বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানকে (Shakib Al Hasan) ঘিরে ফের শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক বিতর্ক। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাগুরায় শাকিবের (Shakib Al Hasan) পৈতৃক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ইট ছোঁড়ে, ভাঙচুর চালায় এবং পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় কেউ আহত না হলেও এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এক তারকা ক্রিকেটারের (Shakib Al Hasan) বাড়িতে এ ভাবে হামলা চালানোর ঘটনার জেরে এ বার সেপ্টম্বরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের ওপরও প্রশ্নচিহ্ন পড়ে গেল। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে এই নিয়ে সম্প্রতি ধারাবাহিক আলোচনা চললেও ভারত সরকারের বিদেশ দপ্তরেই এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। কিন্তু এই ঘটনার পর ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাই শাকিবের (Shakib Al Hasan) বাড়িতে হামলার ঘটনার পর ফের এই সফরের সম্ভাবনা কমতে পারে বলে ওয়াককিবহাল মহলের ধারনা।
বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’ (The Daily Star) -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে যে, বুধবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ মাগুরা শহরের কেশব মোড় এলাকায় শাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুষ্কৃতীরা বাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরানোর চেষ্টা চালায়। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। পুলিশ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
এই হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বুধবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। সেই অনুষ্ঠানে শাকিবও (Shakib Al Hasan) অনলাইনে যোগ দেন। সেখানেই হাসিনা (Sheikh Hasina) ঘোষণা করেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং গ্রেপ্তারের আশঙ্কা সত্ত্বেও তিনি আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের (Awami League) উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।
শাকিবের (Shakib Al Hasan) রাজনৈতিক পরিচয়ও দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৪-এর সাধারণ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের (Awami League) প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি তদন্তও চলছে।
বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ মন্ত্রক শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) এই ভার্চুয়াল বৈঠকের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এই ধরনের কর্মসূচি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, হাসিনাকে (Sheikh Hasina)প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধে এখনও সাড়া দেয়নি ভারত।
আরও পড়ুন: বাটলারের ভবিষ্যদ্বাণী! ‘আমার রেকর্ড ভাঙবে ভারতেরই এক বিস্ময় বালক’
আওয়ামী লীগ (Awami League) দাবি করে, হাসিনার (Sheikh Hasina) সংবাদ সম্মেলনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রকাশ্যে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলিকে হুমকি দিয়েছিল। তাদের অভিযোগ, ওই সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কোনও খবর বা প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
এখনো যদি ভারতবিরোধী হিসেবে পরিচিত এই রাজনৈতিক দলগুলির এতটাই শক্তি থাকে এবং তারা যদি দেশের সংবাদমাধ্যমকে এ ভাবে হুমকি দিতে পারে এবং দেশের কোনো তারকা ক্রিকেটারের বাড়িতে হামলা চালাতে পারে, তা হলে সে দেশে ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা কতটা থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে বোর্ডের অন্দরমহলে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ দপ্তরও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। যদি সত্যিই ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয়ের ছিটেফোঁটা অবকাশও থাকে, তা হলে এই প্রস্তাবিত সফর ফের বাতিল হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
দেখুন: শাকিবের বাড়িতে হামলার অভিযোগ
এখন দেখার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। এই মাসের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। বাংলাদেশ বোর্ডের প্রধান তামিম ইকবাল তাঁর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এসে সম্প্রতি ভারতীয় বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করে গিয়েছেন। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার সঙ্গে আপোষ করে কিছুতেই সে দেশে দল পাঠানো উচিত হবে না বলে মনে করে ওয়াকিবহাল মহল।