আসন্ন আইএসএলের আগে ক্রমশ ঘর গুছিয়ে নিচ্ছে ডুরান্ড কাপ জয়ী ইস্টবেঙ্গল। গত মরসুমের চ্যাম্পিয়ন তারা। এই মরসুমে সেই খেতাব বজায় রাখাটা আরো কঠিন কাজ হবে তাদের। সঙ্গে রয়েছে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে আরো কঠিন লড়াই। সে জন্যই ভালো দল গড়ছে তারা, যাতে এই চ্যালেঞ্জগুলো সাফল্যের সঙ্গে সামলানো যায়।
আইএসএলের সবচেয়ে সফল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে কোচ করে নিয়ে আসা থেকেই দুর্দান্ত এবং শক্তপোক্ত একটি দল গড়ার কাজে মন দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। যদিও তারা এখনো কোনো নির্দিষ্ট ইনভেস্টর পায়নি। তবে কর্মর্তারা আত্মবিশ্বাসী যে খুব শীঘ্রই ভালো ইনভেস্টর পেয়ে যাবে তারা।
তবে সে জন্য দলবাছাইয়ে কোনো ঢিলেমি দেয়নি লাল-হলুদ শিবির। মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ ও দানি রামিরেজ তো ইতিমধ্যে মাঠে নেমেই পড়েছেন এবং দলকে ডুরান্ডেও জিতিয়েছেন। আরেক মিডফিল্ডার দিয়েগো জিভুলিচও অনুশীলনে নেমে পড়েছেন। ক্রিস ইকোনোমিডিসও অনুশীলন করছেন। এ বার নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এফিয়ং এবং নবতম সংযোজন আকে লোবার অপেক্ষায় রয়েছেন লাল-হলুদ সমর্থকেরা। আইএসএলের আগে এঁদের একসঙ্গে পেয়ে গেলে পুরোদমে অনুশীলন শুরু করে দেবেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।
আকে আর্নো লোবা আইভরি কোস্টের অনূর্ধ্ব ২০ দলের প্রাক্তন সদস্য ছিলেন আকে আর্নো লোবা, যিনি মেক্সিকো ও আমেরিকার ক্লাবেও খেলেছেন। আইভরি কোস্টে কেরিয়ার শুরু করেন লোবা। পরে মেক্সিকোর ক্লাব ফুটবলে খেলেন। সে দেশের কেরেতারো এফসি,মনতেরে, তিজুয়ানা, মেজাতিয়ান ক্লাবে খেলেছেন তিনি। আইভরি কোস্টের অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য আসে মনতেরেতে খেলার সময়ে। ২০২১-এ দলের সঙ্গে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেন লোবা। সেই টুর্নামেন্টে গোলও পান। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম পর্বে কলম্বাস ক্রুর বিরুদ্ধে মনতেরের হয়ে গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন এই ফরোয়ার্ড।
মার্কিন মুলুকে মেজর লিগ সকারে ন্যাশভিল এসসি-র (Nashville SC) হয়েও খেলেছেন লোবা। মাঝে পেরুর সান মার্টিনের হয়েও মাঠে নামেন। তাদের হয়েই সবচেয়ে বেশি ১৮টি গোল করেছেন লোবা। ১১টি গোল করেছেন কেরেতারোর হয়ে নেমে। অর্থাৎ একাধিক দেশ, লিগ ও ক্লাবের ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলে প্রায় দুশো ম্যাচ খেলে পঞ্চাশের ওপর গোল করেছেন তিনি। এ বার সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই ভারতে পা রাখছেন লোবা। নতুন মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগে লোবার আগমন কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।