নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে দিয়েও স্বস্তিতে জিততে পারল না ভারত। শনিবার ওয়েলিংটনে ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাত উইকেট হারিয়ে বসে শুভমান গিলের দল। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি এবং ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির সৌজন্যে চার রানে জেতে ভারত।
ম্যাচ জিতলেও দলের ব্যাটিং নিয়ে যে একেবারেই সন্তুষ্ট নন, তা স্পষ্ট করে দিলেন ভারত অধিনায়ক। বিশেষ করে শেষ দিকে পর পর উইকেট হারানো এবং দলের দুই ব্যাটারের শেষ দু’টি শট নিয়ে অসন্তোষ লুকোলেন না তিনি।
জয়ের পর গিল বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাঠে পরিস্থিতি মোটেই সহজ ছিল না। আমাদের বোলাররা খুব ভাল বল করেছে। ওদের ১৩০ থেকে ১৪০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারা ভাল ব্যাপার। একটা সময় মনে হয়েছিল, এই লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে ফেলব। কিন্তু আমরা পর পর উইকেট হারাতে থাকি। শেষ পর্যন্ত যে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছি, এটাই ভাল’।
তবে জয় এলেও দলের ব্যাটিংয়ের ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করতে পিছপা হননি ভারত অধিনায়ক। গিল বলেন, ‘পিচ অবশ্যই কঠিন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের অন্তত দু’টি উইকেট বেশি পড়েছে। আমরা জানতাম, শেষ দিকে বৃষ্টি আসতে পারে। শেষ দু’টি শট, যেগুলো আমরা খেলেছি, সেগুলো মোটেই ভাল ছিল না। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে যদি চার-পাঁচ রানে ম্যাচটা হেরে যেতাম, তা হলে সেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হত। শেষ পর্যন্ত জিততে পেরেছি, এটাই স্বস্তির’।
গুরনুরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গিল
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার গুরনুর ব্রার। দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে ৩০ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন তিনি। তরুণ পেসারের প্রশংসা করে গিল বলেন, ‘গত ম্যাচেও গুরনুর খুব ভাল বল করেছে। আশা করি, যত বেশি ম্যাচ খেলবে এবং অভিজ্ঞতা বাড়বে, ততই ওর লাইন ও লেংথে ধারাবাহিকতা আসবে। ওর বলে গতি আছে, বাউন্স আছে। আসল বিষয় হল, কতটা ধারাবাহিক ভাবে সেটা কাজে লাগাতে পারে। আজ আমরা দেখে নিলাম, নিজের সেরা ছন্দে বল করতে পারলে ও কতটা ভাল বোলার হয়ে উঠতে পারে’।
শুধু গুরনুর নন, দলের বাকি তরুণ বোলারদের নিয়েও আশাবাদী গিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। ভারত অধিনায়কের বক্তব্য, ‘ওদের অধিকাংশের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব গুণ রয়েছে। আসল কথা হল, চাপের মুখে পারফর্ম করা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপের মধ্যে নিজেদের মেলে ধরতে হয়। প্রতিদিন বল করতে হয়, নিয়মিত সুযোগ পেতে হয় এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়। এই অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’।
বাউন্সই গুরনুরের অস্ত্র
ম্যাচের সেরা গুরনুর ব্রারের কাছে নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে বল করাটা বেশ উপভোগ্য। বিশেষ করে পিচের বাউন্স এবং গতি তাঁকে সাহায্য করায় বল করে তৃপ্তি পেয়েছেন গুরনুর। ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিতে এসে তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে বল করতে আমার খুব ভাল লেগেছে। এখানকার পিচে যে বাউন্স এবং গতি রয়েছে, তা আমাকে সাহায্য করেছে। তাই উপভোগ করেছি’।
নিজের বোলিং পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে গুরনুর বলেন, ‘ভারতে পিচ সাধারণত বেশ ফ্ল্যাট হয়। তাই আমাদের নির্দিষ্ট লেংথে বল করতে হয়। কিন্তু এখানে বাড়তি বাউন্স পাওয়া যায়। আমি নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী বল করেছি। তাতেই কাজ হয়েছে। ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৪২ কিলোমিটার গতিতে বল করলে আগ্রাসী হতে হয় ঠিকই, কিন্তু নিজের সীমাটাও বুঝতে হবে। আমি শুধু উপভোগ করে বল করে যেতে চাই’।
বাউন্সার ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েও বলেন তিনি। গুরনুরের কথায়, ‘আমি মূলত নির্দিষ্ট লেংথে বল করার চেষ্টা করি। এমন জায়গায় বল ফেলি, যেখান থেকে ব্যাটারেরা পুল শট খেলতে চাইবে। খুব বেশি উঁচুতে বল তোলার চেষ্টা করি না। কাঁধের উচ্চতা বরাবর বল রাখার চেষ্টা করি’।
দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। গিলের দল জয় পেলেও অধিনায়কের সতর্কবার্তা স্পষ্ট— শুধু বোলিংয়ের উপর নির্ভর করে সিরিজ জেতা যাবে না। ব্যাটিংয়ের ভুল দ্রুত শুধরে নিতে হবে। অন্য দিকে, নিউজিল্যান্ডের কাছে এখন ঘুরে দাঁড়ানো লড়াই। তৃতীয় ম্যাচ মঙ্গলবার, হ্যামিল্টনে।
স্যান্টনারের আক্ষেপ, ‘১৬০-১৮০ রান তোলা যেত’
অন্য দিকে, ম্যাচ হেরে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের আক্ষেপ, আরও কিছু রান তুলতে পারলে লড়াইটা অন্য রকম হতে পারত। তাঁর কথায়, ‘পিচ যে কঠিন ছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভারতীয় বোলারেরা বিশেষ করে শুরুতে দারুণ বল করেছে। শুরুতেই উইকেট হারানো কখনও ভাল নয়। তবে আমার মনে হয়, প্রথম ইনিংসের অর্ধেক সময়ে আমরা কিছুটা পিছিয়ে ছিলাম। পিচ তখনও বোলারদের সাহায্য করছিল’।
ভারতের বোলিং আক্রমণের প্রশংসা করে স্যান্টনার আরও বলেন, ‘ইডেন পার্কের ম্যাচের পরেও আমরা বলেছিলাম, মাঠে নেমে সব কিছু আপনা থেকেই হয়ে যাবে, এমনটা ভাবলে চলবে না। আমাদের ভাল বল করতে হত। শুরুটা ভাল হয়েছিল। এই লক্ষ্য রক্ষা করার একমাত্র উপায় ছিল প্রথম দিকে উইকেট তুলে নেওয়া। আমরা সেটা করতে পেরেছিলাম। তার পর বিভিন্ন বোলার নিজেদের স্পেলে ফিরে এসে নিয়মিত উইকেট পেয়েছে। এক দিনের ক্রিকেটে এটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ’।
তবে ব্যাটিংয়ে আরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন কিউয়ি অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং বিভাগ হিসাবে আমরা জানতাম, পিচ কঠিন হবে। কিন্তু কোনও ভাবে যদি ১৬০ বা ১৮০ রান পর্যন্ত পৌঁছতে পারতাম, তা হলে সেখান থেকে লড়াই করার সুযোগ থাকত। ভারতীয় বোলারেরা খুব ভাল বল করেছে। আবহাওয়ার কারণে শুরুটা এমনিতেই কঠিন ছিল। ওরা সেই পরিস্থিতির পুরো সুযোগ নিয়েছে’।