ইডেনে ঘরের মাঠে বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর মহম্মদ শামি ও শাহবাজ আহমেদের দাপটে একটা সময় ৬৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কার্যত ধুঁকছিল মহারাষ্ট্র। সকালের মেঘলা ইডেনে শামিরা প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন।
কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় মহারাষ্ট্র। ইডেনে চলতি রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে বাংলা ১৪৩-এ অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনের শেষে মহারাষ্ট্রের স্কোর ৯ উইকেটে ২০৭। বল হাতে তিন উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দলের ভরসা হয়ে উঠেছেন তনয় সাঙ্ঘভি। তাঁর অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিই দ্বিতীয় দিনের শেষে ৬৪ রানে এগিয়ে দিল মহারাষ্ট্রকে। তবে বোধহয় বেশি দূর এগোতে পারবে না তারা। কারণ, ৯ উইকেট পড়ে গিয়েছে তাদের।
মঙ্গলবার ইডেনে দুই উইকেটে ২১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করে মহারাষ্ট্র। কিন্তু আগের দিনের রেশ বজায় রেখে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে বল করতে থাকেন বাংলার বোলাররা।
অঙ্কিত বাওনেকে মাত্র ৭ রানে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ কাইফ। এর পর শচীন ধাস ৭ রান করে আউট হন। হর্ষল কাটে-কে মাত্র ১ রানে এলবিডব্লিউ করেন কাইফ।
এক দিক দিয়ে পরপর উইকেট পড়লেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন সিদ্ধেশ বীর। কিন্তু শামির বোলিংয়ের সামনে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি তিনি। ৮০ বল খেলে ২৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মহারাষ্ট্রের ইনিংসে আরও ধস নামে। তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৬৪ রানে ৬। তখন মনে হচ্ছিল, দ্রুতই মহারাষ্ট্রকে শেষ করে দিয়ে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে তিন পয়েন্ট সুরক্ষিত করে ফেলবে বাংলা।
কিন্তু বাংলার সেই আশায় জল ঢেলে দেন তনয় সাঙ্ঘভি। লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। প্রথমে সৌরভ নাওয়ালে ২৮ রান করে তাঁকে সঙ্গ দেন। এরপর রাজবর্ধন হাঙ্গারগেকর করেন ২৪ রান।
দিনের শেষে ৫৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। মেরেছেন তিনটি চার ও একটি ছয়। বল হাতে তিন উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করলেন এই অলরাউন্ডার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন শেষ ব্যাটার প্রদীপ দাধে। ৫৯ বল খেলে ২২ রানে অপরাজিত তিনি।
তনয় ও প্রদীপের প্রতিরোধেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় মহারাষ্ট্র। প্রথম ইনিংসে লিড পেয়ে গিয়েছে তারা। এখন বাংলার লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত বড় রান তুলে প্রতিপক্ষকে জয়ের জন্য বড় টার্গেট দিয়ে সব উইকেট ফেলে দেওয়া।
কোন রাস্তায় হাঁটতে চায় বাংলা, তা বোঝা যাবে বুধবার তৃতীয় দিনেই।