‘মানসিক ভাবে আটকে গিয়েছিলাম’, এশিয়ান গেমসে হারের পর মুখ খুললেন সাত্ত্বিক-চিরাগ

Satwik-Chirag Photo-SNS

শুরুটা হয়েছিল দাপটের সঙ্গে। কিন্তু ম্যাচ যত গড়ায়, ততই যেন খেই হারান সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি এবং চিরাগ শেট্টি। শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের পক্কাপন তেরারাতসাকুল ও পিয়ারাচাই সুকফুনের কাছে ১২-২১, ২১-১৯, ২১-১৪ হেরে এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ডাবলসের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হল গত বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় জুটিকে। ম্যাচের পর নিজেদের ভুল এবং মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মুখ খুললেন সাত্ত্বিক-চিরাগ।

প্রথম গেমে অবশ্য কোনও সমস্যাই দেখা যায়নি। ২১-১২ জিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন সাত্ত্বিক-চিরাগ। কিন্তু দ্বিতীয় গেমে বদলে যায় ম্যাচের ছবি। থাই জুটি পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং ২১-১৯ জিতে ম্যাচে সমতা ফেরায়। তৃতীয় গেমেও সেই চাপ ধরে রেখে ২১-১৪ জিতে নেয় তারা। ফলে এক ঘণ্টা আট মিনিটের লড়াইয়ে বিদায় নেয় চতুর্থ বাছাই ভারতীয় জুটি।

হারের পরে সাত্ত্বিকের গলায় শোনা গেল হতাশা। তিনি বলেন, ‘ম্যাচটা বেশ খাপছাড়া ছিল। প্রথম গেমে আমরা খুব ভাল খেলেছিলাম। আমরা জানি, এই ধরনের পরিস্থিতি আসবেই। ম্যাচটা কঠিন হয়ে উঠবে, কারণ আমরা টানা টিম ইভেন্টে খেলেছি। আগের রাতেও ১২টা পর্যন্ত সেখানে ছিলাম, তার পরেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তাই সহজ হওয়ার কথা ছিল না। তবে আমরা প্রস্তুত ছিলাম’।


কোথায় উন্নতি প্রয়োজন? সাত্ত্বিকের উত্তর, ‘মানসিক জায়গাটায়। আমরা যখন মানসিক ভাবে চাঙ্গা থাকি, তখন আমাদের হারানো কঠিন। কিন্তু কোথাও গিয়ে আটকে গেলে আমরা প্রতিপক্ষকে সুযোগ দিয়ে ফেলি। এটা আমাদের শিখতে হবে। এখন ফিরে গিয়ে মানসিক দিকটা নিয়ে কাজ করতে হবে’।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপ ছিল কি? তা অবশ্য মানতে চাননি সাত্ত্বিক। তাঁর কথায়, ‘আমাদের উপর কোনও চাপ ছিল না। প্রতিদিন একই ম্যাচ, একই খেলোয়াড়। আসল বিষয় হল, একটা টুর্নামেন্টে নামার আগে মানসিক ভাবে কী ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিডব্লিউএফ ৭৫০ বা সুপার ১০০০-এও একই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খেলি। কিন্তু ম্যাচের আগে কী ভাবে নিজেকে তৈরি করছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ’।

প্রতিপক্ষকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন সাত্ত্বিক। তিনি বলেন, ‘ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা আমাদের উপর চাপ তৈরি করে গিয়েছে, বার বার সমস্যায় ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা সেটা সামলাতে পারিনি। দ্বিতীয় গেমের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। ওরা আমাদের চেয়ে একটু বেশি স্বচ্ছন্দে খেলেছে। সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে’।

চিরাগও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তাঁর কথায়, ‘আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি। শুরুটা ভাল হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গেমে আমরা ঠিক ভাবে খেলতে পারিনি। ওরা সেই সুযোগটাই নিয়েছে। আমরা জানতাম ওরা অনেক ক্রস খেলবে। আমাদের আরও একটু শান্ত থেকে, বুদ্ধি খাটিয়ে খেলতে হত। ওদের কৃতিত্ব দিতে হবে, কারণ তার পরে ওরা আমাদের আর ম্যাচে ফিরতেই দেয়নি’।

গত এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ডাবলসে সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন সাত্ত্বিক-চিরাগ। এ বার সেই সোনা ধরে রাখার অভিযান শুরু হওয়ার আগেই থেমে গেল। তবে সাত্ত্বিকের কথায়, এই হার থেকেই শিক্ষা নিতে চান তাঁরা। ‘এটা আমাদের জন্য অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। আমি এটাকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছি। বড় মঞ্চে খেলতে গেলে কী করতে হবে, এখন আমাদের সেটা খুঁজে বার করতে হবে,’ বলেন তিনি।

ভারতের আরো পদক

শুক্রবার ছিল ভারতের পদকের দিন। সকালে সোনা ও রুপোর পর এ দিন সন্ধ্যায় মহিলাদের শট পুটে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন মনপ্রীত কৌর। অন্য দিকে, অনাহত সিং স্কোয়াশের সেমিফাইনালে উঠেছেন।

এর পর বারানিকা এলাঙ্গোভান মহিলাদের পোল ভল্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস তৈরি করেন। শুক্রবার আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে এই পদক জিতে তিনি এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে মহিলাদের পোল ভল্টে ভারতের প্রথম পদকজয়ী হন।

অন্য দিকে, পুরুষদের ১০,০০০ মিটারে গুলভীর সিং তাঁর এশিয়ান গেমসের পদকের রং বদলে ফেলেন। ২৮ মিনিট ২৯.৩৮ সেকেন্ড সময় করে রুপোর পদক জেতেন তিনি। টেবল টেনিসের মিক্সড ডাবলসে ব্রোঞ্জ জেতেন দিয়া চিতালে ও মানশ শাহ। শুক্রবার পর্যন্ত পদক তালিকায় ভারতের পদক সংখ্যা ২৩। এর মধ্যে দুটি সোনা, ন’টি রুপো ও ১২টি ব্রোঞ্জ।