আইপিএল ক্রিকেটে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে শনিবার রানের বন্যা বয়ে গেল। প্রথমে দিল্লি খেলতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২৬৪ রান করে। আর একাধিক নজির গড়ে শতরান করলেন দিল্লির কে এল রাহুল। অবশ্য রাহুলের এই শতরান কোনও মর্যাদা পেল না। দিনের শেষে পাঞ্জাব খেলতে নেমে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখাল। প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরণ সিংয়ের দুর্ধর্ষ ব্যাটিং সবকিছু ম্লান করে দিল। শ্রেয়স আইয়ারের পাঞ্জাব কিংস ৪ উইকেটে ২৬৫ রান করে ৬ উইকেটে বাজিমাত করল। নিঃসন্দেহে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দিল্লির ২৬৪ রান তাড়া করা খুব সহজ ছিল না। অবশ্য পাঞ্জাব এর আগেও এই ধরনের লড়াই করে সবার নজর কেড়ে নিয়েছিল। ২০২৪ সালে ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতার ২৬১ রানকে তাড়া করে ম্যাচ জিতে গিয়েছিল। এতদিন আইপিএল ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ২৬১ রান ছিল। এদিন তা টপকে গেল। দিল্লির ক্রিকেটার করুণ নায়ার দু’টি ক্যাচ ফেলে দিলে হয়তো পাঞ্জাব এই জায়গায় পৌঁছতে পারত না।
পাঞ্জাবের দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভ সিমরন সিংয়ের আগ্রাসী খেলা দর্শকদের মাতিয়ে রেখে দিয়েছিল। এমনকি পাঞ্জাব দলের জয় আসে ছক্কার মধ্যে দিয়ে। খেলার দ্বিতীয় ওভারেই মুকেশ কুমার ২১ রান দেন। তিনি দু’টি ছক্কা ও একটি চার হজম করেছিলেন। আর ষষ্ঠ ওভারে মুকেশের ছ’টি বলেই ছ’টি ছক্কা মারেন প্রভসিমরণ। পাওয়ার প্লেতে ১১৬ রান তুলে পাঞ্জাব কিংস দল সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। এমনকি আইপিএল ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ রান পাওয়ার প্লেতে। এই খেলা দেখে খুব সহজেই বোঝা গিয়েছিল, উইকেটের চরিত্রই নেই। বোলাররা কিছুই করতে পারবেন না। যতই ম্যাচ গড়িয়েছে, ততই পাঞ্জাবের দাপট দেখতে পাওয়া গিয়েছে। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ও নেহাল ওয়াধেরা যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, ততক্ষণ ধীর গতিতে তাঁরা খেলেন। কিছুক্ষণ পরেই শ্রেয়স আইয়ার আবার ব্যাট চালিয়ে খেলতে থাকেন। ১৫ ওভারের শেষ বলে করুণ নায়ার ক্যাচ ফেলে দেন শ্রেয়সের। দু’বল আবার ক্যাচ দেন শ্রেয়স। তখন বল করছিলেন কুলদীপ যাদব। শেষ পর্যন্ত শ্রেয়স ৩৬ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন। শ্রেয়স ওই রান তোলার ফাঁকে তিনটি বাউন্ডারি ও সাতটি ছক্কা মারেন। প্রিয়াংশ আর্য ৪৩ রান করেন ১৭ বলে। তিনি দু’টি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ছক্কা মারেন। প্রভসিমরণ সিং ২৬ বলে ৭৬ রান করার ফাঁকে ন’টি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ছক্কা মারেন।
এর আগে দিল্লির খেলতে নেমে খেলতে নেমে কে এল রাহুল আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে খেলতে থাকেন। রাহুল ১৫২ রান করে সবার নজর কেড়ে নেন। তিনি শেষ পর্যন্ত নটআউট থাকেন। তিনি খেলেন ৬৭ বল। তার মধ্যে ১৬টি চার ও ন’টি ছক্কা রয়েছে। নীতীশ রানাও দুরন্ত ব্যাটিং করেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯১ রান। তিনি খেলেছেন ১১টি চার ও চারটি ছয়। জেভিয়ার বার্টলেটের ওভারে দু’টি ছক্কা ও চারটি চার মারেন নীতীশ। চাপের মুখে পড়ে আর্শদীপও রান দিতে থাকেন। তাঁর তৃতীয় ওভারে ২০ রান আসে।
১৫তম ওভারে মার্কো জানসেনের বলে চার মেরে রাহুল শতরান করার কৃতিত্ব দেখান। আইপিএল ক্রিকেটে এটা তাঁর ষষ্ঠ শতরান। আইপিএলে দ্রুততম শতরান করার কৃতিত্ব দেখালেন রাহুল।মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে ৫৬ বলে শতরান করেছিলেন রাহুল।