিও, অভিষেকের ওপর এখনই আস্থা হারাতে রাজি নয় ম্যানেজমেন্ট। দল আশাবাদী সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিষেক অবশ্যই রানে ফিরবেন।
অন্যদিকে, ভারতের চাপে রাখতে মাঠে নামার আগেই ‘মাইন্ড গেম’ খেলার চেষ্টা করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের আগেরদিন প্রোটিয়া কোচ শুকরি কনরাড বলেন, বড় ম্যাচের সবসময় একটা আলাদা চাপ থাকে। বিশেষত, বড় দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামলে একটা আলাদা চাপ কাজ করে বলেই জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, কিছুসময় খেলোয়াড়রা চাপের পরিমানটা বুঝতে না পারলেও খেলার মধ্যে তা প্রভাব ফেলে। এরপরেই অভিষেক শর্মা’কে নিয়ে বিশেষভাবে ভারতকে খোঁচা দিয়েছেন প্রোটিয়া কোচ। কনরাড বলেন, যে ব্যাটসম্যান শেষ তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছে, সে নিশ্চই প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে চাপে থাকবে না। একইসঙ্গে, তারা যে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে প্রতিটা খেলোয়াড়কে নিয়ে আলাদাভাবে পরিকল্পনা করছেন সে কথাও জানাতে ভুললেন না তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ এদিন আরও বলেন, ঘরের মাঠে ভারতীয় দল বেশি চাপে থাকবে। কারণ, সূর্যকুমার যাদবদের ফাইনালে উঠতেই হবে।
কনরাড মনে করছেন, ঘরের মাঠে ট্রফি জেতার একটা কঠিন চাপও সামলাতে হবে ভারতীয় দলকে। সেইসঙ্গে, মাঠে উপস্থিত লক্ষাধিক দর্শকের প্রত্যাশার চাপও থাকবে ভারতীয় দলের উপর। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েই প্রথম ম্যাচে বাজিমাত করতে চাইছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই প্রসঙ্গে বলা যায়, গ্রুপ পর্বে সেইরকম কোনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি ভারতীয় দলকে। অবশ্য পাকিস্তান ম্যাচ ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। তাই, চলতি বিশ্বকাপে ভারতের আসল লড়াই যে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকেই শুরু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে কি গতবারের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ছবিই দেখা যাবে ? সেই আশায় কিন্তু ইতিমধ্যেই বুক বাঁধতে শুরু করেছেন ভারতের আপামর ক্রিকেটপ্রেমীরা।