কমনওয়েলথ গেমসে এখন পর্যন্ত ভারতের সেরা দিন কাটল পঞ্চম দিনে। একদিনেই ছ’টি পদক জিতে ভারত পদক তালিকায় অবস্থান আরো মজবুত করল। দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এনে দেন শর্মিলা ধনকর, যিনি মহিলাদের শটপুট এফ৫৭ বিভাগে ঐতিহাসিক সোনা জেতেন। এছাড়া জ্ঞানেশ্বরী যাদব, সর্বেশ কুশারে এবং ভাল্লুরি অজয় বাবু রুপো জেতেন। অন্যদিকে বিন্দিয়ারানি দেবী ও শিল্পা কে. শায়লা ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতের পদকসংখ্যা ১০-এ পৌঁছে দেন।
দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তটি আসে প্যারা অ্যাথলেটিক্সে। মহিলাদের শটপুট এফ৫৭ বিভাগে শর্মিলা ধনকর মরসুমের সেরা ৯.৮১ মিটার থ্রো করে সোনা জেতেন। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের প্রথম সোনাজয়ী অ্যাথলিট হিসেবে ইতিহাস গড়েন। এই সাফল্য ভারতের প্যারা অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক।
ভারতের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়, যখন নাইজেরিয়ার ইউকারিয়া ইইয়াজি অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় চতুর্থ স্থানে থাকা শিল্পা কে শায়লা ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে যান। এর ফলে চলতি কমনওয়েলথ গেমসে একই ইভেন্টে ভারতের দুই অ্যাথলিটের পদক জয়ের প্রথম নজির গড়ে ওঠে। ঘানার জিনাবু ইসাহ রুপো জেতেন।
ভারতের অ্যাথলেটিক্সে আরও একটি পদক এনে দেন জাতীয় রেকর্ডধারী সর্বেশ কুশারে। তিনি কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের হাইজাম্পে রুপো জিতে ইতিহাস গড়েন। এই ইভেন্টে রুপো জেতা প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট তিনি। কুশারে ২.২৫ মিটার উচ্চতা টপকে যান। তবে একই উচ্চতা অতিক্রম করেও কম সংখ্যক প্রচেষ্টায় সফল হওয়ায় (কাউন্টব্যাক নিয়মে) সোনা জিতে নেন জ্যামাইকার রোমেইন বেকফোর্ড।
এদিন আরও তিনটি পদক জিতে ভারোত্তোলনে ভারতের মোট পদকসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়। দিনের শুরুতেই মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগে রুপো জিতে ভারতের পদকের খাতা খোলেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব। কমনওয়েলথ গেমসে অভিষেকেই ২৩ বছরের এই ভারোত্তোলক ব্যক্তিগত সেরা ১৯৯ কেজি (স্ন্যাচে ৮৮ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১ কেজি) ওজন তুলে রুপো নিশ্চিত করেন।
অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মীরাবাই চানুর জন্য তিনি ৪৯ কেজি বিভাগ ছেড়ে ৫৩ কেজিতে উঠেছিলেন। প্রতিযোগিতায় ছ’টি চেষ্টাতেই সফল হন জ্ঞানেশ্বরী। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে কিছু সময়ের জন্য কমনওয়েলথ গেমসের রেকর্ডও তাঁর দখলে ছিল। তবে পরে নাইজেরিয়ার অনোমে ওমোলোলা দিদিহ গেমস রেকর্ড গড়ে মোট ২০৬ কেজি তুলে সোনা জেতেন এবং সেই রেকর্ড ভেঙে দেন।
এরপর মহিলাদের ৫৮ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জেতেন বিন্দিয়ারানি দেবী। চার বছর আগে বার্মিংহামে রুপো জয়ের পর এটি তাঁর টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমস পদক। মণিপুরের এই ভারোত্তোলক মোট ১৯৯ কেজি (স্ন্যাচে ৮৭ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১২ কেজি) ওজন তোলেন। নাইজেরিয়ার রাফিয়াতু ফোলাশাদে লাওয়াল গেমস রেকর্ড ২২৯ কেজি তুলে সোনা ধরে রাখেন। কানাডার অ্যান সোফি তাশেরো ২১৫ কেজি তুলে রুপো জেতেন।
দিনের শেষ ভারোত্তোলন ইভেন্টে পুরুষদের ৭৯ কেজি বিভাগে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া করেন ২২ বছরের ভাল্লুরি অজয় বাবু। অন্ধ্রপ্রদেশের এই ভারোত্তোলক স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি তুলে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন। শেষ পর্যন্ত তিনি মোট ৩৩০ কেজি (স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৮১ কেজি) ওজন তুলে রুপো পান। মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ এরি হিদায়াত মোট ৩৩১ কেজি ওজন তুলে সোনা জেতেন। স্কটল্যান্ডের ক্রিস মারে ৩২৫ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ জেতেন।