‘এমন মানুষও হয়!’ বাদ পড়ার খবরে সঞ্জুর সেই প্রতিক্রিয়া অবাক করেছিল সূর্যকে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়া তো দূরের কথা, প্রথম কয়েকটি ম্যাচে একাদশেও জায়গা হয়নি সঞ্জু স্যামসনের। অথচ শেষ পর্যন্ত সেই সঞ্জুই হয়ে উঠেছিলেন ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক। শুধু তাই নয়, জিতেছিলেন প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও। আর সেই কঠিন সময়ে সঞ্জুর মানসিকতা কী রকম ছিল, তা এ বার প্রকাশ্যে আনলেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।

বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সঞ্জুর ব্যাটে রান ছিল না। সেই কারণেই তাঁকে সরিয়ে ইশান কিষানকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। অধিনায়ক হিসাবে সেই সিদ্ধান্ত সঞ্জুকে জানানোই ছিল সূর্যের কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজ।

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সূর্য বললেন, ‘‘আমরা বাসে ছিলাম। আমি ওকে বলেছিলাম, পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে ব্যাপারটা কঠিন হতে চলেছে। তখন ও আমাকে শুধু একটা কথাই বলেছিল—‘বিশ্বকাপ জিততে তুমি যেটা ঠিক মনে করছ, সেটাই করো।’’


সঞ্জুর সেই প্রতিক্রিয়ায় অবাক হয়ে গিয়েছিলেন সূর্য। তাঁর কথায়, ‘‘ও বলেছিল, যখনই আমার প্রয়োজন হবে, ও তখনই আমার পাশে থাকবে। আর এমন ভাবে প্রস্তুতি নেবে যেন ও-ই খেলতে নামবে। ওর এই কথা শুনে আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গিয়েছিল। জীবনে এমন মানুষও হয়!’’

সঞ্জুর প্রতি আস্থা অবশ্য তার আগেই দেখিয়েছিলেন সূর্য। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে সঞ্জু খুব বেশি রান করতে পারেননি। সেই সময়েও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল সূর্যের। সঞ্জু জানতে চেয়েছিলেন, কী করলে তিনি নিজের জায়গা আরও পাকা করতে পারবেন।

সূর্য সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘ওটা আমার নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ, আমি জানতাম, সঞ্জু খুব ভাল মানুষ। ২০২৪ সালে আমরা শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলাম। ও সেখানে খুব বেশি রান করতে পারেনি। তার পরে ও আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কী করা উচিত। আমরা তখন অনন্তপুরে দলীপ ট্রফি খেলছিলাম। আমি ওকে বলেছিলাম, ওর উপর আমার বিশ্বাস আছে। কোচও ওর উপর আস্থা রেখেছেন।’’

শুধু কথায় নয়, সঞ্জুকে খেলানোর ব্যাপারেও তখন বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সূর্য। তিনি বলেন, ‘‘আমি ওকে বলেছিলাম, পরের সাতটি ম্যাচে ও খেলবে। এমনকি পর পর সাতটি ম্যাচে শূন্য রান করলেও অষ্টম ম্যাচেও ও খেলবে।’’

বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে ফের ভারতের একাদশে ঢোকেন সঞ্জু। তার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করে ভারতকে জেতান। তার পর সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে করেন পর পর ৮৯ রান। দু’টি ইনিংসই অপরাজিত। শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতেই ওঠে ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’-এর পুরস্কার।

সঞ্জুর এই প্রত্যাবর্তনের পিছনে যে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা বড় ভূমিকা নিয়েছিল, তা এখন পরিষ্কার।