শামি-মুকেশের দাপটে চাপে দক্ষিণাঞ্চল, দলীপ ট্রফির ফাইনালে চালকের আসনে পূর্বাঞ্চল

Photo: X

ক্রমশ একপেশে হয়ে উঠছে দলীপ ট্রফির ফাইনাল। পূর্বাঞ্চলের রানের পাহাড় টপকাতে হিমশিম খাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের শুরু থেকে ব্যাট করতে নেমে ছ’উইকেট হারিয়ে ফেলে তিলক ভার্মা-রা। মনে হচ্ছে পূর্বাঞ্চলের খেতাব জয় এখন সময়ের অপেক্ষা।

প্রথম ইনিংসে পূর্বাঞ্চলের ৭০৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে প্রবল চাপে দক্ষিণাঞ্চল। মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমারের দাপটে ৮০ ওভারে ২৪২/৬ তুলতে পেরেছে দক্ষিণাঞ্চল। এখনও প্রতিপক্ষের চেয়ে ৪৬৬ রানে পিছিয়ে তারা।

দ্বিতীয় দিনেই অধিনায়ক ইশান কিষানের দুরন্ত ২৭০ রানের সুবাদে ৭০৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা নয়, অলআউট হয় পূর্বাঞ্চল। ইশানের ইনিংস সাজানো ছিল ৩০টি চার ও সাতটি ছক্কায়। তাঁর সঙ্গে কুমার কুশাগ্রও করেন ১০১ রান। ফলে প্রথম ইনিংসেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পূর্বাঞ্চল।


তৃতীয় দিন সকালে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণাঞ্চল। মুকেশ কুমারের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে মাত্র এক রানে ফেরেন রিকি ভুই। তাঁর সঙ্গী নারায়ণ জগদীশন অবশ্য কিছুটা লড়াই করেন। কিন্তু ৩২ রানে শিখর মোহনের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এর পর দক্ষিণাঞ্চলের ভরসা হয়ে দাঁড়ান দেবদত্ত পাড়িক্কল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে পরপর দু’টি শতরান করা পাড়িক্কল এ দিনও অর্ধশতরান করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর ২২তম পঞ্চাশ। কিন্তু ৬২ রানে তাঁকে ফিরিয়ে দেন মুকেশ। ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন দক্ষিণাঞ্চলের বাঁহাতি ব্যাটার।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>CAPTAIN VAIBHAV MAKES THE MOVE—MOHAMMED SHAMI DELIVERS INSTANTLY! 🎯🔥<br><br>Vaibhav Sooryavanshi brought Shami back into the attack, and the veteran struck in the very first over of his new spell—removing Ravichandran Smaran just before Tea! 💥<br><br>Brilliant captaincy. Perfect… <a href=”https://t.co/nKBqfGTzGM”>pic.twitter.com/nKBqfGTzGM</a></p>&mdash; CricInformer (@CricInformer) <a href=”https://x.com/CricInformer/status/2097252759288561916?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 8, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

এক পরই বল হাতে জ্বলে ওঠেন শামি। লাঞ্চের পর প্রথমেই শাইক রশিদকে ২৭ রানে এলবিডব্লিউ-র ফাঁদে ফেলেন তিনি। কিছু পরেই স্মরণ রবিচন্দ্রনকে ২৩ রানে কট বিহাইন্ড করে ফেরান শামি। সেই সিদ্ধান্তটি অবশ্য ডিআরএস নিয়ে বদলায়। ইশান কিষান মাঠের বাইরে থাকায় তখন স্ট্যান্ড-ইন ক্যাপ্টেন ছিলেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর পরামর্শেই রিভিউ নেয় পূর্বাঞ্চল এবং সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে যায়। এর পর শ্রেয়স গোপালও ২৬ রান করে কুনাইন কুরেশির বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। তখন স্কোরবোর্ডে মোট রান ২৪০।

দিনের শেষে অধিনায়ক তিলক বর্মা এবং স্মরণ রবিচন্দ্রন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও দক্ষিণাঞ্চলের সামনে কাজটা অত্যন্ত কঠিন। প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রানের বিশাল ব্যবধান পেরিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরাতে হলে এখন ব্যাটারদের অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে। ক্রিজে ৫৬ রান করে অপরাজিত তিলক ভার্মা ও সদ্য ক্রিজে আসা চামা মিলিন্দ। বুধবার কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামবেন তাঁরা।

অন্য দিকে, পূর্বাঞ্চলের লক্ষ্য সুস্পষ্ট— দ্রুত দক্ষিণাঞ্চলের বাকি চার উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে বড় লিড নিশ্চিত করা। চেন্নাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে দক্ষিণাঞ্চলের সামনে লড়াই করার সুযোগ রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তৃতীয় দিনের শেষে পাল্লা নিঃসন্দেহে ইশানদের দিকেই ভারী।

স্কোর: পূর্বাঞ্চল ৭০৮ (প্রথম ইনিংস); দক্ষিণাঞ্চল ২৪২/৬, ৮০ ওভার। পিছিয়ে ৪৬৬ রানে।