‘মেসির আবেগ সংক্রামক, দলের সবাই ওর আবেগ থেকে শক্তি পায়’- নাটকীয় জয়ের পর বললেন কোচ স্কালোনি

Photo: Representational Image

অবিশ্বাস্য জয়ের পর সম্প্রচারকারী সংস্থা তাঁকে ক্যামেরায় ধরার চেষ্টা করলেও তিনি এক লাইন বলার পর আর কিছু বলতে পারলেন না। বলতে বলতে চোখে জল এসে যায় তাঁর। লিওনেল মেসিদের কোচ লিওনেল স্কালোনি, ‘আর কিছু বলতে পারছি না, আজ আমাকে ছেড়ে দিন’, বলে ক্যামেরার সামনে থেকে চলে যান দলের ছেলেদের সামলাতে। অনেকক্ষণ পরে সব সামলে যখন সাংবাদিক বৈঠকে আসেন আর্জেন্টাইন কোচ, তখন তিনি স্বাভাবিক, গর্বিত এক কোচ।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যে রকম লড়াইয়ের মানসিকতা থাকে, তাঁর দলে সেরকমই মানসিকতা ভরপুর আছে বলে মনে করেন স্কালোনি। মঙ্গলবার সেরকমই মানসিকতার জয় দেখাল তাঁর দল, মনে করেন তিনি।মিশরের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর আর্জেন্টিনা কোচ জানিয়ে দেন, এই জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, বরং দলের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসেরও প্রমাণ। আটলান্টায় ০-২ পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ আটে পৌঁছনোর পর সাংবাদিকদের এমনই বললেন আর্জেন্টিনার কোচ।

স্কালোনির মতে, সমর্থকদের অযথা উৎকণ্ঠায় ফেলেছে তাঁর দল। তবে সেই উদ্বেগের মাঝেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন এমন একটি দলের পরিচয়, যারা কোনও পরিস্থিতিতেই হার মানতে শেখেনি। ম্যাচের পর স্কালোনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সমর্থকদের অযথা দুশ্চিন্তায় ফেলেছি। কিন্তু এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না। আজ সেটাই আবার প্রমাণ করেছে। এ শুধু এক জয় নয়, এটাই আমাদের পরিচয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আমরা লড়াই চালিয়ে যাই। আমরা কখনও সহজে হার মেনে নিই না।’


এ দিন আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশর ১৫ মিনিটের মাথায় ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায়। এর পর দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে মোস্তাফা জিকো গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত এই ব্যবধানেই এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো কোণঠাসা করে রেখে ১৩ মিনিটের মধ্যে পরপর তিনটি গোল করে মিশরের হাতের মুঠোর মধ্যে থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।

ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও সংযুক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটান।
স্কালোনির মতে, এই ধরনের ম্যাচই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য তুলে ধরে। তাঁর কথায়, ‘ফুটবল শুধু কৌশল আর পরিকল্পনা নয়। এটা আবেগ, আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার পরীক্ষাও।’ মেসির প্রসঙ্গ টেনে স্কালোনি বলেন, ‘লিওকে (মেসি) দেখে বোঝা যায়, ও এখনও এই খেলাটাকে কতটা ভালোবাসে। পেনাল্টি মিস করার পরেও ও আক্রমণে সতীর্থদের কাছে সমানে বল চেয়েছে গোল করবে বলে। ওর আবেগ সংক্রামক। দলের সবাই ওর আবেগ থেকে শক্তি পায়।’

কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচের তুলনায় দল অনেক উন্নতি করেছে বলেও মনে করেন আর্জেন্টিনা কোচ। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক ভালো খেলেছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, আমরা কখনও আত্মবিশ্বাস হারাইনি।’শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আর্জেন্টিনা শিবিরে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে। কয়েক মিনিট আগেও যে প্রত্যাবর্তন প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল, সেই অবিশ্বাস্য জয়ের পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কোচ এবং অধিনায়ক।

স্কালোনির মতে, এমন মুহূর্তই বুঝিয়ে দেয় কেন প্রাক্তন ফুটবলারদের অনেকেই পরে কোচিং পেশা বেছে নেন।তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। কখনও কখনও চোখের জল বেরিয়ে আসে,’ স্কালোনি বলেন। ‘ড্রেসিংরুমেও আমার চোখে জল এসেছিল। ছেলেরা তো আমাকে ‘ক্রাই বেবি’ বলেও ডাকে, কিন্তু তাতে আমার কিছু যায়-আসে না।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মতো যারা ২০ বছর ফুটবল খেলেছি, তাদের জন্য আজ আবার এমন অনুভূতি ফিরে পাওয়া অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয়, যে সব কোচ আগে ফুটবল খেলেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই এই ধরনের দিনের জন্য, এই আবেগ আর অ্যাড্রিনালিনের টানেই কোচিংয়ে আসেন।’

আটলান্টায় এই নাটকীয় জয় আর্জেন্টিনার খেতাব ধরে রাখার অভিযানে দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর স্কালোনির বিশ্বাস, এই দলের মানসিক দৃঢ়তাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলির অন্যতম হয়ে থাকবে। এই নাটকীয় জয়ের সুবাদে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যেখানে রবিবার তাদের প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড।