নিউজিল্যান্ড সফরের দলে জায়গা হয়নি মহম্মদ শামির। তার পরেই রঞ্জি ট্রফিতে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে বাংলার দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে দেখা গেল না অভিজ্ঞ পেসারকে। শামির অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনার মধ্যেই প্রথম ইনিংসে ১৮৪ রানে শেষ হয়ে গেল বাংলার ইনিংস। দিনের শেষে ১০১ রানে পিছিয়ে সার্ভিসেস।
রবিবার দিল্লির পালাম এ স্টেডিয়ামে রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ সি-র ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগাতে পারেননি বাংলার ব্যাটারেরা। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ অর্ধশতরান করলেও বড় রান করতে ব্যর্থ হন বাকিরা।
বাংলার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন অভিমন্যু। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার। সুদীপ ঘরামি করেন ৩৮ রান। সুমন্ত গুপ্তের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। কিন্তু তাঁদের কেউই ইনিংসকে বড় জায়গায় নিয়ে যেতে পারেননি। ফলে ৫৪ ওভারে ১৮৪ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার প্রথম ইনিংস।
সার্ভিসেসের হয়ে বল হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেন পুলকিত নারাং। ৬৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। অর্জুন শর্মা পান তিনটি উইকেট।
জবাবে চাপে সার্ভিসেস
১৮৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষে ৩৪ ওভারে ৮৩/৫ সার্ভিসেস। প্রথম ইনিংসে বাংলার থেকে এখনও ১০১ রানে পিছিয়ে তারা।
বাংলার হয়ে বল হাতে নজর কেড়েছেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক ও আমির গনি। দু’জনেই দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন। শাহবাজ আহমেদ পেয়েছেন একটি উইকেট। ফলে ব্যাটিংয়ে ধাক্কা খেলেও ম্যাচে ফেরার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলা।
কেন খেলছেন না শামি?
এই ম্যাচে শামির না খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ভারতীয় দলের কোনও ফরম্যাটেই জায়গা হয়নি তাঁর। তার পরেই বাংলার হয়ে দ্বিতীয় রঞ্জি ম্যাচে অনুপস্থিত অভিজ্ঞ পেসার।
বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লর বক্তব্য অনুযায়ী, শামির অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেও তাঁর ফিটনেসের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শামি ঠিক কী কারণে খেলছেন না, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। শোনা গিয়েছে, দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও শেষ পর্যন্ত নিজেই এই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শামি।
শামির জায়গায় বাংলার প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাঁর ভাই মহম্মদ কাইফ। খেলছেন সূরজ সিন্ধু জয়সওয়ালও। ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে যাওয়ায় এই ম্যাচে নেই আকাশ দীপ ও মুকেশ কুমারও।
দিল্লির বিরুদ্ধে মরসুমের প্রথম ম্যাচে জয়ের পরে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে শুরুটা ভাল করতে পারল না বাংলা। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে কী ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দল, এখন সেটাই দেখার।
দিনের শেষে স্কোর:
বাংলা: ১৮৪ অলআউট (৫৪ ওভার)
সার্ভিসেস: ৮৩/৫ (৩৪ ওভার)
*প্রথম ইনিংসে এগিয়ে বাংলা, ১০১ রানে।